রাজ্যের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision) কবে হবে সেটা এখনও নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেয় নি, তবে SIR যে হবেই সেটা নিশ্চিত। কিন্তু নিবিড় সংশোধন হওয়ার আগেই কমিশনের প্রথাগত ভোটার তালিকা সংশোধন (যা প্রায় সারা বছর জুড়েই হতে থাকে)-এর সময়েই কমিশনের নজরে এসেছে এমন এক তথ্য যা বেশ চমকপ্রদ। রাজ্যের ২৯৪ আসনেই কম বেশি ভুয়ো ভোটার থাকলেও সবচেয়ে বেশি ভুয়ো ভোটার রয়েছে এমন বিধানসভার সংখ্যা প্রায় ১০০ টি।

সঞ্জু সুর, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনে এরাজ্যে ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা নির্বাচন কমিশনের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিহারের কথা মাথায় রাখলে বলতে হয় নির্বাচন কমিশন এই ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন এর উপর। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বাধা বা সমালোচনা যাই হোক না কেন, এরাজ্যেও SIR শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি প্রায় সেরে ফেলেছে সিইও (Chief Electoral Officer) দফতর। কিন্তু এসআইআর যখন হবে তখন হবে। আপাতত নিয়মিত যোগ-বিয়োগের প্রক্রিয়ায় যে অসঙ্গতি (ভোটার তালিকায়) কমিশনের চোখে ধরা পড়েছে তাতে একটা নির্দিষ্ট ধারার দিকেই আঙুল তুলছেন তাঁরা।

সিইও দফতরের আধিকারিকরা এই ভোটার তালিকার কাজ (প্রথাগত যোগ বা বিয়োগ) করতে গিয়ে দেখেছেন রাজ্যের ২৯৪ টি বিধানসভা আসনের প্রায় প্রতিটি তেই ভুয়ো বা অবৈধ ভোটারের নাম রয়েছে। এই নাম থেকে যাওয়া কিছুটা ইচ্ছাকৃত, অনেকটাই অনিচ্ছাকৃত। ভুয়ো নাম থেকে যাওয়ার ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে যে কেউ মারা যাওয়ার পর বা স্থায়ীভাবে অন্য রাজ্য বা দেশে চলে যাওয়ার পরেও তার নাম ভোটার তালিকা থেকে কাটানো হয় নি। অবৈধ ভোটারদের নামের ক্ষেত্রে অবশ্য বিষয়টি সম্পূর্ণভাবেই ইচ্ছাকৃত হয়েছে বলেই মত সিইও দফতরের আধিকারিকদের। তবে সার্বিক বিচারে এই সংখ্যাটা (ভুয়ো বা অবৈধ ভোটার) নগণ্য। কিন্তু কমিশনের গোচরে আসা একটি তথ্য বিশ্লেষণ করে সিইও দফতর দেখছে এই আপাত ‘নগণ্য’ ভুয়ো বা অবৈধ ভোটার অনেকটাই বেশি হয়ে গিয়েছে রাজ্যের বেশ কিছু বিধানসভা এলাকায়। এই কাজে নিযুক্ত সিইও অফিসের কর্মকর্তাদের মতে, রাজ্যের ১০০ টি বিধানসভা এলাকায় অস্বাভাবিক হারে ভুয়ো বা অবৈধ ভোটার এর উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।

কমিশনের কর্তারা তথ্য ঘাঁটতে গিয়ে দেখছেন যে রাজ্যের কয়েকটি জেলায় এমন ঘটনা (তালিকায় ভুয়ো ভোটার থাকা) অপেক্ষাকৃত অনেক কম। এই তালিকায় থাকা জেলাগুলি হলো কলকাতা উত্তর ও দক্ষিণ, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, দার্জিলিং, কালিম্পং প্রভৃতি। আবার মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দক্ষিণ ২৪ পরগনা, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর প্রভৃতি জেলায় এই সমস্যা (ভুয়ো ভোটার) মাত্রাতিরিক্ত বেশি। দেখা যাচ্ছে রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ভুয়ো বা অবৈধ ভোটারের সংখ্যা অনেক অনেক বেশি অন্যান্য জেলাগুলি থেকে। আরেকটি অ্যালার্মিং তথ্য কমিশনের হাতে এসেছে। সরাসরি সীমান্তবর্তী জেলা না হয়েও পূর্ব-পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি বা বীরভূমেও সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের অবৈধ ভোটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কমিশনের অনেকের মত, নিয়মিত তালিকা যোগ-বিয়োগেই যখন এই গড়মিল চোখে পড়ছে, তাহলে SIR হলে সার্বিক গড়মিলের চেহারা আরো বেশি করে সামনে আসবে। তবে কমিশনের আধিকারিকরা একটা বিষয়ে একমত যে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতেই এই সমস্যা (ভুয়ো বা অবৈধ ভোটার) সবচেয়ে বেশি।