আর কতদিন যমুনায় থাকবেন ইউনুস ? নাকি এবার যমুনা ছাড়তে হবে তাঁকে ?

অনুসূয়া দাস, সাংবাদিক : তোমার হলো শুরু, আমার হলো সারা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতার হস্তান্তর বোঝানোর জন্য রবীন্দ্র সঙ্গীতের এই লাইনটা দারুনভাবে প্রযোজ্য। একজনের হাতে দেওয়া সমস্ত দায়-দায়িত্ব শেষ করেছেন ডঃ ইউনুস। এদিকে তারেক রহমানের মেয়াদ শুরু হয়েছে। মানে প্রাক্তনের হাত থেকে নিজের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন বর্তমান। যাওয়ার বেলায় প্রাক্তন জাতির উদ্দেশ্যে দিয়েছিলেন বিদায়ী-ভাষণ।
প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনুসের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়ে ১৭ই ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেছে বিএনপি। অন্যদিকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। পদ্মাপারে কান পাতলে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর কতদিন যমুনায় থাকবেন ইউনুস ? নাকি এবার যমুনা ছাড়তে হবে তাঁকে ? আর যমুনা ছাড়তে হয়, তাহলে কোথায় থাকবেন নোবেলজয়ী মহম্মদ ইউনুস? নাকি এবার বাংলাদেশও ছেড়ে চলে যাবেন ইউনুস?

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের অবসান হয়েছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা পুত্র। এর আগে পর্যন্ত সমস্ত প্রধানমন্ত্রীরা থাকতেন গণভবনে। হিসাব মতো প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তারেক রহমানেরও গণভবনে থাকা উচিত। কিন্তু গণভবন…..? তা তো এখন বাসযোগ্যই নেই। ২০২৪ সালের ৫ অগস্টের ঘটনা আজও জ্বলজ্বল করছে গোটা বিশ্বের কাছে। গণভবনে চলেছিল তাণ্ডবলীলা। লুঠপাট চালিয়েছিল উন্মত্ত জনতা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল একাধিক ছবি। কোথাও দেখা গিয়েছিল কেউ নিয়ে যাচ্ছেন হাসিনার শাড়ি, তো কেউ শুয়ে আছেন খাটে। আবার অনেকে খাবার খেতে খেতেও সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ছবি দিয়েছেন। যে ভবন থেকে একসময় দেশ পরিচালিত হতো, প্রধানমন্ত্রীর সেই বাসভবনে বাংলাদেশের পতাকা হাতে অনেকে গণভবনের মাথায় চড়ে বসেছিলেন। কেউ হাসিনার বাড়ির পুকুরে চড়ে বেড়ানো রাজহাঁস নিয়ে ছবি দিয়েছিল, তো কেউ নিয়ে গিয়েছিল পুকুরের মাছ। খরগোশ,বালিশ, তোষক থেকে টেলিভিশন। বাদ পড়েনি কিছুই। গণভবনের লনে ঘুরে ঘুরে তাণ্ডব চালিয়েছিল মানুষ। সুইমিং পুলে ছিল শুধুই ভিড়। বাড়ির ভিতরে থাকা সাজানো কাঠের নৌকা। তাও নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল। সরকার পতনের পরই বাংলাদেশের গণভবনে লুঠপাঠ ছিল এক বেনজির দৃশ্য।
তাহলে হিসাব মতো গণভবন এখন বাসযোগ্য নয়। তাই এখানে থাকতে পারবেন না বাংলাদেশের নয়া প্রধানমন্ত্রী খালেদা পুত্র তারেক রহমান। পরের অপশন হল যমুনা ভবন। মানে যেখানে এখন রয়েছেন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। হাসিনা সরকারের পতনের পর, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই সরকারি এই অতিথি ভবনকে নিজের বাসভবন বানিয়ে নিয়েছিলেন মহম্মদ ইউনূস। তাঁর স্ত্রী, মেয়েও থাকেন এখানে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই যমুনা ছেড়ে দেবেন মহম্মদ ইউনুস। এক সপ্তাহ পরে এই সরকারি বাসভবন ছেড়ে চলে যাবেন তিনি । তারপর থাকতে পারেন গুলশানে তাঁর নিজস্ব বাড়িতে। সেই বাড়িতে এখন কাজ চলছে বলেই যমুনা ছেড়ে চলে যেতে পারছেন না ইউনুস। এই সরকারি বাসভবন ছেড়ে গেলে, তা একমাসের মধ্যে তারেক রহমানের পছন্দসই বাসভবনে রূপান্তর করা হবে।
শুধু যমুনা নয়, বাংলাদেশও কি ছেড়ে চলে যাবেন মহম্মদ ইউনূস? এই জল্পনাও বেশ কয়েকদিন ধরে শোনা যাচ্ছিল। হাসিনা সরকারের পতনের আগেও বিদেশে ছিলেন মহম্মদ ইউনুস। এবারও কি দেশ ছেড়ে চলে যাবেন? না.. আপতত বাংলাদেশেই থাকবেন মহম্মদ ইউনূস। মার্চে জাপানে যাবেন কিছুদিনের জন্য।সেটা একান্ত ব্যক্তিগত এক কাজে। নিজের অফিস শুরু করবেন আগামী সপ্তাহ থেকে। থ্রি জিরো কনসেপ্ট নিয়ে নিয়মিত কাজ করবেন তিনি। তাঁর থ্রি জিরো কনসেপ্ট হলো, শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণের ধারণা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া। তবে তিনি প্রকাশ্যে এখনও কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে, অধ্যাপক ইউনুসের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেশ কিছু সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে আমন্ত্রণপত্র জমা রয়েছে। আপাতত মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে জাপান যাবেন। এর মধ্যে অন্য কোথাও যাচ্ছেন না। জাপানের সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে পাঁচ দিনব্যাপী ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি। সেখান থেকে দেশেই ফেরার পরিকল্পনা আছে অধ্যাপক ইউনুসের।