কখনও পুলিশকে চোর বলে আখ্যা। আবার কখনও দালাল বলে আখ্যা দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, বিজেপি কর্মীদের গুন্ডা বলে সম্বোধন করেন মহুয়া মৈত্র। কিন্তু কেন?

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : ঘটনাটি রবিবারের। হালিশহরে পুলিসি হেফাজতে তৃণমূলকর্মী রহস্যমৃত্যু হওয়া কর্মীর বাড়িতে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বাড়িতে পৌঁছনোর আগেই রাস্তায় ব্যাপক জনরোষের মুখে পড়তে হয় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা, এমনকী জুতো পর্যন্ত ছোড়া হয়। এরপর নেত্রীকে দেখে ওঠে চোর স্লোগান। এই ঘটনার পর সোমবার ওই মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে যান মন্ত্রী অর্জুন সিং, ডিজিপি। রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর উপর হামলার ঘটনায় রাজ্য সরকার তথা বিজেপিকে দুষেছেন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, ” বিজেপির গুন্ডা, জানোয়াররা মমতাদির গাড়ির উপর হামলা চালিয়েছে সবাই দেখেছে। তারপরও বিজেপি বলছে ওরা নাকি সাধারণ মানুষ। কোনও সাধারণ মানুষ মমতাদির উপর এমন বর্বরোচিত আক্রমণ চালাতে পারে না। এরা বিজেপির গুন্ডা জানোয়াররা করেছে”।
বিজেপি কর্মীদের জানোয়ার ও গুন্ডা বলায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে প়ড়েন বিজেপির কর্মী সমর্থকরা। অবমাননাকর ও আপত্তিকর শব্দ ব্যবহারের জন্য কোতোয়ালি থানায় মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান ভীমপুরের বাসিন্দা উত্তম ঘোষ। মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর জেলা আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলা দায়ের ও অভিযোগ প্রসঙ্গে মহুয়া মৈত্রের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
একদিকে মমতার গাড়িতে কাদা-জুতো ছোড়ার অভিযোগ, অন্যদিকে সেই ঘটনাকে ঘিরেই মহুয়ার বিস্ফোরক মন্তব্য। ‘পুলিশ চোর’, ‘দালাল’, বিজেপি কর্মীদের ‘গুন্ডা’—একাধিক মন্তব্যকে ঘিরে এবার আইনি লড়াইও শুরু। অর্থাৎ হালিশহরের সেই দিনের উত্তাপ থামেনি, বরং ছড়িয়েছে রাজনীতির ময়দানে। প্রশ্ন এখন একটাই—মমতার উপর হামলার অভিযোগের তদন্তে কি সত্যিই বেরিয়ে আসবে আসল ছবি? নাকি মহুয়ার মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন বিতর্কই ঢেকে দেবে মূল ঘটনাকে?