রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধে রাশিয়াকে সাহায্য করার অপরাধে ৪৫টি সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন
মাম্পি রায়, সাংবাদিক: রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধে রাশিয়াকে সাহায্য করার অপরাধে একাধিক ভারতীয় সংস্থাকে নিষিদ্ধ করল ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মোট ৪৫টি সংস্থার উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে ইইউ। ওই সংস্থাগুলির মধ্যে তিনটি ভারতীয় বলে সংবাদসংস্তা পিটিআই সূত্রে খবর। এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মুখ খোলেনি নয়াদিল্লি।

এর আগে একাধিকবার ভারতের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, রুশ তেল কিনে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়াকে মদত দিচ্ছে ভারত। সেজন্যই ভারতের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিযোগ আলাদা। বৃহস্পতিবারের একটি বিবৃতি জারি করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, ‘ড্রোন, মাইক্রো ইলেকট্রনিকস, অত্যাধুনিক কম্পিউটার ইত্যাদি প্রযুক্তির মাধ্যমে ৪৫টি সংস্থা রাশিয়াকে সাহায্য করছে। রাশিয়াকে সরাসরি সমর্থন করার কারণে এই সংস্থাগুলিকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।’
ওই ৪৫টি সংস্থার মধ্যে অধিকাংশই রাশিয়ার নিজের। তার বাইরে ১২টি সংস্থা চিন এবং হংকংয়ের, থাইল্যান্ডের দুটি সংস্থা। এছাড়া তিনটি সংস্থা ভারতের। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে খবর, ইউপোরীয় ইউনিয়ন যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, সেই তালিকায় থাকা ভারতীয় সংস্থাগুলি হল, এরোট্রাস্ট এভিয়েশন প্রাইভেট লিমিটেড, অ্যাসেন্ড এভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং শ্রী এন্টারপ্রাইজেস। তবে এই সংস্থাগুলি কীভাবে রাশিয়াকে সাহায্য করেছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট করে কিছুই জানায়নি।
কয়েক মাস আগে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট অ্যান্টোনিও কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ওই আলোচনার পরেই উরসুলা জানিয়েছিলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে ভারত। যদিও এর পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধ থামানোর প্রাণপন চেষ্টা করে নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা বলেছিলেন, রাশিয়া যেন যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি ফেরানোর পথে হাঁটে, সেটা নিশ্চিত করতে ভারতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু তারপর ভারতেরই তিন সংস্থাকে নিষিদ্ধ করে ইইউ।
ভারতীয় সংস্থাগুলিকে নিষিদ্ধ করলেও, তারা কীভাবে রাশিয়াকে সাহায্য করেছে, তা মোটেও স্পষ্ট করেনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
এদিকে আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে মস্কোর উপর নতুন করে চাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকা। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার বৃহত্তম দু’টি তেলশোধক সংস্থা ‘রসনেফ্ট’ এবং ‘লুকঅয়েল’-এর উপর নয়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যুদ্ধ বন্ধ হলেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। আমেরিকার আচরণকে ‘অবন্ধুসুলভ’ বলেও ব্যাখ্যা করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।