এসআইআর চালু হতেই শাহজাহানের ইটভাঁটা থেকে শ্রমিক গায়েব হয়ে যাচ্ছে। ইটভাঁটার শ্রমিক বস্তি খালি হয়ে গেছে।

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক: সেখ শাহজাহানকে মনে আছে। সন্দেশখালির বেতাজ বাদশা। একসময় যার বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হয়েছিল গোটা সন্দেশখালি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একের পর এক অভিযোগ উঠেছিল। রাজ্য রাজনীতি তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল। যদিও নিজের কুকীর্তির কারণে শাহজাহান এখন সংশোধনাগারে। বাদশা না থাকলে কী হলে সন্দেশখালিতে তো তার রাজত্ব রয়েছে। তবে শোনা যাচ্ছে শাহজাহানের রাজত্ব নাকি ফাঁকা হচ্ছে। ভাবছেন সে আবার কী। এসআইআর চালু হতেই শাহজাহানের ইটভাঁটা থেকে শ্রমিক গায়েব হয়ে যাচ্ছে। ইটভাঁটার শ্রমিক বস্তি খালি হয়ে গেছে।

সন্দেশখালি দু নম্বর ব্লকের ধামাখালি তে শেখ শাহজাহানের ভাটা রয়েছে সেই ভাটায় বহু শ্রমিক সেখানে কাজ করতেন। এমনকি শেখ শাহাজান সেই শ্রমিকদের সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ভাটার চত্বরে স্কুলও খুলেছিল। শাহজাহান জেলে গেলেও এতটুকুও আঁচ পড়েনি ইটভাটা ও শ্রমিক বস্তিতে। প্রতিনয়ত সেখানে কাজ চলত। কিন্তু বাধ সেধেছে এসআইআর। এ রাজ্যে এস আই আর শুরু হয়েছে চলতি মাসের ৪ তারিখ থেকে তারপর একের পর এক বস্তি ফাঁকা হতে দেখা গিয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। ঠিক তেমনি একটি ছবি ধরা পরল ধামাখালীর শেখ শাহাজানের ভাটায়। ২০১৯ সালে শেখ শাহজাহানের ভাটায় বহু শ্রমিক আবাসিক হিসেবে বসবাস করতেন তাদের সঙ্গে ছিল গোটা পরিবার সেই পরিবারের জন্য শেখ শাহাজান কংক্রিটের ঘর বানিয়ে দিয়েছিলেন ভাটার মধ্যে। হঠাৎ দেখা গেল সেই ঘর পুরোটাই ফাঁকা। কোথায় গেল তারা এই উত্তর জানা নেই কারোর। ভাটার মধ্যে গিয়ে দেখা গেল শ্রমিকদের ঘরের দরজায় লেখা রয়েছে পাঁচ বছরের নিচের শিশুদের বিভিন্ন ভ্যাকসিন পোলিও ডোজ দেওয়ার তারিখ। যা দেখে বোঝাই যাচ্ছে সেখানে কেউ বা কারা বসবাস করতেন। ভাটার মধ্যে রয়েছে শতাধিক ঘর সেই ঘরে ১২ মাসের জন্য বসবাস করতেন ওই ভাটার শ্রমিকরা । হঠাৎ কোথায় চলে গেল তারা? স্থানীয় মানুষজন ভয়েতে মুখ খুলতে চাইছেন না ক্যামেরা দেখেই ভয়ে গা ঢাকা দিচ্ছেন কেননা শেখ শাহাজানের ভাটা বলে কথা।

শেখ শাহাজানের রাজত্ব চলাকালিন এই ভাটার মধ্যে হঠাৎই অচেনা মহিলাদের বস্ত্র বিতরণ ছোট ছোট শিশুদের লজের বিতরণ সহ একটি স্কুলের উদ্বোধন হয়। যে ঘরগুলি তৈরি করা হয়েছিল সেখানে শ্রমিকরা ১২ মাসই থাকতো। কিন্তু ভাঁটার কাজ চলে চার থেকে পাঁচ মাস। শ্রমিকরা এই চার পাঁচ মাস কাজচলাকালীন নয় এখানে তারা পাকাপাকিভাবে থাকতো। শ্রমিকদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য সেখানে স্কুল এবং থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল’। এতকিছু যাদের জন্য তাহলে তারা কোথায় গেল। রাতারাতি গায়েব হয়ে গেল কেন। কোথা থেকে এসেছিল তারা। তবে কি সবাই বাংলাদেশি। অবৈধভাবে এখানে থাকতো। ভাটার মধ্যে শেখ নিজাম নামে একজনের দেখে মেলে। তিনি বলেন ভাটা বন্ধ যার কারণে শ্রমিকরা চলে গেছে। দু বছর আগে। তাহলে আবাসিকের ঘরের দরজায় বাচ্চাদের পোলিও ডোজ দেওয়ার তারিখ কি করে লেখা থাকলো!তাও আবার কয়েকদিন আগের ঘটনা। তিনি পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এলাকারই এক শিশু ওই স্কুলে পড়তো বলে সে জানায় তার বেশি কিছু সে বলতে চায় না।
গত কয়েকদিন ধরে স্বরূপ নগরের হাকিমপুর সীমান্তে দেখা যাচ্ছে বহু অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সেখানে ভিড় জমিয়েছে। কেউ বলছে দু’বছর আগে’ কেউ বলছে পাঁচ বছর আগে” কেউ বলছে ১০ বছর আগে”আবার কেউ বলছে ২০ বছর আগে তারা ভারতে প্রবেশ করেছে। আবার তারা দাবিও করছে এই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তারা ইটভাটা,রাজমিস্ত্রি সহ বিভিন্ন ছোট ছোট কাজে যুক্ত ছিলেন। তাহলে সন্দেশখালীর ওই ভাটার শ্রমিকরা এই সুযোগে নিজের দেশে ফিরে যাচ্ছে, না এই রাজ্যের কোথাও আত্মগোপন করে রয়েছে।