বৃদ্ধ বাবা-স্ত্রীকেও মারধরের অভিযোগ! ডায়মন্ড হারবারে আক্রান্ত বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে ফের রাজনৈতিক সংঘর্ষের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি শান্তনু মণ্ডল ও তাঁর পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ডায়মন্ড হারবার ২ নম্বর ব্লকের সরিষা এলাকায়। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা দিবাকর হালদার। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার পঞ্চায়েতের তরফে জব কার্ড ভেরিফিকেশনের কাজ চলছিল এলাকায়। সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তথ্য যাচাই করতে পঞ্চায়েতের আধিকারিকরা সরিষা এলাকায় পৌঁছেছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় এলাকায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি শান্তনু মণ্ডল। ঠিক সেই সময় তৃণমূল নেতা দিবাকর হালদার তাঁর অনুগামীদের নিয়ে সেখানে হাজির হন। এরপরই শুরু হয় বচসা, যা পরে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় পরিণত হয় বলে অভিযোগ।
বিজেপি নেতা শান্তনু মণ্ডলের অভিযোগ, কোনও প্ররোচনা ছাড়াই তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। প্রথমে তাঁকে ঘিরে ফেলে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও নিশানা করা হয়। বিশেষ করে তাঁর বৃদ্ধ বাবা এবং স্ত্রীকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন শান্তনু। ঘটনায় তিনজনই আহত হন। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, হঠাৎ করেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শান্তনু মণ্ডল, তাঁর বৃদ্ধ বাবা ও স্ত্রী চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। চিকিৎসকরা তাঁদের শারীরিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ করছেন। পরিবারের দাবি, মারধরের ঘটনায় মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছেন তাঁরা।

শান্তনু মণ্ডল অভিযোগ করেছেন, এটি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত বিবাদ নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হামলা। তাঁর দাবি, এলাকায় বিজেপির সংগঠন শক্তিশালী হওয়ায় তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমাদের উপর পরিকল্পনা করে হামলা করা হয়েছে। শুধু আমাকে নয়, আমার বৃদ্ধ বাবাকেও রেহাই দেওয়া হয়নি। আমার স্ত্রীকেও মারধর করা হয়েছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এই ঘটনার পর শান্তনু মণ্ডল ডায়মন্ড হারবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত দিবাকর হালদার এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলা হতে পারে। প্রয়োজন হলে সিসিটিভি ফুটেজ বা অন্যান্য প্রমাণও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবার এলাকায় বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উপর বারবার হামলা চালানো হচ্ছে এবং প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই হামলা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন করার চেষ্টা চলছে।
যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা দিবাকর হালদার বা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের তরফে কী ব্যাখ্যা সামনে আসে, সেদিকেও নজর রয়েছে।
বর্তমানে সরিষা এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে প্রশাসন। নতুন করে যাতে উত্তেজনা না ছড়ায়, তার জন্য এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে এই ঘটনায় রাজনৈতিক আবহ আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলেই মনে করছে স্থানীয় মহল।
ডায়মন্ড হারবারের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের সংঘর্ষের অভিযোগ নতুন নয়। তবে একজন প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি এবং তাঁর পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। এখন পুলিশের তদন্তে কী উঠে আসে এবং প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ।