বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে উপযুক্ত উদ্যোগে সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুত।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক: হরমুজ প্রণালী ঘিরে সংঘাতের জেরে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে জাপান একযোগে জানাল, গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা প্রয়োজনে এগিয়ে আসতে প্রস্তুত। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে ওই দেশগুলি ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে উপযুক্ত উদ্যোগে সহায়তা করতে আমরা প্রস্তুত।” পাশাপাশি, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কমাতে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, প্রয়োজনে উৎপাদন বাড়িয়ে সরবরাহ ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করা হবে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও এলপিজি পরিবহণের পথ হরমুজ প্রণালী। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের একাধিক হামলায় পরিস্থিতি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ড্রোন ও বিস্ফোরকবাহী নৌকা ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে তেহরানের বিরুদ্ধে। এমনকি, এই পথ দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলিকেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ফলে বহু জাহাজ প্রণালীর বাইরে আটকে পড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে—ভারতও তার ব্যতিক্রম নয়।
ইরান যখন উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিকাঠামোর উপর পাল্টা হামলা চালায়, তখন সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কাতার ও সৌদি আরবের একাধিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর। এর জেরে উৎপাদনেও বড়সড় ধাক্কা লেগেছে।
কাতার এনার্জির সিইও জানিয়েছেন, “এই হামলায় দেশের প্রায় ১৭ শতাংশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানির ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।” তাঁর মতে, “প্রায় ১ কোটি ২৮ লক্ষ টন এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত বন্ধ থাকতে পারে, যা ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলবে।”
যৌথ বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে ‘নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজ’ এবং ‘সাধারণ পরিকাঠামো’-তে হামলার অভিযোগ তুলে তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই নষ্ট করছে না, বরং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার উপরও সরাসরি আঘাত করছে। অবিলম্বে এই হামলা বন্ধের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে সাধারণ পরিকাঠামোর উপর আক্রমণে সম্পূর্ণ বিরতি’ ঘোষণার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের দিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।