ইন্টারনেট পরিষেবায় জোর ইলন মাস্কের

মহাকাশে পাঠানো হল ২৮ টি স্যাটেলাইট

নাজিয়া রহমান, নিজস্ব সংসবাদদাতাঃ পৃথিবীর যে প্রান্তে এখনও ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছায়নি, সেখানে দ্রুত গতির ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ইলন মাস্ক। আর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট দেওয়ার ক্ষেত্রে গোটা বিশ্বের বাজারে একদম শীর্ষে রয়েছে এলন মাস্কের সংস্থা Starlink৷পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে  হাজার হাজার স্যাটেলাইট স্থাপন করে এই পরিষেবা প্রদান করা হচ্ছে। এই পরিষেবা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে মহাকাশে পাঠানো হল ২৮ টি স্যাটেলাইট,  আর এই স্যাটেলাইট পাঠাল এলন মাস্কের সংস্থা SpaceX ৷Falcon 9 রকেটের মাধ্যমে ওই 28টি স্যাটেলাইট পাঠানো হয় ৷ এটা Falcon 9 এর 156 তম মিশন ছিল৷

এখন প্রশ্ন কেন এতগুলি স্যাটেলাইট আবারও পাঠানো হল? নতুন করে আবার ২৮ টি স্যাটেলাইট পাঠানোর উদ্দেশ্য কি? এর কারণ হিসেবে US Space Force এর তরফ থেকে  জানানো হয়েছে, গোটা বিশ্বের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবাকে আরও উন্নতি করার লক্ষ্যেই এই মিশন করা হয়েছে ৷ অর্থাৎ ইলন মাস্কের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবাটিকে আরও উন্নত করতেই এই উদ্যোগ।  ইলন মাস্কের ইন্টারনেট পরিষেবা ও ব্রডব্যান্ডকে আরও উন্নত করার লক্ষ্যই হল পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটের মাধ্যমে উচ্চ-গতির ইন্টারনেট পরিষেবা  সরবরাহ করা,  বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে প্রচলিত ইন্টারনেট পৌঁছায় না, সেখানে।  সদ্য যে ২৮ টি স্যাটেলাইট পাঠানো হয়েছে সেগুলি লো আর্থ অর্বিট অর্থাৎ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে  প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জানা গেছে ৷ Falcon 9 রকেটে করপ উৎক্ষেপণের এক ঘণ্টার মধ্যেই তারা নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছে গিয়েছে ৷ বন্দেবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে যাত্রা শুরু করেছিল Falcon 9 রকেটটি ৷ সঠিক সময় মত এই রকেটটিও পৃথিবীর অর্বিটে পৌঁছেও গেছে বলে জানা গেছে।

স্পেশএক্সের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, ওই রকেটের প্রথম অংশটি ভূপৃষ্ঠে ফিরে এসেছিল উৎক্ষেপনের 8.5 মিনিট পরে ৷ প্রশান্ত মহাসাগরের Of Course I Still Love You এই ড্রোন শিপের সাহায্যে রকেটের প্রথম অংশটি ল্যান্ড করে ৷ এই বুস্টারে এটা ছিল চার নম্বর যাত্রা৷বিজ্ঞানীদের থেকে জানানো হয়েছে, রকেটে করে স্যাটেলাইটগুলি মহাকাশের নির্দিষ্ট কক্ষপথে পৌঁছনোর পরই  কাজ শুরু করেছে ৷ স্যাটেলাইটগুলি নির্ভুল কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।  এখনও পর্যন্ত ইলন মাস্কের স্পেশএক্সের  ৯ হাজারটিরও বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে মহাকাশে ৷ সেগুলির সঙ্গে যুক্ত হল নতুন এই ২৮ টি স্যাটেলাইট ৷ আর নতুন এই স্যাটেলাইটগুলির সাহায্যে ইন্টারনেট পরিষেবায় আরও গতি আসবে বলে মত বৈজ্ঞানিক মহলের।

এখন প্রশ্ন এই স্যাটেলাইটগুলি কীভাবে কাজ করবে? প্রসঙ্গত, পৃথিবীর নিম্ন কক্ষের স্যাটেলাইট বলতে বোঝায় সেইসব কৃত্রিম উপগ্রহকে যা পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে  ১৬০ কিমি থেকে ২০০০ কিমি উচ্চতার মধ্যে অবস্থান করে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবীর এই লো অর্বিটে স্যাটেলাইট অবস্থানের মাধ্যমে পৃথিবীকে গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ, এবং গুপ্তচর নজরদারি চালানো হয়। এই স্যাটেলাইটগুলি পৃথিবী পৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকায় আরও স্পষ্ট ছবি এবং  কম খরচে ইন্টারনেট  পরিষেবা পাওয়া যায়, যেমন ইলন মাস্কের স্পেসএক্স-এর স্টারলিংক বা ইসরোর পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই কাজগুলি করে। ইলন মাস্কের সদ্য পাঠানো ২৮ টি স্যাটেলাইট হল লো অর্বিট স্যাটেলাইট। অর্থাৎ ভূ পৃষ্ঠ থেকে খুব একটা দূরে এদের অবস্থান নেই ৷ এই স্যাটেলাইটগুলির প্রধান কাল হল ইন্টারনেট সিগন্যাল প্রদান করা ৷ যেহেতু এগুলি লো-অর্বিট স্যাটেলাইট সেই কারণে আপলিঙ্ক ও ডাউনলিঙ্কও হবে অতি দ্রুত বলে মত বিজ্ঞানীদের ৷

Illustration of SpaceX’s Starlink network of satellites.

তাহলে এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার সুবিধা কি হবে? মূলত স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার সুবিধা হল কোনও তার  ছাড়াই ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহার করা যায় ৷ বিভিন্ন দূর্গম এলাকায় যেখানে তার যুক্ত ব্রডব্যান্ড পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয় না অথবা মোবাইল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক পৌঁছয় না সেই সব জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য একমাত্র উপায় এই ধরণের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা বলে মত বৈজ্ঞানিকদের  ৷ অর্থাৎ দূর্গম পাহাড়ি এলাকায় যারা থাকেন বা ভ্রমণ পিপাসু মানুষ যাদের বহু ক্ষেত্রে হাইস্পিড ইন্টারনেট দরকার হয় তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের পরিষেবা খুবই উপযুক্ত বলে মনে করেন বিজ্ঞানীরা।  অর্থাৎ ইলন মাক্সের এই স্যাটেলাইটগুলি ইন্টারনেট পরিষেবাকে আরও গতিশীল করে তুলবে সেটা বলা যেতেই পারে।