বিজেপি শাসিত রাজ্য মধ্যপ্রদেশে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে ৩৪ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৮ জনের। আবার বাম শাসিত রাজ্য কেরলে ৮ লক্ষ ৯৭ হাজার ২১১ জনের নাম বাদ পড়েছে।

নাজিয়া রহমান, সাংবাদিক : বিহারের পরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজ শুরু করেছিল কমিশন। যার মধ্যে রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, কেরল সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা ২৮ ফেব্রুয়ারি। যে সমস্ত রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে সেখানে দেখা যাচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্য মধ্যপ্রদেশে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়েছে ৩৪ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৮ জনের। আবার বাম শাসিত রাজ্য কেরলে ৮ লক্ষ ৯৭ হাজার ২১১ জনের নাম বাদ পড়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা। এখন প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গে কত নাম বাদ যেতে পারে? কমিশন সূত্রের খবর, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর আনম্যাপড ও লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি-র জন্য শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছিল প্রায় ১.৫১ কোটি ভোটারকে। সূত্র মারফত, যা জানা গেছে- মাইক্রো অবজার্ভার এবং রোল-পর্যবেক্ষকদের প্রস্তাবিত পুনর্যাচাইয়ের তালিকায় প্রায় ৭১.৭১ লক্ষ ভোটারের নাম রয়েছেন। আবার প্রায় ১.১৪ লক্ষ ভোটারের তথ্য কমিশনের পোর্টালে ইআরও-এইআরওরা দুবার সময়বৃদ্ধির পরেও আপলোডই করতে পারেনি। সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরে অবশ্য সেই তথ্য আর আপলোড করা যাবে না। ফলে অসমাপ্ত রয়েছে অনেক কাজ। পাশাপাশি,শুনানির জন্য নোটিস পাঠানো মোট ভোটারের মধ্যে শুনানিতে যাননি বা উপস্থিত থাকেননি প্রায় ৪.৪৮ লক্ষ ভোটার।
ফলে এই সংখ্যক ভোটারের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে আগেই বাদ সেটা ধরে নিতে হবে। এরপর ইআরও-এইআরওদের বিচারে এর মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকার জন্য ‘অযোগ্য’ হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন প্রায় ১১.৫৮ লক্ষ ভোটার। ফলে এই সংখ্যক ভোটারের নামও থাকার কথা নয় চূড়ান্ত ভোটার তালিকায়। অন্যদিকে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দেখা গেছে এএসডিডি-র তালিকাভুক্ত হয়ে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ হয়েছে। সেই হিসাবে চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৭৪ লক্ষ নাম না থাকারই সম্ভাবনা। যারমধ্য সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তবে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরে নতুন ভোটার হিসাবে (ফর্ম-৬ দাখিল করে) নাম তোলার আবেদনে বাধা নেই। তাই এই ৭৪ লক্ষের মধ্যে কত নাম ফের তালিকাভুক্ত হবে, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। এর পর জটিলতায় থাকা ভোটারদের নিষ্পত্তিতে কত নাম তালিকাভুক্ত হয় বা বাদ যায়, চর্চা রয়েছে তা নিয়েও। অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ। কিন্তু এখনও জটিলতা বর্তমান। এই জটিলতা কাটানোর দায়িত্বে এখন জুডিশিয়াল আধিকারিকেরা। সূত্র মারফত যেটা জানা গেছে- এসআইআরের পদ্ধতি, এত দিন ধরে কী এবং কী ভাবে কাজ হয়েছে, জট কোথায় এবং কেন ইত্যাদি জানানো হয়েছে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের। কি ভাবে এই জটিলতার নিষ্পত্তি হবে তা নিয়ে চলছে আলাপ আলোচনা। যা জানা গেছে, ভার্চুয়াল মাধ্যমে জুডিশিয়াল আধিকারিকদের কমিশন প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর কাজ শুরু করা যাবে। আপাতত স্থির রয়েছে, জেলাভিত্তিক ভাবে এক জন করে জেলা বিচারকের নেতৃত্বে অতিরিক্ত জেলা বিচারকেরা এই জটিলতা নিষ্পত্তির কাজটি করবেন।
বিপুল সংখ্যক ভোটারের যোগ্যতার নিষ্পত্তি করতে হবে, যা নিয়ে একটা জটিলতা তৈরি হয়েছে । ফলে ঠিক কত সংখ্যক ভোটারের নথি বিচার বিভাগীয় আধিকারিক যাচাই করতে হবে, তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে প্রশাসন এবং কমিশনের অন্দরে। এ দিকে, হাতে খুব বেশি সময় নেই। ২৮ ফব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এই অবস্থায় লক্ষ লক্ষ ভোটারের নথির চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে ঠিক কতটা সময় লাগতে পারে, তা নিয়েও একটা গুঞ্জন শুরু হশেছে। ২২ফেব্রুয়ারি রবিবার কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল, বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী, বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পান্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের উপস্থিতিতে যাচাইয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সঙ্গে একপ্রস্ত একটি বৈঠক সেরেছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। এই বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের বিশেষ দফতরের আধিকারিকেরা। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ রোল-পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তও।
দ্রুত এই কাজের নিষ্পত্তির জন্য কমিশনের তরফ থেকে পৃথক একটি পোর্টাল থাকছে। সেখানে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকেরা নিজেদের ফোন নম্বর দিয়ে লগ-ইন করবেন। অর্থাৎ, প্রত্যেক আধিকারিক কোন নথির ভিত্তিতে কোনও ভোটারকে যোগ্য-অযোগ্য বেছে নিচ্ছেন, তা ধরা থাকবে ডিজিটাল মাধ্যমে। অন্যদিকে শুনানি কেন্দ্রগুলিতে থাকছে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা। নথি যাচাই-এর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা যাতে প্রকাশ করা হয় তার জন্য বিধানসভা ধরে ধরে এই কাজের নিষ্পত্তি করা হতে পারে বলে জানা গেছে।