ষড়যন্ত্র করে ছেলেকে খুন করা হয়েছে

ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করে অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের দাবি মৃতের পরিবারের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : মধ্যমগ্রামের কাছে শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে খুনের ঘটনায় ক্রমশ তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক তরজা। মৃতের মা হাসিরানি রথ সরাসরি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানালেন। একইসঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। যদিও ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসও।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হাসিরানি রথ। তিনি বলেন, “আমি মা হয়ে কারও ফাঁসি চাই না। কিন্তু যারা আমার ছেলেকে এভাবে মেরেছে, তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হোক।”

হাসিরানি জানান, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তাঁদের পরিবারকে টার্গেট করা হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, “আমাদের নেতারা বারবার শান্তি বজায় রাখার কথা বলছিলেন। কিন্তু শাসকদলের লোকজন হুমকি দিচ্ছিল, ৪ তারিখের পর দিল্লির বাবারাও বাঁচাতে পারবে না। তারপরই এই ঘটনা ঘটল।”

মৃত চন্দ্রনাথের মায়ের পাশাপাশি ভাই দেবকুমারও ঘটনার পিছনে গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর কথায়, “দুপুর দু’টো পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তারপর কলকাতার উদ্দেশে বেরিয়েছিল। কারও সঙ্গে ওর ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিল না। যারা এই চক্রান্ত করেছে, তাদের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।”

বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের কাছে গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মোটরবাইকে এসে খুব কাছ থেকে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তারপর দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “পরিকল্পনা করেই খুনটা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।”

ঘটনায় সরব হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীও। তিনি এই হত্যাকাণ্ডকে “ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পিত খুন” বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “দু’-তিন দিন ধরে রেইকি করে এই হামলার ছক কষা হয়েছিল।” একইসঙ্গে বিজেপি কর্মীদের শান্ত থাকার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য প্রশ্ন তুলেছেন, “এটা কি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে? নাকি প্রতিহিংসার রাজনীতি?” তাঁর দাবি, “খুনিরা এমন গাড়ি ব্যবহার করেছে যার নম্বর প্লেট বদলে দেওয়া হয়েছিল। তারপর রাস্তা আটকে গুলি চালানো হয়।”

যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। ফলে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হচ্ছিলই। এবার পরিস্থিতি ক্রমে আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।