মুম্বইয়ের পালি হিলের সবচেয়ে দামি এলাকায়, একটা বিলাসবহুল বাড়ি। চারপাশে কড়া নিরাপত্তা। হঠাৎ দেখা যায় ইডির গাড়ি ঢুকছে বিলাসবহুল বাড়ির ভেতরে। কী ঘটছে ভিতরে? কার বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ? কে সেই মানুষ, যার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হচ্ছে দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ, চেন্নাই, নয়ডার মত শহরে।

সূচনা পল্যে, সাংবাদিক: অনিল আম্বানি, রিলায়্যান্স গ্রুপে ফের ইডির বড়সড় অভিযান
হ্যাঁ, দেশের সবচেয়ে আলোচিত শিল্পপতিদের একজনের বিরুদ্ধে ইডি নেমে পড়েছে প্রায় ৩,০০০ কোটিরও বেশি টাকার অর্থ তছরূপের অভিযোগে। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট জানিয়েছে,
অনিল আম্বানির রিলায়্যান্স গ্রুপের সংস্থাগুলির সঙ্গে যুক্ত
৩,০৮৪ কোটি টাকার সম্পত্তি তারা বাজেয়াপ্ত করেছে

এই সম্পত্তিগুলির মধ্যে রয়েছে মুম্বইয়ের পালি হিলের বিলাসবহুল বাসভবন এবং দিল্লি, নয়ডা, গাজিয়াবাদ, পুনে, থানে, চেন্নাই, কাঞ্চিপুরম, হায়দরাবাদ ও পূর্ব গোদাবরীর একাধিক সম্পদ। এই আদেশ জারি করা হয়েছে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন- অর্থাৎ Prevention of Money Laundering Act এর ৫(১) ধারায়। ইডির তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রিলায়্যান্স হোম ফাইন্যান্স এবং রিলায়্যান্স কমার্শিয়াল ফাইন্যান্স এই দুই সংস্থার মাধ্যমেই নাকি জনসাধারণের কাছ থেকে সংগৃহীত অর্থকে ঘুরিয়ে নিজেদের অন্য গ্রুপ কোম্পানিতে ঢোকানো হয়েছিল। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে Yes Bank এই দুটি সংস্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছিল-
রিলায়্যান্স হোম ফাইন্যান্সে প্রায় ২,৯৬৫ কোটি টাকা
রিলায়্যান্স কমার্শিয়াল ফাইন্যান্সে ২,০৪৫ কোটি টাকা
কিন্তু ২০১৯ সালের শেষে এই বিনিয়োগগুলি নন-পারফর্মিং অ্যাসেট-এ পরিণত হয়। অর্থাৎ টাকা ফেরত আসেনি। তদন্তে দেখা গেছে, রিলায়্যান্স নিপন মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থও পরোক্ষে এই সংস্থাগুলিতে ঢুকেছিল। যা আসলে SEBI-র নিয়মবিরোধী। এসইবিআইয়ের ‘conflict of interest’ কাঠামো অনুযায়ী, একই গ্রুপের কোম্পানিতে সরাসরি বিনিয়োগ করা আইনসিদ্ধ নয়। কিন্তু অভিযোগ- Yes Bank-এর এক্সপোজারের মাধ্যমে,জনসাধারণের বিনিয়োগকৃত টাকা ঘুরিয়ে পৌঁছে গিয়েছে অনিল আম্বানির সংস্থাগুলির কাছেই। ইডির ভাষায়, এটি ছিল একটি সুস্পষ্ট আর্থিক কৌশল- যেখানে ব্যাংকের এক্সপোজার ব্যবহার করে ফান্ড ঘুরিয়ে নেওয়া হয়েছে গ্রুপের ভিতরেই। তদন্তে আরও ধরা পড়েছে চমকপ্রদ তথ্য- অনেক ক্ষেত্রেই ঋণ অনুমোদন, প্রক্রিয়াকরণ, এবং বিতরণ একই দিনে করা হয়েছিল। কখনও কখনও লোন অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়ার আগেই টাকা ছাড় করা হয়েছে। ফিল্ড তদন্ত বাদ, ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার এড়িয়ে যাওয়া, অনেক ডকুমেন্টে ফাঁকা জায়গা, কাটাকাটি, বা ওভাররাইটিং- ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক অবস্থা দুর্বল, অন্যদিকে সিকিউরিটি অসম্পূর্ণ ছিল। ইডির মতে, এগুলি ইচ্ছাকৃত ও পরিকল্পিত নিয়ন্ত্রণ ব্যর্থতা- যার উদ্দেশ্য ছিল ফান্ডকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘোরানো। এই মামলায় শুধু ফাইন্যান্স সংস্থা নয়, ইডির নজর পড়েছে রিলায়্যান্স কমিউনিকেশনস লিমিটেড এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলির উপরও। অভিযোগ-
RCom এবং তার সহযোগী সংস্থাগুলি
১৩,৬০০ কোটিরও বেশি টাকার ঋণ তছরূপ করেছে
প্রায় ১২,৬০০ কোটি টাকা গিয়েছে সম্পর্কিত পার্টিদের কাছে
বাকি টাকা রাখা হয়েছিল ফিক্সড ডিপোজিট ও মিউচুয়াল ফান্ডে
যেগুলি পরে ভেঙে ফেলা হয় এবং পুনরায় গ্রুপ সংস্থায় ঢোকানো হয়
ইডির ভাষায়, ‘বিল ডিসকাউন্টিং’ প্রক্রিয়াকে অপব্যবহার করে এই ফান্ড স্থানান্তর করা হয়েছে। এজেন্সি বলেছে, তদন্ত চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত ‘proceeds of crime’ পুরোপুরি উদ্ধার করা যায়। ইডির দাবি, এই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও অর্থ পুনরুদ্ধার- শেষ পর্যন্ত জনসাধারণের স্বার্থেই। অনিল আম্বানির রিলায়্যান্স গ্রুপের বিরুদ্ধে এই তদন্ত
ভারতের কর্পোরেট জগতে আবারও নাড়িয়ে দিয়েছে বিশ্বাসের ভিত। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মামলা শুধু এক ব্যবসায়িক কেলেঙ্কারির গল্প নয়- এটি দেশের আর্থিক নীতিনির্ধারণ ও তদারকির ব্যবস্থার বড়সড় সতর্কবার্তা। এরকম আরও খবর পেতে চোখ রাখুন আর প্লাস নিউজের ইউটিউব এবং ফেসবুক পেজে।