দ্রুত কাজ শেষ কর, ইজরায়েলকে কিসের নির্দেশ ট্রাম্পের?

দ্রুত কাজ শেষ কর। ইজরায়েলকে এমনই এক নির্দেশ দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু কোন কাজের জন্য এমন তাগাদা দিচ্ছেন ট্রাম্প? উঠছে প্রশ্ন।

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিকঃ কোন রকমেই শান্ত হচ্ছে না মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। এবার যেন প্রকাশ্যেই গাজাকে ধ্বংস করার নির্দেশ দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইজরায়েলের দাবি হামাস শান্তিবৈঠকে অনিচ্ছুক আর এই বক্তব্যে সায় দিয়েছে আমেরিকাও। আর এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারকে দ্রুত ‘গাজা পরিষ্কার করার কাজ’ শেষ করার বার্তা দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ ট্রাম্পের বক্তব্য ইজরায়েল যেন যত দ্রুত সম্ভব গাজা দখল করার কাজ সম্পন্ন করে।

ফ্লোরিডায় এক নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প গাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, “ইজরায়েলকে তার কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। আমার মনে হয় হামাস মরতে চায়, ওরা শহিদ হতে চায়।” তিনি আরও যোগ করেন, “হামাস এই সংঘাত চায়। ওরা ইজরায়েলের অস্তিত্ব চায় না।” এই মুহূর্তে গাজা জুড়ে যে ভয়াবহ সংকট, যেখানে হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে নারী ও শিশু নিহত হয়েছে, সেই বাস্তবতাকে সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে ট্রাম্পের এই বক্তব্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে তাঁর এই উক্তি কেবল হামাস যোদ্ধাদের উদ্দেশ্য করে নয়, বরং এর মাধ্যমে তিনি একটি জটিল সংঘাতকে সরলীকরণ করে মানবিক বিপর্যয়ের প্রতি চরম উদাসীনতা প্রকাশ করেছেন।

ট্রাম্প বলেন, “এখন আমরা চূড়ান্ত পর্যায়ের জন্য ঝাঁপাবো। তারা জানে যুদ্ধবন্দিদের পাওয়ার পর কী হবে। হামাস বুঝতে পারছে সবাইকে ছেড়ে দিলে তাদের ভাগ্যে কী ঘটতে পারে। মূলত এই কারণেই, হামাস আসলে কোনও চুক্তি করতে চায়নি।” হামাসের হাতে যুদ্ধবন্দি থাকা শেষ মার্কিন-ইজরায়েলি নাগরিক এডান আলেকজান্ডারের মুক্তির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ট্রাম্প বলেছেন যে, আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে আপস করতে হামাস গোষ্ঠীর আগ্রহ নেই। তারা হিংসা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অর্থাৎ আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার জন্য হামাসকেই দায়ী করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে গাজা এখন মৃত্যুপুরী। ধ্বংসস্তূপ ঠেলে কোনওমতে ধুঁকতে ধুঁকতে বেঁচে রয়েছে মানুষ। আর সেই অসহায় মানুষদের দিকে ইজরায়েল তাক করেছে নয়া অস্ত্র , অনাহার। হামাসের তেল আভিভে হামলার বদলা নিতে যে পালটা মার তারা দিতে শুরু করেছিল তা গাজার সাধারণ মানুষের জীবন একেবারে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে। মার্চে যুদ্ধবিরতির পর থেকে ধ্বংসের নতুন অস্ত্র হাতে তুলে নিতে শুরু করেছে ইজরায়েল। মাত্র ১১ মিনিটের জন্য খোলা হচ্ছে ত্রাণশিবির, সময় না মানলেই চলছে গুলি। মৃত্যুফাঁদেই জীবনের সন্ধানে রয়েছেন গাজাবাসী।