২৯ জুন মুখোমুখি জাপান- ব্রাজিল

জাপানের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইউতো নাগাতোমোও সতর্ক করছেন নিজের দলকে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলারদের নিয়ে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : বিশ্বকাপের মঞ্চে বড় দলগুলোর সামনে অনেক সময় নাম, তাদের ইতিহাস ও পরিসংখ্যানই হয়ে ওঠে বাড়তি চাপ। কিন্তু জাপান যেন সেই চাপকে পাত্তাই দিতে নারাজ। পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে সামনে পেয়েও ভয় নয়। বরং আত্মবিশ্বাস নিয়েই নকআউটের লড়াইয়ে নামতে প্রস্তত ব্লু সামুরাইরা। সদ্য শেষ হয়েছে তাদের গ্রুপ পর্বের লড়াই। নিশ্চিত হয়েছে নকআউটের টিকিট। আর এবার সামনে এমন এক প্রতিপক্ষ যাদের বিরুদ্ধে জয় মানেই বিশ্বকে নিজেদের শক্তির বার্তা দেওয়া।

রাউন্ড অব ৩২-এ জাপানের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল। স্বাভাবিকভাবেই চলতি বিশ্বকাপে এটাই তাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আগামী সোমবার ২৯ জুন ভারতীয় সময় রাত সাড়ে ১০টায় হিউস্টন স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দুই দল। একদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। অন্যদিকে ডার্ক হর্স জাপান। লড়াইটা যে শুধু মাঠের নয়, লড়াইটা হবে দুই মহাদেশের তা বলাই যায়। তবে প্রতিপক্ষের নাম যত বড়ই হোক জাপান শিবিরে নেই কোনও ভয়। বরং এই ম্যাচকেই নিজেদের প্রমাণের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন জাপানের কোচ হাজিমে মোরিয়াসু। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা এবং নিজেদের সামর্থ্যের ওপর আস্থা রাখতে পারলে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী দলকেও হারানো সম্ভব। জাপানের কোচের আত্মবিশ্বাসের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক অতীতের একটি স্মৃতি। ব্রাজিলের বিরুদ্ধে জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে জাপানের। গত বছরের একটি প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে ৩-২ গোলে হারিয়েছিল জাপান। সেই ম্যাচের জয়ই এখন তাদের আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছে তারা।

মোরিয়াসু ব্রাজিলকে যথেষ্ট সম্মান দিলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁর দল শুধু প্রতিপক্ষের শক্তি নিয়ে ভাবছে না। জাপান কোচের বক্তব্য়, ফুটবল এমন একটি খেলা যেখানে মাঠের দিনের পারফরম্যান্সই শেষ কথা। ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল হলেও ম্যাচের ফল আগে থেকে লেখা থাকে না। নিজেদের সুযোগ তৈরি করে জয়ের জন্যই মাঠে নামবে জাপান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সুইডেনের বিরুদ্ধে কিছুটা কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছিল জাপান। এগিয়ে গিয়েও পরে চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছিল তাদের। তবে শেষ পর্যন্ত ড্র করেও নকআউটে যাওয়ার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে। জাপানের কোচ মনে করছেন, বিশ্বকাপে টিকে থাকার জন্য মানসিক দৃঢ়তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছোটোখাটো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত তাঁর দল।

জাপানের ফুটবল গত কয়েক বছরে যে অনেকটা বদলে গেছে তার প্রমাণ বারবার মিলেছে। এক সময় বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতার অভাবে পিছিয়ে থাকা দলটি এখন বড় দলগুলোর চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে জানে। তাদের গতি, আক্রমণের দ্রুত পরিবর্তন। সব মিলিয়ে জাপান এখন আর কোনও সহজ প্রতিপক্ষ নয়। অন্যদিকে ব্রাজিল সবসময়ই বিশ্বকাপের অন্যতম ফেবারিট। তাদের দলে রয়েছে তারকা ফুটবলার, ইতিহাস ও পাঁচটি বিশ্বকাপ জয়ের গৌরব। আর সেই কারণেই ব্রাজিলের সামনে জাপান হতে পারে বড় চমক। তারা হয়তো এই বিশ্বকাপে ডার্ক হর্স হিসেবে নিজেদের পরিচয় তৈরি করেছে। ব্রাজিলকে হারানোর বিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে ব্লু সামুরাইরা। যদি তারা নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারে তাহলে পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়নদের পথেও বড় বাধা হয়ে দাঁডা়তে পারে জাপান। এই বিশ্বকাপে জাপানের পারফরম্যান্স ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে। শক্তিশালী দল নেদারল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র ও সুইডেনের বিপক্ষেও ১-১ গোলে সমতা রেখে জাপান দেখিয়েছে বড় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তারা কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

ব্রাজিলের মতো পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নের সামনে নামার আগে এই পারফরম্যান্সই জাপানের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। শুরুটা ড্র দিয়ে হলেও ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরেছে ব্রাজিল। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর হাইতিকে ৩-০ এবং স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোসে হারিয়ে দাপট দেখিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ব্রাজিলের জন্য বড় বিষয় হতে পারে তাদের আক্রমণভাগের ধারাবাহিকতা। প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার জন্য ভিনিসিয়াস জুনিয়রদের দ্রুত আক্রমণ, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ ও সুযোগ কাজে লাগানোর ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ হবে। একইসঙ্গে রক্ষণভাগকেও জাপানের দ্রুত গতির আক্রমণ সামলাতে হবে। কারণ জাপান এমন একটি দল যারা সুযোগ পেলেই প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারে। জাপানের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ইউতো নাগাতোমোও সতর্ক করছেন নিজের দলকে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলারদের নিয়ে। বিশেষ করে নেইমারের বিরুদ্ধে জাপানের আলাদা পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। তাই নকআউটে ডার্ক হর্স শুধু লড়াই করতে নয় বড় কিছু লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে।