কালীপুজোয় বক্স বাজানো নিয়ে বচসা, মর্মান্তিক পরিণতি

কালীপুজোয় বক্স বাজাতে অস্বীকার করায় বচসার জের। এক ব্যক্তিতে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ। পুলিশের জালে ২

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা: কালীপুজোর মণ্ডপে রাতে উচ্চ স্বরে বক্স বাজাতে অস্বীকার করায় এক যুবককে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। মৃতের নাম সনাতন নস্কর। সোনারপুর থানার কুস্তিয়া এলাকার ঘটনা। ঘটনায় ২জনকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সোনারপুর থানার পুলিশ।

সোনারপুর থানার কুস্তিয়া এলাকায় একটি কালীপুজোতে সাউন্ড বক্স বাজাচ্ছিলেন সনাতন নস্কর। প্রতিবেশী এক ব্যাক্তি হার্টের রোগী হওয়ার কারণে,  তাঁদের অনুরোধে রাতে সাউন্ড সিস্টেম খুলে নিয়ে বাড়ি চলে যায়। সেই সময় অন্য প্রতিবেশী পিন্টু সাহা ও তার স্ত্রী সনাতনের বাড়ি গিয়ে পুজোমণ্ডপে বক্স বাজাতে চাপ দেয়। তাতে অস্বীকার করায় সানাতনের পরিবারের সঙ্গে পিন্টু ও তার স্ত্রী বচসায় জড়ায়। তারপর সনাতনের মা ও তার ভাইকে প্রথম মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। প্রতিবাদ করতে গেলে সনাতনকে ছুরি দিয়ে শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত করে পিন্টু, এমনই অভিযোগ তুলেছেন সনাতনের পরিবারের সদস্যরা। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা সনাতনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পিন্টু ও তার স্ত্রী ঘটনাস্থল পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদেরকে সোনারপুর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এই ঘটনার সঙ্গে পিন্টুর আরও দুই আত্মীয় জড়িত আছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গভীর রাতে সোনারপুর থানার পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। দুজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও যারা যুক্ত রয়েছে তাদের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

ধুমধাম করে কালীপুজো হচ্ছিল পাড়ায়। দীপাবলির রাতে বাজি ফাটানো থেকে শুরু করে গান বাজনা, খাওয়া দাওয়া সবই হয়েছে রীতি মেনে। পাড়ার লোকজনও তাতে দিব্যি অংশগ্রহণও করেছেন। কিন্তু কয়েকজন অসুস্থ প্রতিবেশীর কথা মাথায় রেখে রাতের বেলায় সাউন্ড বক্স বন্ধ করে দেন সনাতন। তা মেনে নেয়নি পিন্টু ও তার স্ত্রী। প্রতিবেশীর অসুস্থতা উপেক্ষা করে সাউন্ড বক্স বাজাতেই হবে, সেজন্য সনাতনকে জোর করতে থাকে তারা। সনাতনের পরিবারের সদস্যরা পিন্টুদের বুঝিয়ে বলেন, তাতেও কান দেয়নি তারা। দুপক্ষের বচসা চরমে উঠতেই পিন্টু ছুড়ি দিয়ে সনাতনকে কোপাতে থাকে বলে অভিযোগ। পুজোর আনন্দ মুহূর্তের মধ্যেই যে এভাবে দুঃখ নেমে আসবে তা ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি সনাতনের পরিবারের সদস্যরা।