মাম্পি রায়, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ ভোটচুরি, মৃত মানুষের ভোটদান, ভুয়ো ভোটার নিয়ে আগেই সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী। এবার গণতন্ত্র হাইজ্যাক করা হয়েছে বলে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ দাগলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, গত ১০-১৫ বছর ধরে এমনটা চলে আসছে। রাহুল বলেন, গণতন্ত্র কেবল ভারতের জনগণই রক্ষা করতে পারেন। অন্য কেউ ভারতের গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে পারে না।

ভোট চুরি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে ফের দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করলেন রাহুল গান্ধী। কংগ্রেস সাংসদ বলেন, দেশের গণতন্ত্র ধ্বংসকারীদের রক্ষা করা বন্ধ করতে হবে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে। আমরা আপনাকে ১০০ শতাংশ বুলেটপ্রুফ প্রমাণ দিয়েছি। নির্বাচন কমিশনকে এক সপ্তাহের মধ্যে এই ফোন, ওটিপিগুলির তথ্য প্রকাশ করতে হবে। মহারাষ্ট্রের রাজুরায় ৬ হাজার ৮১৫ জন নির্দিষ্ট ভোটারের নাম যোগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তুললেন রাহুল গান্ধী। কর্নাটকের আলান্দে ভোট কেন্দ্রের উদাহরণ দিয়ে রাহুল বলেন, সেখানে ৬ হাজার ১৮ ভোটারের ভোট ডিলিট করা হয়েছে। হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশেও একইরকমভাবে ভোট বাদ দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রাহুল গান্ধী।

যদিও রাহুল গান্ধীর দাবিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোট অনলাইন ডিলিট করা যায় না বলে দাবি নির্বাচন কমিশনের।

সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে নিশানা করে রাহুল গান্ধী বলেন, দলিত এবং সংখ্যালঘুদের ভোট কেটে ফেলা হচ্ছে। এই দাবির সপক্ষে ১০০ শতাংশ প্রমাণ দিতে পারেন বলেও জোর গলায় বলেছেন রাহুল গান্ধী।

রাহুল গান্ধী আরও বলেন, আগামী দিনে ভোট চুরির সঙ্গে যুক্ত সবচেয়ে বড় তথ্য সামনে আনতে চলেছেন তিনি। সেই তথ্যকে হাইড্রোজেন বোমা হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন রাহুল গান্ধী।
বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে বলেন, রাহুল গান্ধী এই সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে ভারতের গণতন্ত্রকে দুর্বল করার ছক কষছেন। তিনি আরও বলেন, পিআইবি এবং ইডির কাছে আবেদন জানাচ্ছি, ২০০৪ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্যাম পিত্রোদা আমেরিকা থেকে কংগ্রেসকে চালাচ্ছে, ওনার পুরো ফান্ডিং, তাঁর বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ, রাহুল গান্ধীকে বিদেশ সফরে কার কার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়েছেন, সমস্ত কিছুর তদন্ত হওয়া উচিৎ। নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ, কংগ্রেস ১৯৬৭ সালে কমিউনিস্টদের সাহায্য নিয়ে তিরুপতি থেকে পশুপতিনাথ পর্যন্ত মাওবাদীদের তৈরি করেছিল এবার সোরোস, রকফেলার, ইউএসএইডের সঙ্গে মিলে দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে।

বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর আবার অভিযোগ তোলেন, রাহুল গান্ধী ভারতে বাংলাদেশ বা নেপালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছেন। অনুরাগ ঠাকুর বলেন, রাহুল গান্ধী যিনি ভোট চুরি নিয়ে হাইড্রোজেন বোমা ফাটাতে চেয়েছিলেন, তিনি শুধুমাত্র আতসবাজি ফাটিয়ে চলে গিয়েছেন। ইতিমধ্যে ৯০টা ভোটে হেরে গিয়েছেন রাহুল গান্ধী। রাহুলের হতাশা বেড়েই চলেছে। ভুলভাল অভিযোগ তোলাটা এখন রাহুল গান্ধীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ভিত্তিহীন সব অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে রাহুল গান্ধীকে। তবুও এধরণের অভিযোগ তুলছেন তিনি।

সবমিলিয়ে ভুয়ো ভোট, ভোট ডিলিটের মতো অভিযোগে তপ্ত জাতীয় রাজনীতি।