“একজন বৈধ ভোটারও যেন বাদ না যায়, একজনও অবৈধ ভোটার যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে “
ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: এসআইআর চালু বাংলা-সহ ১২ রাজ্যে, রাতেই ‘ফ্রিজ়’ হবে ভোটার তালিকা! খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনও ঘোষিত কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর করে সব ভোটারের নাম নতুন ভাবে নথিভুক্ত করা হবে। ভোটার তালিকায় একজন বৈধ ভোটারও যেন বাদ না যায় এবং একজনও অবৈধ ভোটার যেন না থাকে, তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

কে ভোটার হতে পারবে?
১) ভারতীয় নাগরিক হতে হবে
২) ১৮ বছর বা তার বেশি বয়স হতে হবে
৩) সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় থাকতে হবে
৪) কোনও আইনে ভোট দেওয়ার অধিকার বাতিল হলে চলবে না
১৯৫১ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দেশে এসআইআর হয়েছে আট বার। ২১ বছর আগে শেষ বার এসআইআর হয়েছে— ২০০২ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত।
কবে কোন প্রক্রিয়া?
কমিশন জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে এনুমেরেশন ফর্ম ছাপা এবং বিএলওদের প্রশিক্ষণের কাজ। চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমেরেশন ফর্ম দেওয়া হবে ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। এই তালিকা নিয়ে অভিযোগ থাকলে তা ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারির মধ্যে জানাতে হবে। অভিযোগ শোনা এবং খতিয়ে দেখার কাজ চলবে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে ৭ ফেব্রুয়ারি।
কমিশনের নির্দিষ্ট ১১টি নথি কী কী?
১) কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকারের কর্মী হিসাবে কাজ করেছেন অথবা পেনশন পান এমন পরিচয়পত্র। ২) ১৯৮৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, এলআইসি, স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া যে কোনও নথি। ৩) জন্ম শংসাপত্র। ৪) পাসপোর্ট। ৫) মাধ্যমিক বা তার অধিক কোনও শিক্ষাগত শংসাপত্র। ৬) রাজ্য সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের দেওয়া বাসস্থানের শংসাপত্র। ৭) ফরেস্ট রাইট সার্টিফিকেট। ৮) জাতিগত শংসাপত্র। ৯) কোনও নাগরিকের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার। ১০) স্থানীয় প্রশাসনের দেওয়া পারিবারিক রেজিস্ট্রার। ১১) জমি অথবা বাড়ির দলিল।
এ ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক পরিচয়পত্র হিসাবে আধার কার্ড দেখানো যাবে। তবে তা দেখিয়ে নাগরিকত্বের দাবি করা যাবে না।
অসমে হচ্ছে না এসআইআর!
আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে অসমে। কিন্তু সেখানে এসআইআর হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জ্ঞানেশ। কারণ, সেখানে এনআরসি প্রায় শেষের পথে। তা ছাড়া অসমের নিজস্ব বিধান রয়েছে।
কোন ১২ রাজ্যে এসআইআর?
পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তীসগঢ়, গোয়া, গুজরাত, কেরল, লক্ষদীপ, মধ্যপ্রদেশ, পুদুচেরি, আন্দামান নিকোবর। এই ১২ রাজ্যে ৫১ কোটি ভোটারের তালিকার এসআইআর হবে।
যে ভোটারদের পড়তে বা লিখতে সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সাহায্য করবেন বিএলওরা। কখনও কোনও ভোটদাতা বাড়িতে না থাকলে তাঁর বাড়ি আবার যাবেন বিএলও। এক জন ভোটদাতার বাড়িতে তিন বার যাবেন এক জন বিএলও। প্রত্যেক বাড়িতে যাবেন বিএলও।
কাদের কাগজ দিতে হবে না?
