কোন জেলায় বাদ গেল কত ভোটারের নাম?

এসআইআরে (SIR) বাদ পড়তে পারে বিপুল সংখ্য অনুপ্রবেশকারী। এমনটাই দাবি করেছিল রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তবে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের তরফে যে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়, সেখানে নাম নেই প্রায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার জনের। তবে সেখানে অনুপ্রবেশকারী কত, তার কোনও উল্লেখ নেই। কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ২৪, ১৬, ৮৫২, অনুপস্থিত ১২,২০,০৩৮ জন, ঠিকানা বদল ১৯,৮৮,০৭৬ জন, ডুপ্লিকেট ভোটার ১,৩৮, ৩২৮ জন এবং অন্যান্য ৫৭,৬০৮ জন।

এদিকে খসড়া ভোটার তালিকায় রয়েছে একাধিক গড়মিলের ঘটনা। যেমন ধরুন ছজন বা তারও বেশি আলাদা ব্যক্তির বাবার নাম একই। ভোটারের বয়স ৪৫ বা তার বেশি, সেক্ষেত্রে আবার দেখা যাচ্ছে ২০০২-র এসআইআরের সঙ্গে এখনকার এনুমারেশন ফর্মে বাবার নাম আলাদা। এইরকম গরমিল ধরা পড়েছে একাধিক জেলায়। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক.কোন কোন জেলায় কত শতাংশ ভোটারের বাদ পড়ল।
কলকাতা উত্তর – ২৫.৯২
কলকাতা দক্ষিণ- ২৩.৮২
পশ্চিম বর্ধমান- ১৩.১৬
হাওড়া- ১০.৮
উত্তর ২৪ পরগনা- ৯.৫৪
দক্ষিণ ২৪ পরগনা-৯.৫২
দার্জিলিং- ৯.৪৫
কালিম্পং- ৭.৮৫
পুরুলিয়া- ৭.৫৭
উত্তর দিনাজপুর-৭.৩৫
আলিপুরদুয়ার-৭.৩৩
জলপাইগুড়ি-৬.৯৫
হুগলি-৬.৬৮
মালদা-৬.৩১
দক্ষিণ দিনাজপুর-৬.০৮
বীরভূম-৬.০৭
ঝাড়গ্রাম-৫.৫৩
পশ্চিম মেদিনীপুর-৫.০৬
পূর্ব বর্ধমান-৪.৯৮
নদিয়া-৪.০৯
মুর্শিদাবাদ-৪.৮৪
কোচবিহার-৪.৫৫
বাঁকুড়া-৪.৩৮
পূর্ব মেদিনীপুর-৩.৩১

খসড়া তালিকা প্রকাশের পর অনেক গড়মিল সামনে এসেছে। তার মানে খসড়া তালিকায় নাম নেই মানেই এটা ভাবার কোনও কারণঁ নেই যে আপনার নাম বাদ চলে গিয়েছে। হতে পারে ভুল বশত আপনার নাম মৃতের তালিকায় উঠে গেছে। তখন নির্বাচন কমিশনের ক্লেম অবজেকশন ফর্ম ফিল আপ করতে হবে। খসড়া তালিকায় নাম নেই অনেকের। আপাতত তাঁদের শুনানির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে পর্যাপ্ত নথি নিয়ে। অন্তত তেমনটাই বলছে নির্বাচন কমিশনের। কিন্তু এখানেও থাকছে প্রশ্ন। যে তারিখ কমিশন ধার্য করবে, সেই তারিখে যদি কেউ বাড়ি না থাকেন, অথবা দরকারি কোনও কাজের জন্য যেতে না পারেন, সেক্ষেত্রে কী হবে? নাম বাদ চলে যাবে?

জেলাশাসক, এসডিও, বিডিও অফিস এবং কাছকাছি থাকা সরকার অন্য অফিসে এই শুনানি চলবে। কিন্তু বৃদ্ধ, অসুস্থ. বিশেষ ভাবে সক্ষমরা যদি শুনানিকেন্দ্র পর্যন্ত পৌঁছতে না পারেন, তাহলে কি বয়স্কদের জন্য বাড়ি থেকে অনলাইনে শুনানি সম্ভব হবে? কী পথ খোলা রয়েছে? অনলাইনে কি থাকবে শুনানির সুবিধা ? বা শুনানির দিন কেউ হাজির হতে না পারলে কি পরবর্তী তারিখ মিলবে? তবে এই মূর্হুর্তে কিছুই বলা হয়নি সিইও অফিস থেকে। বলা হয়, এক-দু’দিনের মধ্যে শুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ পাবে।