বাংলাদেশের মতো পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে পশ্চিমবঙ্গে : শুভেন্দু

গঙ্গাসাগরে শুভেন্দু অধিকারী। কপিলমুনি আশ্রমে পুজো ও জনসভা থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ।

বিশ্বজিৎ নস্কর,  নিজস্ব সংবাদদাতা : ​আদালতের নির্দেশ মেনে বুধবার বেলা একটা নাগাদ দক্ষিণ ২৪ পরগনার সাগরদ্বীপে পৌঁছলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কড়া নিরাপত্তা বলয়ে তিনি প্রথমেই কপিলমুনি আশ্রমে প্রবেশ করে পুজো দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি স্থানীয় ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের শাখায় যান এবং সন্ন্যাসীদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান। বিরোধী দলনেতার এই সফরকে কেন্দ্র করে দ্বীপজুড়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেল।

​এর পরেই স্থানীয় চৌরঙ্গি এলাকায় এক বিশাল জনসভায় যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী। সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে তাঁর নিশানায় ছিল মূলত পশ্চিমবঙ্গ ও ওপার বাংলার বর্তমান পরিস্থিতি এবং রাজ্য সরকারের একাধিক দুর্নীতি।

​দীপু দাসের পরিবারের পাশে থাকার অঙ্গীকার

সম্প্রতি বাংলাদেশে নির্যাতিত ও নিহত সনাতনী যুবক দীপু দাসের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা জানান শুভেন্দু। তিনি ঘোষণা করেন যে, তাঁর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ওই পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। সেই সঙ্গে বিপন্ন হিন্দুদের রক্ষায় সমস্ত সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, “রাজ্যজুড়ে হিন্দুদের যে বিক্ষোভ দেখা যাচ্ছে, তা সম্পূর্ণ স্বতঃস্ফূর্ত। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ রোখা যাবে না।”

​রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা

জনসভা থেকে তৃণমূল সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বাংলাদেশে যা ঘটছে, সেই একই পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গে তৈরির চেষ্টা চলছে। এ রাজ্যে হিন্দুদের জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে।” মতুয়ারা বিজেপির সঙ্গে আছে দাবি করে তিনি বলেন, “মতুয়া সমাজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গেই আছে। তৃণমূল তাদের ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, কিন্তু তা সফল হবে না।”

​দুর্নীতির অভিযোগ ও প্রশাসনিক সতর্কতা

বক্তব্যে তৃণমূলের একাধিক দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরেন বিরোধী দলনেতা। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে রেশন বণ্টন ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা নয়ছয়— সব বিষয় নিয়েই সুর চড়ান তিনি। অন্যদিকে, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের তরফে নেওয়া হয়েছিল কড়া ব্যবস্থা। আশ্রম ও সভাস্থলের আশপাশে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী।