মুখ্যমন্ত্রীকে রুখতে সুপ্রিমকোর্টে জোড়া মামলা ইডির

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইডির কাছ থেকে ফাইল নিয়ে আসা নিয়ে জল গড়াল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। মামলায় যুক্ত করা হল সিপি ও রাজ্য পুলিশের ডিজিকে।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতাপুরনো কয়লা পাচার মামলায় আইপ্যাক কর্ণধারের বাড়ি ও অফিসে ইডির তল্লাশি ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক আরও গভীরে যাচ্ছে। তল্লাশির সময়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে পৌঁছনো এবং ইডির কাছ থেকে ফাইল নিয়ে আসা নিয়ে জল গড়াল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতে জোড়া মামলা দায়ের করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

ইডির আবেদনে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা, ডিসি প্রিয়ব্রত রায়-সহ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পক্ষভুক্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পাশাপাশি, আর একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআইকেও মামলার পার্টি করা হয়েছে।

দিল্লির পুরানো একটি কয়লা মামলায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের অফিসে তল্লাশি শুরু করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। খবর পেয়েই প্রতীক জৈনের বাড়িতে চলে যান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “ তৃণমূলের গোপন তথ্য এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করতেই ইডিকে দিয়ে এই অভিযান করাচ্ছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আমার আইটি দফতরেও অভিযান চালিয়েছে। দলের সব গোপন নথি এবং প্রার্থী তালিকা চুরি করতে ইডিকে দিয়ে হামলা করেছেন নটি, ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার।”

এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল এই যে, মুখ্যমন্ত্রী যখন লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে ঢুকেছিলেন, তখন তাঁর হাত খালি ছিল। পরে যখন তিনি সেখান থেকে বেরোন, তাঁর হাতে ছিল একটি সবুজ ফাইল। এই নিয়ে প্রশ্ন করায়, তৃণমূল সুপ্রিমোর বক্তব্য, “এই ফাইলগুলো আমার দলের। আমি নিয়ে যাচ্ছি।আমার দলের গোপন তথ্য জানার জন্য আইপ্যাকের অফিসে হানা দিয়েছে ওরা। এবার আমি যদি বিজেপি অফিসে হানা দিই ?”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, “ভোর ৬টা থেকে অপারেশন শুরু করেছে ইডি। অফিসে কেউ ছিল না। ল্যাপটপ, ফোনে যে সমস্ত ডেটা, ভোট কৌশল ছিল, এসআইআর নিয়ে মানুষকে সাহায্যের জন্য যেসব তথ্য রাখা ছিল, সেসবকিছু সকাল থেকে এসে হাতিয়ে নিয়েছে ইডি। আমি মনে করি এটা অপরাধ। আইপ্যাক অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের অথোরাইসড টিম। সব কাগজ লুঠ করে নেওয়া হয়েছে। আবার নতুন করে তৈরি করতে গেলে তো ভোট পেরিয়ে যাবে। আমরা রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দল, আমরা ইনকাম ট্যাক্স দিই। আমাদের অডিট হয়। ইডির প্রয়োজন হলে আইটির থেকেই কাগজ দেখতে চাইতে পারতো। বিজেপিকে তো নোটিস পাঠায় না !”