গ্রেফতার শতদ্রু দত্ত

লিওনেল মেসিকে (Lionel Messi) একঝলক দেখার জন্য সকাল থেকেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ভিড় জমিয়েছিলেন প্রচুর দর্শক। সূচী অনুযায়ী ফুটবলের রাজপুত্র এলেন মাঠে, কিন্তু মিনিট পাঁচেক ঘুরেই মাঠ ছাড়লেন তিনি। আসলে বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারকে ঘিরে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের জন্য হাজার হাজার টাকা দিয়ে যাঁরা টিকিট কেটে গ্যালারিতে ছিলেন, তাঁরাই দেখতে পেলেন না মেসিকে। আর সেই কারণে চুড়ান্ত বিশৃঙ্খলার ছবি দেখা গেল যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। মেসিকে দেখতে না পেয়ে হতাশ ভক্তরা গ্যালারি তো তছনছ করেছেই, এছাড়া মাঠে ঢুকে গোলপোস্টের জাল ছিঁড়ে তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে।

আর গোটা বিষয়টির জন্য মেসি ইন্ডিয়া ট্যুরের আয়োজক শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। সল্টলেক স্টেডিয়ামে থেকেই গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার এবং এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম এই পুরো ঘটনার তদন্ত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁদের মতে, ইতিমধ্যেই অসংখ্য অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আর এরজন্য সরাসরি আয়োজকদের দিকেই আঙুল তুলেছেন। পাশাপাশি, ক্ষুব্ধ দর্শকদের টিকিট বাবদ টাকা দ্রুত ফেরত দেওয়ার জন্য আয়োজকদের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই শতদ্রু দত্তের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। মেসি বিমানে ওঠার পর মুহূর্তেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারির পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তাঁকে। এই জিজ্ঞাসাবাদে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে কী ধরনের গাফিলতি ছিল, এবং কেন দর্শকরা মেসিকে প্রায় দেখতেই পাননি, সেই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে।

মেসির কলকাতা সফরে ছিল যুবভারতীয় স্টেডিয়ামে দর্শকদের সঙ্গে দেখা করা। সূচি অনুযায়ী সকাল ১১টা নাগাদ আসার কথা ছিল মেসির। তবে তার আগেই স্টেডিয়ামের বাইরে ও ভেতরে ভিড় জমিয়েছিলেন অসংখ্য দর্শক। নির্ধারিত সময় থেকে কিছুটা পরেই এলেন ফুটবলের রাজপুত্র। তবে তখন মেসিকে ঘিরে ছিলেন নিরাপত্তা কর্মী, ম্যানেজমেন্ট, ও রাজ্যের আমলা, মন্ত্রীরা। মেসি যখন বেরিয়ে যান তখন শাহরুখের কনভয় ছিল স্টেডিয়ামের কাছেই। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু বিশৃঙ্খলার খবর পেয়েই কনভয়ের অভিমুখ ঘুরিয়ে দেন তিনি।