চোরবাগানের বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল কলকাতার আরও এক দুর্গাপুজো মণ্ডপে। সোমবার রাতে দক্ষিণ কলকাতার নেহরু কলোনির পুজো মণ্ডপে আগুন লাগাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, মণ্ডপে জ্বালানো প্রদীপ থেকেই দুর্গাপ্রতিমার শাড়িতে আগুন ধরে যায়। তবে এই ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি। আগুন লাগার ঘটনার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে।উৎসবের আবহে এমন ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রদীপের আগুন থেকে কীভাবে প্রতিমার পোশাকে আগুন ছড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রদীপকেই সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক
নেহরু কলোনির পুজো উদ্যোক্তাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে দুর্গাপ্রতিমার সামনে একটি প্রদীপ জ্বালানো ছিল। সেই সময় পুজো মণ্ডপে প্রতিমা দর্শনের জন্য ভিড় করেছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। এরই মধ্যে প্রদীপের আগুন থেকে আচমকাই প্রতিমার শাড়িতে আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং জ্বলতে শুরু করে প্রতিমার পোশাক। আচমকা এই ঘটনায় মণ্ডপে আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আচমকা প্রতিমার শাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মণ্ডপে উপস্থিত দর্শনার্থীরা। সাময়িকভাবে সেখানে হুড়োহুড়িও শুরু হয়। আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুজো উদ্যোক্তারা। নিরাপত্তাকর্মীরাও এগিয়ে আসেন। সকলে মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের একটি দল। তবে দমকল পৌঁছনোর আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা।

ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিমাও কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, এই ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দ্রুত পদক্ষেপ করার ফলেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। তবে আগুনের তীব্রতা কতটা ছিল এবং দুর্গাপ্রতিমার কোনও ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়। কী কারণে আগুন লাগল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার চোরবাগান সর্বজনীনের ঘটনায় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং আহত হয়েছিলেন প্রায় ২৫ জন। সেই ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। তার মধ্যেই দক্ষিণ কলকাতার নেহরু কলোনির পুজো মণ্ডপে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুর্গাপুজোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।