মাছের মুড়ো খেলে চোখের জ্যোতি বাড়ে?

কী বলছেন চিকিৎসকরা?  

অনুসূয়া হালদার, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ অনেকের মধ্যেই একটা ধারণা রয়েছে যে মাছের মুড়ো খেলে নাকি চোখের জ্যোতি বাড়ে। এটা ঠিক না ভুল , কী বলছেন চিকিৎসকরা?  মাছ কি শুধুই চোখের জন্য উপকারী,  নাকি সারা শরীরের জন্যই ? ইলিশ-পমফ্রেট-লটে সহ নানা নোনা জলের মাছ নাকি রুই-কাতলা-পাবদার মতো মিষ্টি জলের মাছ?  কোনটা বেশি উপকারী? বাঙালিদের নাকি স্মৃতি শক্তি ও বুদ্ধি তীক্ষ্ম হয়। এর কারণ হিসাবে অনেকে মনে করেন বাঙালিরা নাকি মাছ খায়। কিন্তু এটা কোনও কথার কথা নয়। রয়েছে বিজ্ঞানসম্মত দিকও। প্রতিনিয়ত মাছ খেলে বাড়তে পারে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা। এর মধ্যে রয়েছে এমন কিছু পুষ্টিগুণ, যা আমাদের মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত উপকারী। আচ্ছা মাছের মধ্যে যে যে পুষ্টিগুণ রয়েছে, তা কি শুধু মস্তিষ্কের জন্য উপকারী, নাকি আরও পুরো শরীরের জন্য।

মাছের মধ্যে যে পুষ্টিগুণ রয়েছে. তা মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যক্ষমতাকে আরও বহুগুণে উন্নত করতে পারে। মাছের মধ্যে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড। এছাড়াও থাকে ইপিএ ও ডিএইচএ। পুকুর, খাল, নদীর মাছে বেশি পরিমাণে দেখতে পাওয়া যায় ইপিএ ও ডিএইচএ। গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা যখন মাছ খাচ্ছি, তখন মাছের মধ্যে থাকা ওমেগা থ্রি শরীরে প্রবেশ করছে। সেই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ব্রেনের বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে। মাছের মধ্যে থাকা অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি প্রপারটি ব্রেনের মধ্যে কোনও রকম ইনফ্লামেশন হতে দেয় না। ব্রেনের মধ্যে থাকা নিউরোট্রান্সমিটারকে উন্নত করতে সাহায্য করে। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ব্রেনে ব্লাড সার্কুলেশন লেভেলকে স্বাভাবিক রাখে। তার  ফলে ব্লাডের মধ্যে দিয়ে অক্সিজেন ও পুষ্টিগুণ সঠিকভাবে ব্রেন পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। গর্ভবতী কোনও মহিলা প্রতিদিন মাছকে খাদ্যতালিকায় রাখলে, তাঁর পাশাপাশি সন্তানেরও ব্রেনের কার্যক্ষমতা উন্নত হয়। পড়ুয়াদের মধ্যে নতুন জিনিস শেখার আগ্রহ জন্মায় মাছের মধ্যে থাকা ওমেদা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থেকে।

প্রতিদিন মাছ খেলে হার্ট হেলথ বৃদ্ধি পায়। ওমেগা থ্রি শরীরের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দেয়। অপরদিকে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড সারা শরীরে ব্লাড সার্কুলেশন ব্যাল্যান্স করে। হার্টের পেশিগুলির সংকোচন মাত্রাকে বৃদ্ধি করে। যার ফলে হৃদস্পন্দন নিয়মিত হয়। প্রতিদিন মাছ খেতে পারলে, শরীরে ইনফ্লামেশন কম করতে সাহায্য হতে পারে। যার ফলে শরীরে ক্রনিং ইনফ্লামেটরি রোগ সহজে হতে পারে না। ইনফ্লামেটরি রোগের মধ্যে রয়েছে আর্থারাইটিস, অটোইমিউন ডিসঅর্ডার, টাইপ ১ ডায়াবেটিস,  ক্রোন ডিজিস। মাছের মধ্যে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড লিভারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্যান্সার থেকে রক্ষা করতেও পারে মাছের মধ্যে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড।

এতো গেল মাছ খেলে কী হয়। অনেকের মধ্যেই একটা ধারণা রয়েছে যে মাছের মুড়ো খেলে নাকি চোখের জ্যোতি বাড়ে। এটা ঠিক না ভুল , কী বলছেন চিকিৎসকরা। মাছের মুড়ো চিবিয়ে খেলে চোখের জ্যোতি বাড়ে বা স্মৃতিশক্তি বাড়ে, এমন কথা অনেক প্রাচীন-প্রাচীনারা এখনও বলেন বটে। তবে এসব কথার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মাছ সবসময়েই আমাদের দেহের পক্ষে অতি প্রয়োজনীয় একটি প্রোটিন প্রধান খাদ্য। শতকরা ১৫-২৫ ভাগ প্রোটিন থাকে মাছে, ফ্যাট-কোলেস্টেরল থাকে সামান্য, থাকে প্রচুর ক্যালশিয়াম- ফসফরাস সহ নানা খনিজ পদার্থ এবং অবশ্যই ভিটামিন। এদের মধ্যে প্রত্যেকটিই দেহের জন্য অতি প্রয়োজনীয়, আলাদা করে চোখের জন্য নয়। চোখ তো দেহেরই অঙ্গ। মাছের মুড়োতে এমন কিছু স্পেশাল আইটেম থাকে, যা স্পেশালি চোখকে সুরক্ষা দেয়। মাছ সহজপাচ্য বলে রোগীদের আদর্শ খাদ্য। মাছে ভেজাল মেশানোর সুযোগও কম। ছোট মাছ কাঁটাসুদ্ধ চিবিয়ে খাওয়া যায় বলে বেশি পুষ্টিকর, কারণ এই কাঁটা থেকেই আমরা বেশি করে ক্যালশিয়াম-ফসফরাস পাই। তাই বলে বড় মাছকে কম পুষ্টিকর ভাবা উচিত নয়। আবার ইলিশ-পমফ্রেট-লটে সহ নানা নোনা জলের মাছে ওমেগা ৩ জাতীয় পলি অ্যানস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড বা PUFA বেশি পরিমাণে থাকায়, রুই-কাতলা-পাবদার মতো মিষ্টি জলের মাছের চেয়ে এরা ঢের বেশি উপকারী। মাছের তেল ও ছালেই থাকে ফ্যাট, তাই অবশ্যই এগুলো খাবেন, যদি না আপনার ডাক্তারের বারণ থাকে। মাছের ফুলকোটা খাবেন না।