দুর্গাপুর গণধর্ষণে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

“দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ”, গণধর্ষণ কাণ্ডে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের।

ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা : নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নের মুখে এবার কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি শম্পা দত্ত পাল নির্দেশ দিয়েছেন, “কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে অনুমতি ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটকে ওই এলাকায় কড়া নজরদারি চালাতে হবে।“

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার, ১০ অক্টোবর। অভিযোগ, ওড়িশা থেকে আগত দ্বিতীয় বর্ষের এক মেডিক্যাল ছাত্রী বন্ধুর সঙ্গে খাবার কিনতে ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়েছিলেন। তখনই দুর্গাপুরের পরাণগঞ্জ এলাকায় তাঁকে জঙ্গলের দিকে টেনে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। শনিবার সকালে বিষয়টি সামনে আসতেই রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। প্রতিবাদে রাস্তায় নামে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রছাত্রীদের একাংশ।

এর আগে আরজিকর বা কসবা-কাণ্ডেও নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এবার দুর্গাপুরের ঘটনায় সেই উদ্বেগ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে।

জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আশ্বাস দিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।

দুর্গাপুজোর ছুটির মধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, “অনুমতি ছাড়া কোনও ব্যক্তি কলেজ বা হাসপাতাল এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।“

দুর্গাপুরে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনার আচ ইতিমধ্যে গিয়ে পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতেও। আরজিকর ধর্ষণ ও খুন মামলার পর দুর্গাপুর মেডিক্যালেও গণধর্ষণকাণ্ডে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। রাজ্য, দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল প্রতিবাদের আঁচ। এত বড় মাপের প্রতিবাদের পরও আবার মেডিক্যাল কলেজে গণধর্ষণে শিকার হতে হল একজন মেডিক্যাল ছাত্রীকে ? তা ভেবেই হতবাক মানুষজন। গণঘর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে সামিল হয়েছে বিজেপি কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। একইসঙ্গে উঠে গিয়েছে বেশ কিছু প্রশ্ন। মেডিক্যাল কলেজেও যদি একটি মেয়েকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়, তাহলে রাজ্যে নারী নিরাপত্তা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে ?  এদিকে অত রাতে ওই ছাত্রী বাইরে বেরিয়েছিলেন কেন, সেই প্রশ্ন তোলার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রীকেও নিশানা করছেন বিরোধীরা। বিতর্কের মুখে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য বিকৃত করা হচ্ছে।“ মুখ্যমন্ত্রী মোটেও এমন কোনও মন্তব্য করেননি বলে জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার সহ তৃণমূল নেতৃত্বরা।