জঘন্য হারের পর কার্যত পালিয়ে গেলেন প্যানাগিওটিস দিলেমপেরিস। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ম্যাচের নব্বই মিনিটের বাঁশি বেজেছে মাত্র। গ্যালারিতে ইস্টবেঙ্গলের জয়ধ্বনি। কিছুক্ষণ পর সেই আওয়াজ বা শব্দকে ছাপিয়ে গেল আরও একটি স্লোগান। মোহনবাগানের লজ্জাজনক হারের পর গ্যালারিতে উঠল ‘এটিকে’ স্লোগান। এটিকে মোহনবাগান থেকে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। গোয়ায় জুয়ান ফেরান্ডোর কোচিংয়ে আইএসএল জেতার পর সেদিনই এটিকে সরিয়ে দলের নাম মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট করার ঘোষণা করেছিলেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা। বিশ্রী হারের পর সবুজ মেরুনকে অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। এখানেই থামেনি। ম্যাচের পর মোহনবাগান টিম বাসকে ঘিরেও একই স্লোগান দেয় ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা।
জঘন্য হারের পর কার্যত পালিয়ে গেলেন প্যানাগিওটিস দিলেমপেরিস। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হননি। আন্তোনিও হাবাস এবং এডমুন্ড লালরিনডিকা সাংবাদিক সম্মেলন করেন। কিন্তু মোহনবাগানের কোচ আসেননি। কেন আসেননি সেই বিষয়ে সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি ক্লাবের পক্ষ থেকে। তবে সূত্রের খবর, কোচকে সাংবাদিক সম্মেলনে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নাকি ম্যানেজমেন্টের। আদৌ এই সিদ্ধান্ত কার, জানা নেই। হতে পারে প্যানোস প্রশ্নবানের মুখে পড়তে চাননি। আবার হতে পারে, সিদ্বান্ত ক্লাবের। এর সত্যতা জানা না গেলেও, প্যানোসকে কোচ করে আনার সিদ্ধান্তের জন্য প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের ম্যানেজমেন্টকে।
আন্তোনিও হাবাস লিগ শিল্ড জেতার পরও শরীরের অজুহাত দেখিয়ে তাঁকে বিদায় জানিয়ে আনা হয়েছিল হোসে মোলিনাকে। লিগ শিল্ড, আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয় মোহনবাগান। এরপর কোনও এক অজ্ঞাত কারণে মোলিনাকে মরশুমের মাঝে গুডবাই জানিয়ে আনা হয় আরেক হাই-প্রোফাইল কোচ সার্জিও লোবেরাকে। মরশুম শেষে তাঁকেও বিদায়। নিয়ে আসা হয় ভারতীয় ফুটবলে তেমন সাফল্য না পাওয়া প্যানোসকে। ফাইনালের আগে মুখে বড় কথা বললেও, মাঠে তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে লবডঙ্কা। ভুল দল গঠন। জঘন্য স্ট্র্যাটেজি। খারাপ ম্যাচ রিডিং।
হারের পর দায় নিজের কাঁধে নেওয়ার ক্ষমতাটুকুও নেই। উল্টে কী করলেন? ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলন এড়িয়ে সটান উঠে পড়লেন বাসে। গম্ভীর মুখ নিয়ে বাসের প্রথম সিটে বসে রইলেন। ডার্বি হারে অবশ্যই গ্রিক কোচের ভুল রয়েছে। তবে তার থেকেও বড় ভুল ম্যানেজমেন্টের। অতীতে বড় দলে কোচিং না করানো প্যানোসের কলকাতা ফুটবলের, মোহনবাগানের পালস বুঝতে বুঝতেই মরশুম শেষ হয়ে যাবে। তার আগে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ম্যানেজমেন্ট নিজেদের ভুল না শুধরে ফেলতে পারলে, গোটা মরশুমে ভুগতে হবে। ডুরান্ড ফাইনালই তার অশনি সঙ্কেত।