২০০৩ সালের সূচিতে যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের আর কোনও কাগজ দিতে হবে। কারও নিজের নাম না থাকলেও যদি বাবা-মায়ের নাম থাকে, তা হলে আর কাগজ দিতে হবে না। কমিশনের সাইটে গিয়ে এই ‘ম্যাচিং’ ভোটারেরা নিজেরাই করতে পারবেন। রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক
যে সব রাজ্যে এসআইআর হবে, সেখানকার রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে মঙ্গলবার বৈঠক করবেন কর্মীরা।
এসআইরের সময়ে প্রথমে আবেদন পত্র (এনিউমেরাশন ফর্ম) প্রিন্ট করা হবে। যে রাজ্যে এসআইআর হবে, সেখানকার ভোটদাতাদের সূচি সোমবার রাত ১২টায় ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হবে। সেই সূচিতে যাঁদের নাম, তাঁদের এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া হবে।
ভাল কাজ বিহারে!
জ্ঞানেশ জানান, বিহারে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিলে যখন এসআইআর হয়েছে, তার পরে শূন্য অভিযোগ জমা পড়েছে। বুথ লেভেল এজেন্টদের সঙ্গে মিলে কর্মীরা খুব ভাল কাজ করেছেন।
কী ভাবে এগোবে কাজ!
জ্ঞানেশ জানান, এসআইআরের সময়ে বহু কর্মী কমিশনের সঙ্গে কাজ করেছেন। ১০০০ ভোটার পিছু রয়েছে একটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র। একটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৩০০ থেকে ৪০০ ভোটগ্রহণ কেন্দ্র থাকে। সব কেন্দ্রে ইলেকটোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার থাকেন। তাঁর অধীনে কাজ করেন বিএলওরা।
১২ রাজ্যে এসআইআর
জ্ঞানেশ বলেন, ‘‘বিহারের সাড়ে সাত কোটি ভোটদাতা অংশগ্রহণ করেছেন। বিএলও, বুথ লেভেল এজেন্ট, সকলে মিলে এই এসআইআরকে সফল করেছে। এ বার ১২ রাজ্যে হবে এসআইআর। ’’ তালিকায় রয়েছে বাংলাও।
আগামী ১ নভেম্বর থেকে বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) বাড়ি বাড়ি ফর্ম নিয়ে যাবেন বলে কমিশন সূত্রে খবর। প্রথমেই দিল্লি থেকে এনুমারেশন ফর্মের সফ্টকপি নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের (ইআরও) পোর্টালে পাঠিয়ে দেবে কমিশন। তার পরে সেগুলি পাঠানো হবে ছাপার জন্য। এক জন ভোটারের জন্য দুটো করে এনুমারেশন ফর্ম ছাপবে কমিশন। এখন বাংলার ভোটার সংখ্যা প্রায় ৭.৬৫ কোটি। অর্থাৎ, তার দ্বিগুণ ফর্ম ছাপা হবে। ওই ফর্মগুলি প্রত্যেক ভোটারের বাড়িতে পোঁছে দেবেন বিএলও-রা। ফর্মের বাকি অংশ পূরণ করে উপযুক্ত নথি-সহ জমা দিতে হবে। একটি ফর্ম সংশ্লিষ্ট ভোটারের কাছে থাকবে। অন্যটি বিএলও নিয়ে যাবেন।
পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর দিনক্ষণ সোমবার ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন। দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছে কমিশন। সেখানেই কমিশন সম্ভবত এসআইআরের প্রথম ধাপ ঘোষণা করবে। বিশেষ করে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে এমন রাজ্যগুলিতে ওই সংশোধনের কাজ প্রথমে শুরু করছে কমিশন। যেখানে বাংলা-সহ ১০ থেকে ১৫টি রাজ্য থাকবে।
দেশের মধ্যে প্রথম বিহারে এসআইআর করে কমিশন। প্রাথমিক ভাবে সে রাজ্যে ৬৫ লক্ষ লোকের নাম বাদ পড়ে। বিহারের সময়ই কমিশন জানিয়েছিল, ধাপে ধাপে সারা দেশে ওই সংশোধনের কাজ চলবে। সেইমতো প্রস্তুতিও শুরু হয়। বুথ লেভেল অফিসারদের প্রশিক্ষণ দেয় কমিশন। কাজ এগিয়ে রাখতে ম্যাপিং করে তারা। ২০০২ সালে বাংলায় শেষ বার এসআইআর হয়েছিল।