সুপার কাপের সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল

গোয়ার স্টেডিয়ামেই পরপর দুটি সেমিফাইনাল। ৭ ডিসেম্বর ফাইনাল ম্যাচ।

ঋক পুরকায়স্থ, সাংবাদিক: সুপার কাপের সেমিফাইনালে ইস্টবেঙ্গল। তবে এই সেমিফাইনালে যাওয়ার জন্য ড্র করাই যথেষ্ট ছিল ইস্ট বেঙ্গলের জন্য। বিপক্ষে ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান। কিন্তু ড্র হওয়ার পরও পয়েন্টের ভিত্তিতে সেমিফাইনালে প্রবেশ করে ইস্ট বেঙ্গল। এরপরই চিন্তায় ছিল লাল হলুদ সমর্থকরা। সেমিফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে।

আগামী ৪ ডিসেম্বর গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে পঞ্জাবের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল খেলতে নামবে ইস্টবেঙ্গল। গোয়ার এই স্টেডিয়ামেই পরপর দুটি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এবং ৭ ডিসেম্বর ফাইনাল ম্যাচ। লাল হলুদ কর্তারা এইভাবে সেমিফাইনাল করানোতে আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।

চলতি মরশুমে ইস্টবেঙ্গল কলকাতা লীগ ছাড়া আর কিছুই পায়নি। তাও বিনো জর্জ কোচ থাকাকালীন। অস্কার ব্রুঁজোর সময়ে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ, ডুরান্ড কাপ ও আইএফএ শিল্ড হাতছাড়া হয়েছে ইস্টবেঙ্গলের। এর আগের মরশুমে ইস্টবেঙ্গল সুপার কাপ জিতেছিল। কিন্তু সেটা কুয়াদরাতের সময়কালে। ব্রুজোনের সময়কালে এই ট্রফিটি জেতা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে চাপ আরও অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে অস্কারের উপর।

এই সময় সুপার কাপকেই পাখির চোখ করা উচিৎ কোচের এমনটাই মনে করছেন মেহতাব। জিতলে হিরো আর হারলে জিরো। খেলোয়াড়রা খেলবেই কিন্তু হেরে গেলে কোচকে আর কেউ মনে রাখে না। ফলে চাপ অনেকটাই বেশি অস্কারের উপর।

বিভিন্ন সময় দলের অভ্যন্তরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে অস্কারকে নিয়ে। ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক কোচ সন্দীপ নন্দী অভিযোগ করেছিলেন যে অস্কার ব্রুজোন তাঁকে খেলোয়াড়দের সামনে অপমান করেছেন। আইএফএ শিল্ডের ফাইনামে ট্রাইব্রেকারের আগে গোলকিপার প্রভসুখন সিং গিলকে বসিয়ে দেবজিৎ মজুমদারকে নামানোর সিদ্ধান্তে সন্দীপ নন্দীর সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি। সন্দীপ নন্দীর মতে এই সিদ্ধান্ত ভুল ছিল এবং এরফলেই দেবজিৎ চাপে পড়ে গিয়েছিলেন। এই ঘটনার পরেই সন্দীপ নন্দী পদত্যাগ করেন।

কিন্তু সুপার কাপের সেমিফাইনালের সময় ভেন্যু নিয়ে বিতর্ক হলেও। এখন কোচের পাখির চোখ ট্রফি। এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছেন না কোচ। দলের সমর্থকদের মধ্যে আবার উন্মাদনা বাড়ানোর এই সুযোগকে কি আদৌ কাজে লাগাতে পারবেন অস্কার ? নাকি পূর্ব অভিজ্ঞতার মতোই তীরে এসে তরী ডুববে ইস্টবেঙ্গলের? সেটা সময়ই বলবে।