মহালয়ায় বিষাদের সুরে ঐতিহ্য মেনে একদিনেই সম্পন্ন দুর্গাপুজো

ঐতিহ্য মেনে একদিনেই সম্পন্ন দুর্গাপুজো হয় আসানসোলের বার্ণপুরে। দামোদর নদের তীরে অবস্থিত ধেনুয়া গ্রামের কালিকৃষ্ণ যোগাশ্রমে এই রীতি মেনেই হয়ে গেল দুর্গাপুজো।

ছোটন সেনগুপ্ত, নিজস্ব সংবাদদাতা

আজ মহালয়া। পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে সূচনা হল দেবীপক্ষের। চারদিকে যখন দুর্গাপুজোকে ঘিরে আনন্দ, উৎসাহ ও উন্মাদনায় মেতে উঠেছেন রাজ্যবাসী, ঠিক তখনই পশ্চিম বর্ধমান জেলার আসানসোলের বার্ণপুরের ধেনুয়া গ্রামে দেখা গেল এক অন্য ছবি। এখানে মহালয়ার দিনেই সম্পন্ন হয় একদিনের দুর্গাপুজো। আর সেই পুজো ঘিরেই যেন আনন্দের মাঝে দেখা গেল একরাশ বিষাদের সুর।

আসানসোলের বার্ণপুরে দামোদর নদের তীরে অবস্থিত ধেনুয়া গ্রামের কালিকৃষ্ণ যোগাশ্রম।ঐতিহ্য মেনে প্রতি বছর মহালয়ার দিন এই আশ্রমে অনুষ্ঠিত হয় একদিনের দুর্গাপুজো।শনিবার ভোর থেকেই শুরু হয় পুজোর আয়োজন। সকালে নবপত্রিকা স্নানের মধ্য দিয়ে সপ্তমীর পুজো শুরু হয়। এরপর একই দিনে সম্পন্ন হয় ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমীর সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান। এই ব্যতিক্রমী পুজো দেখতে দূরদূরান্ত থেকে বহু ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম হয় ধেনুয়া গ্রামের কালিকৃষ্ণ যোগাশ্রমে।

আশ্রমের সেবাইত জানিয়েছেন ১৯৭৯ সালে এই একদিনের দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। তেজানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ মায়ের স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজো শুরু করেছিলেন। সেই থেকে আজও নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে চলে আসছে এই বিশেষ পুজোর ঐতিহ্য।

এই পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল, এখানে প্রচলিত দুর্গাপ্রতিমার সঙ্গে গণেশ, কার্তিক, লক্ষ্মী ও সরস্বতী থাকেন না। পরিবর্তে মা দুর্গার সঙ্গে থাকেন তাঁর দুই সখী জয়া ও বিজয়া। একদিনের মধ্যেই সমস্ত পুজোর আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি পুজো শেষে নবপত্রিকা বিসর্জন দেওয়া হয়। তবে মা দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয় না। প্রতিমাটি আশ্রমেই রেখে দেওয়া হয়।দুর্গাপুজোর প্রচলিত নিয়মে দশমীর দিন যখন অন্যান্য জায়গায় প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়, তখনই এই আশ্রমেও মা দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন করা হয়।

মহালয়ার পুণ্যলগ্নে একদিকে যখন দেবীপক্ষের সূচনায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ধেনুয়ার কালিকৃষ্ণ যোগাশ্রমে একদিনের দুর্গাপুজো যেন এক ভিন্ন অনুভূতির জন্ম দেয়। ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও ভক্তির মেলবন্ধনে এই পুজো আজও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। মা দুর্গার আরাধনায় অংশ নিতে প্রতি বছর বহু মানুষ ভিড় জমান এই আশ্রমে।