চোখ রাঙাচ্ছে বন্যা!

২০২৫ সালে অক্টোবরে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টিপাতের ফলে ভয়াবহ বন্যা এবং ধস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : আগামীতে চরম ভারী বৃষ্টির সতর্কতা দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে। ফের কি তবে বন্যার কবলে পড়তে চলছে উত্তরবঙ্গবাসী। ২০২৫ সালের স্মৃতিটা এখনও টাটকা। অক্টোবরের শুরুতে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে ভয়াবহ বন্যা এবং ধস পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেবছর পুরো অঞ্চল জুড়ে ৩৫ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। বিশেষ করে মিরিক মহকুমায় ধসের কারণে ১৭ জনের মৃত্যু হয়। প্রায় ৬,০০০-এরও বেশি পরিবার এই বিপর্যয় দ্বারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।এবছরও বর্ষার আগমনে সেই একই প্রবনাতা দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গে দুর্যোগ বাড়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। দক্ষিণের জেলাগুলিতে বর্ষার বৃষ্টি চললেও উত্তরের পরিস্থিতি ভয়াবহ। জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। ঠিক কি কি হতে চলেছে? কেনও বর্ষা এলেই বন্যা বা ভূমিধসের আতঙ্ক দেখা যায়? দক্ষিণবঙ্গ কতটা সুরক্ষিত?

২৪ ঘণ্টায় ২০০ মিমি-র বেশি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে। কালিম্পং, কোচবিহারেও অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টি হতে পারে উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদহে।পাহাড় এবং ডুয়ার্সে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। পাহাড়ে ফের ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে লাগাতার বৃষ্টিতে। হড়পা বানের ভয়ও রয়েছে। তাই স্থানীয় বাসিন্দাদের পাহাড়ি নদী থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এখন সাধারন মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে,তাহলেকি গত বছরের ভয়াবহতার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে?এই বিষয়ে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম পরিবেশবিদ সুজীব করের সঙ্গে। একই সুর শোনা গেল তার গলাতেও।

উত্তরবঙ্গের পার্বত্য অঞ্চলে ভূমিক্ষয় একটি অত্যন্ত গুরুতর ও উদ্বেগজনক পরিবেশগত সমস্যা।পার্বত্য অঞ্চলের ঢাল বেশি এবং মাটি আলগা। বর্ষাকালে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, হিমবাহ গলা জল এবং ভুটান থেকে নেমে আসা খরস্রোতা নদীগুলোর তীব্র স্রোত ভূমিক্ষয় ও ধস ত্বরান্বিত করে। দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিকের মতো এলাকাগুলোতে প্রবল বর্ষণের ফলে ভয়াবহ ভূমিধস ঘটে, যা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে। উত্তরেবঙ্গের হিমালয় অঞ্চলের দার্জিলিং-সিকিম হিমালয় ভারতীয় ও ইউরেশীয় পাতের সংঘর্ষের ফলে একাধিক জটিল চ্যুতি বা ‘ফল্ট’ এবং ‘থ্রাস্ট’ তৈরি হয়েছে। এই ভূতাত্ত্বিক কাঠামোর কারণে পুরো অঞ্চলটি অত্যন্ত ভূমিকম্প প্রবণ ও ধসপ্রবণ হয়ে উঠেছে, জানান পরিবেশবিদ।

উত্তরবঙ্গের ভয়াবহতার অন্যতম কারন নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া। পলি জমে তিস্তা,তোর্ষার মত নদিগুলি গভীরতা হারিয়েছে। তাই বর্যা হলে অতিরিক্ত জল ধরে রাখার ক্ষমতা না থাকায় ফুলে ফেঁপে ওঠে নদিগুলি। অতিরিক্ত বষ্টিতে বন্যার আকার নেয় নদিজল।যা উত্তরবঙ্গের জন্য আতঙ্কের বিষয় বলে জানান সুজীববাবু।

দিন কয়েক আগে বাংলায় নিম্নচাপের সতর্কতা জারি হয়েছিল। তবে হাওয়া অফিস জানিয়ে দিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গে এই মুহূর্তে কোনও দুর্যোগের সম্ভাবনা নেই। নিম্নচাপটি পূর্ব মধ্যপ্রদেশে সরে গিয়েছে। উত্তর-পূর্ব আরব সাগর থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত আরো একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা। এই অক্ষরেখা গুজরাটের পর মধ্যপ্রদেশের নিম্নচাপ এলাকার হয়ে ছত্রিশগড় ঝাড়খন্ড এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের ওপর দিয়ে বিস্তৃত। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে,কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।ছোটনাগপুর এলাকায় ভারি বৃষ্টিপাত হবে বলে জানানো হয়েছে।

সবমিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গে আপাতত বড়সড় দুর্যোগের সম্ভাবনা না থাকলেও উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি আরও জোরদার হতে চলেছে। তাই একটু ভবনাচিন্তা করে উত্তরবঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করুন।