ইরান থেকে ভারতীয়দের ফেরানোর আশ্বাস জয়শঙ্করের

“আমরা মনে করি, উত্তেজনা কমানোর একমাত্র পথ সংলাপ ও কূটনীতি। উপসাগরীয় দেশগুলিতে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় বাস করেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সবরকম চেষ্টা করছে বলে সোমবার সংসদে জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar). তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই রয়েছে এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকুক— সেটাই চায় নয়াদিল্লি।

রাজ্যসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর জানান, ইরান,যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের সংঘাতের ফলে গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। আমরা মনে করি, উত্তেজনা কমানোর একমাত্র পথ সংলাপ ও কূটনীতি। উপসাগরীয় দেশগুলিতে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় বাস করেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”

এর আগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে (Mallikarjun Kharge) সংসদে এই সংঘাতের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত ভারতীয়দের জীবন-জীবিকা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের উপর এই যুদ্ধের বড় প্রভাব পড়তে পারে।

বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য, “এই সংঘাতে ইতিমধ্যেই বহু প্রাণহানি হয়েছে। ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের মৃত্যুর পর থেকে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সব দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান জানানো জরুরি।”

জয়শঙ্কর জানান, “গত ১ মার্চ এই পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছে মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটি (সিসিএস)। সেই বৈঠকে মূলত মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের উপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।”

বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য, “এই অঞ্চল থেকেই ভারতের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস সরবরাহ হয়। উপসাগরীয় দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যের পরিমাণ বছরে প্রায় ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।”

জয়শঙ্কর আরও জানান, “সংঘাতে ইতিমধ্যেই দুই ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি আঁচ করে ভারত সরকার আগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ৫ জানুয়ারি বিদেশ মন্ত্রক ভারতীয় নাগরিকদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে ইরান সফর না করার পরামর্শ দিয়েছিল। সেখানে বসবাসকারী ভারতীয়দের দূতাবাসে নাম নথিভুক্ত করতে এবং সতর্ক থাকতেও বলা হয়েছিল। পরে ১৪ জানুয়ারি একই ধরনের আর একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়। এর পাশাপাশি জাহাজ পরিবহণ সংস্থাগুলিকেও ওই অঞ্চলে ভারতীয় কর্মী না পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস আবারও ভারতীয় নাগরিকদের— বিশেষ করে ছাত্র, হজযাত্রী, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের  যত দ্রুত সম্ভব ইরান ছাড়ার অনুরোধ জানায়।

তবে অনেকেই সেই পরামর্শ উপেক্ষা করে সেখানে থেকে গিয়েছেন।”

সংঘাত শুরু হওয়ার পরে দূতাবাসের উদ্যোগে তেহরানে থাকা বেশ কিছু ভারতীয় ছাত্রকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আটকে পড়াদের সাহায্যের জন্য হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে।

বিদেশমন্ত্রী জানান, “আকাশপথ আংশিকভাবে খুললে বাণিজ্যিক উড়ানের মাধ্যমেও ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাঁরা সেখানে আটকে রয়েছেন বা জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরতে চান, তাঁদের ফিরিয়ে আনতে সব রকম চেষ্টা করছে সরকার। শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে ভারত বরাবরই সওয়াল করে এসেছে। একইসঙ্গে বিদেশে বসবাসকারী ভারতীয়দের নিরাপত্তা, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যিক স্বার্থ— এই তিনটি বিষয়ই সরকারের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।”