বজ্রপাতে প্রাণ হারালেন কৃষক

অনুপ চট্টোপাধ্যায়, নিজস্ব সংবাদদাতা: পুজো শেষ হতে না হতেই বঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। দশমী থেকেই নিম্নচাপের প্রভাব পড়েছে বঙ্গে। একাধিক জায়গায় ভারী বৃষ্টির ফলে জল দাঁড়িয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় আবার বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিও হচ্ছে। বজ্রপাতের ফলে প্রাণ হারাচ্ছেন বহু মানুষ। গোঘাট ১ নম্বর ব্লকের রঘুবাটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ধানের জমিতে কীটনাশক স্প্রে করতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারালেন এক কৃষক। চাষির মৃত্যুতে গোঘাট ১ নম্বর ব্লকের রঘুবাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের গোলপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত কৃষকের নাম চন্দ্রশেখর কুণ্ডু।

স্থানীয় সূত্রে খবর, শনিবার সকালের দিকে ধান চাষের জমিতে কীটনাশক দেওয়ার জন্য মাঠে গিয়েছিলেন চন্দ্রশেখরবাবু। তখনই হঠাৎ করে বৃষ্টি নামতে শুরু করে। বৃষ্টির সঙ্গে শুরু হয় প্রবল বজ্রপাত। বিকট শব্দে বজ্রপাতের পরই হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন চন্দ্রশেখরবাবু। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

কিছুক্ষণ পর স্থানীয় বাসিন্দারা মাঠের দিকে গেলে তাঁদের নজরে আসে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে উদ্ধার করে আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চন্দ্রশেখরবাবুকে।

প্রান্তিক কৃষক চন্দ্রশেখর কুণ্ডুর আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবার সহ গোটা গ্রামে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন,  চন্দ্রশেখরবাবু একজন অভিজ্ঞ ও পরিশ্রমী কৃষক ছিলেন। এইভাবে তাঁর মৃত্যু একেবারেই মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।

বর্তমান সময়ে গাছ কাটার ফলে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। পাল্লা দিয়ে বেড়েছ প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং প্রাণহানির সংখ্যা। প্রতিবছর বজ্রাঘাতের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে একদিনেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে ১৫ জনের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। একই বছরে এপ্রিলে তিনজন মারা গিয়েছিলেন। এইধরণের মৃত্যু ঠেকাতে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী বজ্রপাত ও ঝোড়ো আবহাওয়ার জন্য সতর্ক থাকা উচিত। কৃষকদের মতো যারা খোলা মাঠে কাজ করেন, তাঁদের বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। আরও বেশি করে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।