অভিষেকের বিরুদ্ধে FIR

বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে ‘উস্কানিমূলক’, ‘হুমকিমূলক’ মন্তব্যের অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরকে কেন্দ্র করে শনিবার তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে ‘উস্কানিমূলক’, ‘হুমকিমূলক’ এবং ‘অশান্তি ছড়ানোর’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। বিজেপি এই ঘটনাকে ‘ন্যায়ের সূচনা’ বলে দাবি করলেও, তৃণমূল নেতৃত্ব গোটা ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে ব্যাখ্যা করেছে।

গত ১৫ মে দায়ের হওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারের সময় একাধিক সভায় অভিষেক এমন মন্তব্য করেছেন যা রাজনৈতিক হিংসা উসকে দিতে পারে এবং জনশৃঙ্খলা নষ্টের আশঙ্কা তৈরি করেছে। অভিযোগকারী রাজীব সরকার দাবি করেছেন, মাহেশতলা, আরামবাগ, হরিণঘাটা ও নন্দীগ্রামের সভায় অভিষেক বিরোধী কর্মীদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন এবং হুমকিমূলক মন্তব্য করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ওই সমস্ত বক্তব্য তাঁর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ ‘Abhishek Banerjee Official’ এবং বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও প্রচারিত হয়।

অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৯২, ১৯৬, ৩৫১(২), ৩৫৩(১)(সি) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ১২৩(২) ও ১২৫ ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।

ঘটনার পর তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক বক্তৃতায় নানা কথা বলা হয়। আমি অভিষেকের বক্তব্য শুনেছি, সেখানে আপত্তিকর কিছু পাইনি। আইনি পথে এর মোকাবিলা করা হবে।”

একই সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন-এর গলাতেও। তিনি বলেন, “শেষ কথা বলে সত্য, ন্যায় এবং সাধারণ মানুষ। তাই আমরা বিশ্বাস করি, এই ক্ষেত্রেও সত্যেরই জয় হবে।”

অন্যদিকে, বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ তৃণমূল নেতৃত্বকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁদের নেতারা দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচারী আচরণ করেছেন। আগে মানুষ ভয়ে অভিযোগ করতে পারেননি। এখন মানুষ মুখ খুলছেন, পুলিশও পদক্ষেপ করছে। ফলে বিচার হবেই।”

অভিষেকের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপের দাবি তুললেন বিজেপি সাংসদ রাহুল সিনহা। তাঁর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এবং পরে অভিষেক যেভাবে ‘উস্কানিমূলক’ ভাষা ব্যবহার করেছেন, তার জন্য আইনের পথে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, “নির্বাচনের আগে ও পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন, তার জন্যই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে। এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হওয়া উচিত। নির্বাচনের ফল নিয়ে যদি ওঁর দুঃখ থাকে, তা হলে বাড়িতে বসে শোক পালন করা উচিত।” বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছে।

এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে এই মামলা নতুন করে সামনে এনে দিল রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাতকে ।