মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ইডি !

আইন হাতে তুলে নেওয়াকে রীতি বানিয়ে ফেলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা :   আইপ্যাক কর্তাপ্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে ইডির তল্লাশিকাণ্ড এবং সেখানে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ফাইল তুলে নিয়ে আসার ঘটনা ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। এই পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তদন্তপ্রক্রিয়ায় বাধাদানের অভিযোগ সহ একাধিক অভিযোগ তুলেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আইপ্যাক-কাণ্ডে সোমবার রাজ্যের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা দায়ের করেছে ইডি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে জোর করে ভিতরে ঢুকে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।

সুপ্রিমকোর্টে  জমা দেওয়া লিখিত বক্তব্যে ইডির অভিযোগ, “আইপ্যাকের অফিস প্রাঙ্গণে তারা ইডি কর্মকর্তার ল্যাপটপও নিয়ে নিয়েছে। ২ ঘণ্টা পর তা ফেরত দেওয়া হয়েছে। ল্যাপটপটি নিয়ে গিয়ে ২ ঘণ্টা নিজেদের হেফাজতে রাখাও চুরির সামিল।“

পঞ্চনামা সংক্রান্ত বিষয়ে বলা যায়, “পঞ্চনামা স্বাভাবিক নিয়মে নথিভুক্ত করতে দেওয়া হয়নি এবং পঞ্চনামা সঠিকভাবে নথিভুক্ত না করার জন্য প্রতিপক্ষ নং ২ থেকে ৫ কর্মকর্তা ও পঞ্চদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেয়। ফলে পঞ্চনামা সংক্রান্ত কার্যক্রম আপসকৃত/ব্যাহত হয়ে পড়ে।“

“আইন হাতে তুলে নেওয়াকে রীতি বানিয়ে ফেলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ‍্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।“  রাজীব কুমারে বাড়িতে সিবিআই অভিযানে বাধা দেওয়া থেকে অতীতে একাধিক ঘটনার উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে এমনই বিস্ফোরক মন্তব্য ইডির।

“পশ্চিমবঙ্গের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী, যখনই এমন কোনও অপরাধের তদন্ত করা হয় যা তার পছন্দ নয় বা যার ফলে তাঁর, তাঁর মন্ত্রীদের, তাঁর দলের কর্মীদের বা তাঁর সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর প্রমাণ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তখনই তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এবং রাজ্য পুলিশকে অপব্যবহার করার একটি রীতি তৈরি করে ফেলছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।“

১৯ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি।