“রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ আসছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে পুলিশই।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : দ্বিতীয় দফার ভোটের আগের দিন রাজ্যে নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস দিল নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল (Manoj Kumar Agarwal) জানালেন, “লুকোনোর কিছু নেই, সব কিছুই নথিবদ্ধ করা হচ্ছে।” তাঁর কথায়, ভোটকে শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ রাখতে রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী সর্বত্র মোতায়েন রয়েছে।
মঙ্গলবার কলকাতার জলসম্পদ ভবনের নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছিলেন মনোজ কুমার আগরওয়াল (Manoj Kumar Agarwal)। তিনি জানান, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ আসছে বটে, তবে প্রতিটি অভিযোগই নথিভুক্ত করে তদন্তের জন্য পুলিশকে পাঠানো হচ্ছে। তাঁর কথায়, “অনেক অভিযোগই প্রভাবিত বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে। আমরা কাউকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিই না। তদন্ত করে পুলিশই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।”
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আশ্বস্ত করে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক বলেন, “ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিন। রাজ্য পুলিশ রয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীও রয়েছে। কোথাও কোনও সমস্যা হলে স্থানীয় প্রশাসন তা সামলে নেবে।” তিনি আরও জানান, প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। দিনভর কোথায় কী ঘটছে, তা তিনি নিজে পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান তিনি।
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জানান, সম্প্রতি প্রায় ১,৪৬৮ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং খুব অল্প কয়েকটি নাম বাদ পড়েছে। তবে এটিকে তিনি ‘অ্যাকাডেমিক এক্সারসাইজ’ বলেই উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, এই পরিবর্তন ভোট প্রক্রিয়ায় তেমন প্রভাব ফেলবে না।
প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করতে সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাও। এনআইএ-র (National Investigation Agency) একাধিক দল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্রের খবর, ভোটের আগে, চলাকালীন এবং পরে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্যই এই পদক্ষেপ। দ্রুত পদক্ষেপ করার লক্ষ্যে বিশেষ দলগুলিকে নামানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের সাতটি জেলায় মোট ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে বুধবার। ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে প্রচারপর্ব। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের তরফে বারবার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, প্রতিটি ভোটারই গুরুত্বপূর্ণ এবং সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগের দিন প্রশাসনের বার্তা হল—আতঙ্ক নয়, আস্থা রেখেই ভোটে অংশ নিন। ভোটের দিনে পরিস্থিতি কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে, সেটাই এখন দেখার।