পিঁপড়ের দখলে আস্ত স্কুল! ৩ বছর ধরে তাণ্ডব, আতঙ্কে পড়ুয়া-শিক্ষক

দিনের পর দিন বিদ্যালয়ে পড়ুয়া নেই। স্কুলে তালা। এমন ঘটনার সাক্ষী আমরা সকলেই। প্রতিনিয়ত বাংলাজুড়ে একের পর এক সরকারি স্কুলে দুরবস্থার খবর সামনে আসছে। কিন্তু পিঁপড়ের দখলে একটা আস্ত স্কুল। পিঁপড়েদের উপদ্রবে স্কুলে আসছে না পড়ুয়ারা। অনেকেই ভাবছেন পিপড়েদের ভয় পাচ্ছে মানুষ। এ কেমন ঘটনা। হ্যাঁ ঠিকই পিপড়েদের জ্বালাতনে অতিষ্ট স্কুলের পড়ুয়া থেকে শিক্ষকরা। এক দুদিন নয় তিন বছর ধরে পিপড়েদের খাস তালুক হয়ে উঠছে আস্ত এক বিদ্যালয়। ব্লিচিং থেকে পিপড়ে মারার টোটকা, সব ফেইল। কোনওভাবেই তাদের জব্দ করা যাচ্ছে না। দিন দিন যেন তাদের রাজত্ব বেড়েই চলেছে। চলুন আজ আপনাদের সেই স্কুলে একটু ঘুরিয়ে আনি। তাহলেই বুঝবেন সমস্যাটা কতটা গুরুতর।

বিশ্বজিৎ দেবনাথ, নিজস্ব সংবাদদাতা

নদিয়ার চাকদহ থানার অন্তর্গত তাতলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রতিষ্ঠিত তাতলা পশ্চিম শিশু আলোয় প্রাথমিক বিদ্যালয়। ২০১৯ সালে শুরু এই বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন। শুরুটাতো ঠিকই ছিল। কিন্তু তিনবছর আগে সমস্যার সূত্রপাত। একটা দুটো করে বাড়তে বাড়তে এখন বিদ্যালয়ের শৌচাগার থেকে শ্রেণিকক্ষের দখল নিয়ে নিয়েছে পিঁপড়েরা। অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ, মিড ডে মিলের রান্নাঘর এবং শৌচাগার চত্বরে ব্যাপকভাবে পিঁপড়ের উপদ্রব চলছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে বসে পড়াশোনা করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। স্কুলের শিক্ষিকাদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও এখনও পর্যন্ত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি।

পিঁপড়ের কামড় খেতে হচ্ছে পড়ুয়াদের। ফলে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অভিভাবকদের মধ্যেও। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার কারণে তাঁদেরও চরম অসুবিধার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। একাধিকবার বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অভিভাবক ও পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, শিশুদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত স্কুল পরিদর্শন করা হোক এবং পিঁপড়ের উপদ্রব বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

শ্রেণিকক্ষ, মিড-ডে মিলের রান্নাঘর এবং শৌচাগার চত্বর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে পড়ুয়াদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও উঠেছে। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে বিজেপি কর্মীদের পক্ষ থেকেও প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, দ্রুত পঞ্চায়েত ও বিডিও-র কাছে বিষয়টি জানিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের দাবি জানানো হবে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা এই সমস্যার এবার স্থায়ী সমাধান হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্কুলের পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকরা। ভাবুন একবার তিনবছর ধরে সমস্যার জট পেকেছে অথচ কোনও টনক নড়েনি। শিক্ষাঙ্গনে যদি এইরকম পরিবেশ হয় তাহলে শিক্ষালাভ হবে কীভাবে। এবার কি পিপড়ের উপদ্রপে লাটে উঠবে পড়াশোনা?