দুর্গাপুজো দুর্নীতি: ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডি, আতসকাচে ‘মাস আর্ট’

দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িতে ইডির তল্লাশির পর তদন্তে উঠে আসছে আরও এক যোগসূত্রের কথা। অভিযোগ, দেশ-বিদেশের পর্যটকদের নিয়ে ‘মাস আর্ট’-এর ব্যবস্থাপনায় যে বাসে কলকাতার বাছাই করা পুজোমণ্ডপ ঘোরানো হত, সেই পরিক্রমার একটি গন্তব্য ছিল ইন্দ্রনীলের বাড়ির নীচে থাকা ‘মায়া আর্ট গ্যালারি’। বিষয়টি সত্যি কি না, গ্যালারির সঙ্গে ওই পুজো-পরিক্রমার আর্থিক বা সাংগঠনিক সম্পর্ক ছিল কি না—এখন তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক

মঙ্গলবার কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডির দাবি, ‘মাস আর্ট’ নামে পরিচিত মহনির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটির দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো ঘিরে বিপুল অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থের ব্যবহার নিয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত হচ্ছে পিএমএলএ-র আওতায়।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে পুজোর বিশেষ প্রিভিউ এবং পর্যটন-পরিক্রমা। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, প্রিভিউ শো থেকে কত টাকা উঠেছিল, সেই অর্থ কোথায় গিয়েছিল, সংস্থাটির প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল এবং কোনও ব্যক্তি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সুবিধা হয়েছিল কি না। ইডি সূত্রে আরও দাবি, ‘মাস আর্ট’ নিজেকে ইউনেস্কো-সমর্থিত সংস্থা হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিল এবং সেই অর্থের একটি অংশ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।

এই প্রেক্ষিতেই মায়া আর্ট গ্যালারির প্রসঙ্গটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পর্যটকদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়ে থাকলে, কেন তাঁদের সেই গ্যালারিতে নিয়ে যাওয়া হত, সেখানে শিল্পসামগ্রী বিক্রি থেকে কারা লাভবান হতেন এবং ‘মাস আর্ট’-এর সঙ্গে গ্যালারিটির কোনও আর্থিক লেনদেন ছিল কি না—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।

অন্য দিকে, অভিযোগে প্রিভিউ পাস বিক্রি এবং ইউনেস্কোর নাম ব্যবহারের বিষয়টিও রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশেষ প্রিভিউয়ের জন্য উচ্চমূল্যের পাস বিক্রি করা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন; আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ইন্দ্রনীল সেনও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ফলে আপাতত তদন্তের নজরে মূলত ‘মানি ট্রেইল’। প্রিভিউ শো থেকে সংগৃহীত টাকা কোথা থেকে এল, কোথায় গেল এবং সেই অর্থের সঙ্গে মায়া আর্ট গ্যালারি বা অন্য কোনও ব্যক্তিগত ব্যবসার যোগ ছিল কি না—ইডির তদন্তে সেই উত্তরই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।