ভারতীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টি স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : আগামী মে-জুলাইয়ের মধ্যেই প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এল নিনো পরিস্থিতি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। এমনই উদ্বেগের পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়াবিদ সংস্থা। মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’ অনুযায়ী, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে, যা এল নিনোর দিকেই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বছরের শুরুতে নিরপেক্ষ অবস্থায় থাকলেও বর্তমানে জলবায়ু মডেলগুলি প্রায় একসুরে বলছে, এল নিনো তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল এবং পরবর্তী মাসগুলিতে তা আরও শক্তিশালী হতে চলেছে। যদিও ‘স্প্রিং প্রেডিক্টেবিলিটি ব্যারিয়ার’-এর কারণে এই সময়ের পূর্বাভাসে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকে। তবে এপ্রিলের পর তা অনেকটাই কমে আসে বলে জানিয়েছেন সংস্থার জলবায়ু পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান উইলফ্রান ওকিয়া।
এল নিনো ও লা নিনার মতো পরিস্থিতি আসলে ENSO বা এল নিনো-সাউদার্ন অসিলেশন চক্রের অংশ—যা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার উপর গভীর প্রভাব ফেলে। সাধারণত দুই থেকে সাত বছর অন্তর এই চক্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং তা প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়। এল নিনোর ক্ষেত্রে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন দেখা দেয়।
বিশ্ব আবহাওয়াবিদ সংস্থা জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে দক্ষিণ আমেরিকার কিছু অংশ, দক্ষিণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল ও মধ্য এশিয়ায় বেশি বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে খরার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতাও জোরদার হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সাল ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম বছর—যার পেছনে শক্তিশালী এল নিনো ও মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তনের যৌথ প্রভাব ছিল।
তবে বিশ্ব আবহাওয়াবিদ সংস্থা স্পষ্ট করেছে, জলবায়ু পরিবর্তন এল নিনোর সংখ্যা বা তীব্রতা বাড়ায়—এমন কোনও প্রমাণ নেই। কিন্তু উষ্ণতর বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রের কারণে এর প্রভাব অনেক বেশি তীব্র হয়ে উঠতে পারে—যেমন তাপপ্রবাহ বা অতিবৃষ্টির ঘটনা।
এদিকে ভারতের ক্ষেত্রেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে এই পূর্বাভাস। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বৃষ্টি স্বাভাবিকের তুলনায় কম হতে পারে। অনুমান, মোট বৃষ্টিপাত দীর্ঘমেয়াদি গড়ের প্রায় ৯২ শতাংশের কাছাকাছি থাকবে।
কৃষি, জলসম্পদ, বিদ্যুৎ ও স্বাস্থ্য—সব ক্ষেত্রেই এই পূর্বাভাসের প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব আবহাওয়াবিদ সংস্থা। আগামী মে মাসের শেষ দিকে আরও নির্ভুল পূর্বাভাস প্রকাশ করা হবে বলেও জানিয়েছে তারা।