তারাতলা-কাণ্ডে ফের চাপানউতোর, ফিরহাদের গ্রেফতারির দাবি।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪। আহত অন্তত ১৯। এই বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। গুদাম নির্মাণের অনুমোদন নিয়ে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নাম সামনে আসতেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। যদিও সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ফিরহাদ।
বৃহস্পতিবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ধসে পড়া ওই বহুতলের অনুমোদিত নকশায় কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। এর পরেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা ফিরহাদ। তাঁর বক্তব্য, কোনও মেয়রেরই বিল্ডিং প্ল্যানে স্বাক্ষর করার ক্ষমতা বা দায়িত্ব নেই।
সংবাদমাধ্যমকে ফিরহাদ বলেন, ‘‘মেয়র কোনও বিল্ডিং প্ল্যানে সই করেন না। কোনও মেয়রই নির্মাণ সংক্রান্ত খুঁটিনাটি দেখেন না।’’ তাঁর দাবি, পুরসভার নির্দিষ্ট বিভাগই সমস্ত নথি যাচাই করে অনুমোদন দেয়।
তবে বিষয়টি নিয়ে দলীয় অবস্থানের মধ্যেও ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের গলায়। তিনি বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানকে আমরা সম্পূর্ণ সমর্থন করি। কিন্তু শুধু চার-পাঁচ জনকে গ্রেফতার করে দায় সারা যাবে না। যাঁরা উচ্চপদে ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী যদি বলে থাকেন, বিল্ডিং প্ল্যানে প্রাক্তন মেয়রের স্বাক্ষর রয়েছে, তা হলে তাঁকেও গ্রেফতার করা হোক। শুধুমাত্র রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য এ ধরনের নথি ব্যবহার করা উচিত নয়।’’
এ দিকে, দুর্ঘটনার পর কড়া পদক্ষেপ করেছে কলকাতা পুরসভা। বুধবার রাতে জারি হওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার ১ থেকে ১৬ নম্বর বরোর আওতায় সমস্ত নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হবে। পুর আইনের ৩৭ নম্বর ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করেই এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে বলে পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে।
পুরসভার বক্তব্য, তারাতলার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বহু শ্রমিকের মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনার পর জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্য দিকে, তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দায়ের হওয়া এফআইআরে নাম থাকা চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, এফআইআরে নাম না থাকা আরও এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এবং গোয়েন্দা বিভাগ যৌথ ভাবে কাজ করছে।