পূজো আসছে আর এক সপ্তাহ পরেই কিন্তু পুজোর জোরদার মাইক থেকে ঢাক, কাশি বাজবে সেই সময় মন্ডল পরিবারের বিষাদের সুর তাদের কাছে নতুন জামা কাপড় অর্থহীন কি হবে নতুন জামা কাপড় নিয়ে ক মাস আগের ঘটনা ছেলের মনটা এখনো তাদের ডুকড়ে ডুকড়ে কাঁদে।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা
সূর্যপুর বাজার এলাকার কুলপি রোডের উপরে বাড়ি এই হতভাগ্য অজিত মন্ডল ও তার স্ত্রী অনিমা মন্ডল তাদের তিন ছেলের সঙ্গে থাকতেন। ছোট ছেলে ছিল এই ইন্দ্রজিৎ মন্ডল। মেজো ছেলে ও বড় ছেলে তাদের দুজনের বিয়ে হয়ে গেছে একজনের তিন পুত্র ও কন্যা রয়েছে আরেকজনের দুটো পুত্র ও কন্যা। দেখতে দেখতে ৫ ই জুলাই ঘটনার পর পাঁচ মাস পড়লো। এখনো নিহত ইন্দ্রজিৎ মন্ডল এর মা অনিমা মন্ডল বাড়িতে কেউ এলে ডুকরে কেঁদে ওঠেন। ভাবেন আমার ছেলে বুঝি এই এলো। কিন্তু সেই দিনের ঘটনা অর্থাৎ ৫ই জুলাই যেভাবে তার ছোট ছেলে ইন্দ্রজিৎ মন্ডল কে তার বাড়ির সামনে গণপিটুনিতে মারা হয় তা তিনি কখনো ভুলবেন না।

সেই সমস্ত সমাজ বিরোধীরা যারা সেদিন কে তার ছোট ছেলে ইন্দ্রজিৎ মন্ডল কে মারধর করে তখন তার বাবা অজিত মন্ডল কাছে ছিল তাকে বাঁচাতে গেলে কয়েকজন সমাজ বিরোধীরা তার বাবার একটা কানে সজোরে চড় মারে সেখান থেকে আজও পর্যন্ত তার বাবার সেই কান টি অবশ আছে এখনো ভালো করে শুনতে পায় না সেদিনকার তার কানের চড় মারার ঘটনা এখনো তার মাঝেমধ্যে চিৎকার করে ওঠে। সূর্যপুরের একটি নাবালিকা মেয়ের ছিল শ্রীলতা হানি ঘটনায় গত তিনদিন ধরে যথেষ্ট উত্তেজানা ছিল । সেই ঘটনার পুলিশ বহু সমাজবিরোধীকে অ্যারেস্ট করে অনেকে এখনো জেল খাটছে। সেই ঘটনা ঘটার ১৫ দিনের মধ্যে ঘটনাস্থলে মুখ্যমন্ত্রী আসেন অনিমা মন্ডল ও অজিত মন্ডল সাথে দেখা করে তাদেরকে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। শুধু আশ্বাসি দেননি নিহত ইন্দ্রজিৎ মন্ডলের সিভিকের চাকরির নিয়োগ পত্র দেন ও তাদের পরিবারের হাতে কয়েক লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেন তারাই যাতে দুবেলা তাদের কোন খাওয়া-দাওয়া ও চিকিৎসা করাতে কোন অসুবিধা না হয়।
এমনকি দুষ্কৃতিরা তাদের যে বাড়ি ঘর ভেঙে ফেলেছিল সেগুলো নতুন করে বারুইপুর ভিডিও ও জয়েন ভিডিও ঘটনাস্থলেই দাঁড়িয়ে থেকে পুরো বাড়িটি মেরামত করে দেন। ইন্দ্রজিৎ মন্ডলের মা আরো জানান ছেলে খুব ভীতু ছিল খুব একটা বাইরে বের হতো না। এই পুজো আসছে ভেবে মায়ের মনটা ডুকরে কেঁদে ওঠে। কি হবে এসব পোশাক আসাক পড়ে যেখানে আমাদের এই ছোট ছেলে কমাস আগে মারা গিয়েছে আমাদের কোন কিছু আর ভালো লাগেনা। ওই বাড়ির পাশেই একটি মাঠে পুজো প্যান্ডেল আছে সেখানে ঠাকুর দেখতে যেত এই ইন্দ্রজিৎ মন্ডল কিন্তু বেশিক্ষণ সেখানে থাকত না আবার তিনি বাড়ি চলে আসতো। পাশেই সূর্যপুর বাজারে যেখানে দুর্গাপূজা মন্ডপ তৈরি হয়েছে সেখানে তাদের সাথে কথা বলে জানা গেল ইন্দ্রজিৎ মন্ডল এর মত আর কোন ছেলে হয় না তিনি এত শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিল। সেই পাড়ার ও ক্লাবের ছেলেরা জানায় এবছর পুজোয় তাদের তাদের মনটা একটু খারাপ হবে কারণ ইন্দ্রজিৎ মন্ডল আর এই পূজা মন্ডপে আসবে না। ছবিটার দিকে তাকিয়ে তারমা অনিমা মন্ডল বারবার হাত বুলিয়ে কেঁদে ওঠে। আমার আরো দুই ছেলে থাকলেও ছোট ছেলে আমাদের নয়নের মনি তাকে কোনভাবে তারা ভুলতে পারছে না। তার বাবা অজিত মন্ডল ভুলে গেল তার মা অনিমা মন্ডল কোনভাবেই ভুলছে না।