বিশ্বকাপের শুরু থেকেই যে কঠোর ভ্রমণ বিধিনিষেধের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছিল ইরানকে সেই নিয়মে অবশেষে কিছুটা শিথিলতা আনল মার্কিন প্রশাসন।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : অবশেষে কিছুটা স্বস্তি ফিরল ইরান শিবিরে। মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের প্রমাণ করার পাশাপাশি এবার মাঠের বাইরের এক কঠিন লড়াইয়েও কিছুটা জয় পেল মেহদি তারেমিদের দল। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই যে কঠোর ভ্রমণ বিধিনিষেধের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছিল ইরানকে সেই নিয়মে অবশেষে কিছুটা শিথিলতা আনল মার্কিন প্রশাসন। এর আগে বিশ্বকাপে ইরানের পরিস্থিতি ছিল অন্য যেকোনও দলের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আমেরিকার মাটিতে ম্য়াচ খেলতে যাওয়ার অনুমতি পেত তারা শুধুমাত্র ম্যাচের ২৪ ঘণ্টা আগে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও বেশি সময় থাকার সুযোগ ছিল না। খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় ফিরে যেতে হত ইরান দলকে। এমন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন মেহদি তারেমিরা। আর সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত তাদের অভিযোগ গুরুত্ব পেল।
ইরানের ফুটবল ফেডারেশন এই নিয়ম নিয়ে ফিফার কাছে আবেদন জানিয়েছিল। তাদের বক্তব্য ছিল এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে সমান সুযোগ পাওয়া কঠিন। কারণ ম্যাচের আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম, অনুশীলন এবং পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় না পাওয়ায় ফুটবলারদের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছিল। অবশেষে মিশরের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে কিছুটা স্বস্তির খবর পেল ইরান। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এবার আর ম্যাচের একদিন আগে নয়, দুই দিন আগেই আমেরিকায় প্রবেশ করতে পারবে ইরান দল। ২৬ জুন সিয়াটলে মিশরের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে এই অতিরিক্ত সময় পাওয়া ইরানের জন্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। তবে শর্তও থাকছে। ম্যাচ শেষ হওয়ার দিনই আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে চলে যেতে হবে তাদের। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অন্যান্য প্রটোকলে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না।
হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরান দল ম্যাচের দুই দিন আগে সিয়াটলে পৌঁছতে পারবে। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সেদিনই তাদের মার্কিন ভূখণ্ড ছাড়তে হবে। নিরাপত্তা ব্য়বস্থা ও প্রটোকল আগের মতোই থাকবে। খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ ও সমর্থকদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নানা সমস্যার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে ইরানকে। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় বেস ক্যাম্প করার পরিকল্পনা থাকলেও পরে তা পরিবর্তন করে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় নিয়ে যেতে হয়। ম্যাচের আগে সীমিত সময়ের জন্য আমেরিকায় প্রবেশ এবং ম্যাচ শেষে দ্রুত ফিরে যাওয়ার এই নিয়ম নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল দলের মধ্যে। অনেকের মতে, এমন পরিস্থিতিতে কোনও দলের পক্ষে স্বাভাবিক প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত কঠিন।
সব প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে মাঠে নিজেদের লড়াই দেখিয়েছে ইরান। প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করে তারা। এরপর শক্তিশালী বেলজিয়ামের বিরুদ্ধেও দুর্দান্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলে পয়েন্ট ছিনিয়ে নেয়। সীমিত প্রস্তুতি, দীর্ঘ যাত্রা এবং মানসিক চাপের মধ্যেও ইরানের এই পারফরম্যান্স প্রশংসা কুড়িয়েছে ফুটবল মহলে। বেলজিয়াম ম্যাচের পর ইরানের কোচ আমির ঘালেনোই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর মতে, এমন একটি শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে নামার আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় পাওয়া উচিত ছিল। বারবার স্থান পরিবর্তন, ভ্রমণের চাপ ও কম বিশ্রাম ফুটবলারদের উপর বড় প্রভাব ফেলেছে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতায় সব দলের জন্য সমান সুযোগ থাকা উচিত।
তবে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের ফুটবলাররা দেখিয়ে দিয়েছেন লড়াইয়ের মানসিকতা থাকলে বাধা পেরোনো যায়। মেহদি তারেমি এবং তাঁর সতীর্থরা শুধু মাঠের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধেই নয় মাঠের বাইরের সমস্যার বিরুদ্ধেও লড়াই করছেন। আর সেই লড়াইয়ের ফল হিসেবেই এবার কিছুটা স্বস্তি এসেছে। সামনে মিশরের বিরুদ্ধে শেষ গ্রুপ ম্যচ। নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন এখনও বেঁচে রয়েছে ইরানের। নতুন নিয়মে বাড়তি কিছুটা সময় পাওয়া হয়তো তাদের প্রস্তুতিতে সাহায্য করবে। তবে শেষ পর্যন্ত সব উত্তর দিতে হবে মাঠেই। কারণ বিশ্বকাপ শুধু প্রতিভার পরীক্ষা নয়। ধৈর্য, মানসিক শক্তি এবং প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতারও পরীক্ষা। আর ইরান ইতিমধ্যেই দেখিয়ে দিয়েছে তাদের থামানো এত সহজ নয়। এখন দেখার এই লড়াকু দল কতদূর পর্যন্ত যেতে পারে।