ফ্রান্সের এই গ্রুপেই লুকিয়ে গ্রুপ অফ ডেথ !

একটি ভুলই হতে পারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের কারণ।

রিয়া দাস, সাংবাদিক : বিশ্বকাপ মানেই তো একটা আবেগ। প্রতি চার বছর অন্তর বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর চোখ থাকে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের দিকে। বিশ্বকাপের আলোচনায় শুধু তারকা ফুটবলার কিংবা শিরোপার দাবিদার দলগুলোই নয়, বিশেষ গুরুত্ব পায় গ্রুপ পর্বের লড়াইও। কারণ অনেক সময় এমন কিছু গ্রুপ তৈরি হয় যেখানে প্রতিটি দলই এতটা শক্তিশালী থাকে যে শুরু থেকেই নিশ্চিত হয়ে যায় কোনো না কোনো বড় দলকে বিদায় নিতে হবে। ফুটবল বিশ্বে এই ধরনের গ্রুপই পরিচিত গ্রুপ অফ ডেথ বা মৃত্যুকূপ নামে।

ফুটবলে গ্রুপ অফ ডেথ বলতে এমন একটি গ্রুপকে বোঝানো হয় যেখানে চারটি দলই প্রায় সমান শক্তিশালী এবং নকআউট পর্বে ওঠার ক্ষমতা রাখে। ফলে প্রতিটি ম্যাচই হয়ে ওঠে ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুলই হতে পারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের কারণ। অতীতে বহু বিশ্বকাপেই এমন গ্রুপ দেখা গেছে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ ই-তে ছিল স্পেন, জার্মানি, জাপান ও কোস্টারিকা। আবার ২০১৪ সালে ইতালি, ইংল্য়ান্ড ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দল থাকা গ্রুপ থেকে সবাইকে অবাক করে শীর্ষে উঠে এসেছিল কোস্টারিকা। এসব উদাহরণই প্রমাণ করে গ্রুপ অফ ডেথে কোনো দলই নিরাপদ নয়।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই আসর। আয়োজক তিন দেশ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ৪৮টি দলকে ভাগ করা হয়েছে ১২টি গ্রুপে এবং প্রতিটি গ্রুপে রয়েছে চারটি করে দল। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে নকআউট পর্বে ওঠার নিয়মে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের পাশাপাশি সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দল রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা পাবে। ফলে আগের বিশ্বকাপগুলোর তুলনায় গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় হওয়ার ঝুঁকি কিছুটা কমেছে। এই কারণেই অনেক ফুটবল বিশ্লেষক মনে করছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে প্রচলিত অর্থে কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপ অফ ডেথ নেই। দলসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং গ্রুপ বিন্যাসের পরিবর্তনের কারণে এই বিশ্বকাপে নির্দিষ্ট কোনো গ্রুপ অফ ডেথ চিহ্নিত করা কঠিন। তবুও কয়েকটি গ্রুপ বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। গ্রুপ আই-এ রয়েছে ফ্রান্স, নরওয়ে, সেনেগাল ও ইরাক। ফ্রান্স সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম সফল দল। নরওয়ের হয়ে খেলছেন এরলিং হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের মতো তারকা ফুটবলার। সেনেগালও আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল। ফলে এই গ্রুপের প্রতিটি ম্যাচই হতে পারে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। একইভাবে গ্রুপ এফ-এ নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়ার উপস্থিতিও ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। এছাড়া ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, ঘানা ও পানামাকে নিয়ে গঠিত গ্রুপ এলকেও অনেকেই কঠিন গ্রুপ হিসেবে বিবেচনা করেছেন।

তাই ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য এখানে একক কোনো গ্রুপ অফ ডেথ নেই। কিন্তু রয়েছে একাধিক শক্তিশালী গ্রুপ। নতুন ফরম্যাট বিশ্বকাপকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। ফলে এবারের বিশ্বকাপের গল্প কোনো একটি মৃত্যকূপকে ঘিরে নয় বরং একাধিক কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে বিশ্বসেরাদের নিজেদের প্রমাণ করতে হবে। আর সেই কারণেই ২০২৬-এর ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ হতে পারে ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় ও স্মরণীয়।