পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বিদায় আশাকে

সুরের জগতের এক ঐতিহাসিক যুগের অবসান। প্রয়াত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রবিবারই প্রয়াত হয়েছেন কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। সোমবার সকালে মুম্বইয়ে তাঁর বাসভবনে তিরঙ্গায় মোড়া দেহ শায়িত রাখা হয়। সেখানেই তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঘেরা সেই দৃশ্য যেন ভারতীয় সংস্কৃতির এক যুগের পরিসমাপ্তির প্রতীক। পরিবার, চলচ্চিত্র জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, প্রশাসনিক আধিকারিক থেকে শুরু করে অসংখ্য অনুরাগীরা উপস্থিত ছিলেন তাঁদের প্রিয় শিল্পীকে শেষবারের মতো দেখতে। পরিবেশ ছিল নিস্তব্ধ, ভারাক্রান্ত; নীরব প্রার্থনায় ভরে ওঠে চারপাশ।

সোমবার বিকেল ৪টা নাগাদ মুম্বইয়ের শিবাজী পার্কে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

আশা ভোঁসলের সঙ্গীতজীবন ছিল বিস্ময়কর দীর্ঘ এবং একাধিক মাত্রাবিশিষ্ট। আট দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সঙ্গীতকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। শাস্ত্রীয় সংগীত, গজল, ভজন থেকে ক্যাবারে কিংবা আধুনিক পপ—প্রতিটি ধারাতেই ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ। তাঁর কণ্ঠে রেকর্ড হওয়া গানের সংখ্যা তাঁকে এনে দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের স্বীকৃতি।

দিদি লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে মিলে তিনি হিন্দি চলচ্চিত্র সংগীতের স্বর্ণযুগ নির্মাণ করেছিলেন। তাঁদের কণ্ঠে সুর পেয়ে অসংখ্য গান আজও শ্রোতার হৃদয়ে অম্লান। পাশাপাশি সুরকার আরডি বর্মণের সঙ্গে আশার সৃষ্টিশীল সহযোগিতা ভারতীয় সংগীতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। পরবর্তীকালে তাঁদের ব্যক্তিগত দাম্পত্য সম্পর্কও গড়ে ওঠে।

শিল্পী হিসেবে সময়ের সঙ্গে নিজেকে বদলে নতুন করে গড়ে তোলার বিরল ক্ষমতা ছিল আশার। আন্তর্জাতিক শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করে তিনি ভারতীয় সংগীতকে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠা করেছেন।

পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকরের কন্যা আশা ভোঁসলে ছোটবেলাতেই সংগীতজীবন শুরু করেন। বাবার মৃত্যুর পর প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই তৈরি হয় তাঁর সংগ্রামের পথ, যা পরবর্তীতে পরিণত হয় এক অনন্য সাফল্য হয়ে আলোকিত করেছে তাঁর জীবন।

আশা ভোঁসলের প্রয়াণ শুধুমাত্র এক শিল্পীর বিদায় নয়। বিদায় নিল ভারতীয় সংগীতের এক অমূল্য অধ্যায়। তাঁর কণ্ঠস্বর, তাঁর গান—চিরকাল বেঁচে থাকবে শ্রোতার হৃদয়ে।