রাজ্যে প্রথম আদৃত পাল নরেন্দ্রপুরের ঝড়! মেধাতালিকায় ১৮ ছাত্র, রাজ্যে প্রথম আদৃত পাল।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৯ জনের মধ্যে একাই ১৮ জন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের, প্রথম স্থান অধিকার আদৃত পালের।
রাজ্যজুড়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ হতেই ফের একবার শিক্ষার উৎকর্ষতার উজ্জ্বল নজির গড়ল নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন। এবারের উচ্চ মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় মোট ৬৪ জন স্থান পেলেও তার মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকেই রয়েছে ১৯ জন ছাত্রছাত্রী। আর এই ১৯ জনের মধ্যে একাই ১৮ জন স্থান করে নিয়েছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্ররা। ফল প্রকাশের পর থেকেই গোটা জেলার পাশাপাশি শিক্ষা মহলেও চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে এই সাফল্য।
এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র আদৃত পাল। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৬। অসাধারণ ফলাফলের মাধ্যমে সে শুধু বিদ্যালয়ের নয়, গোটা দক্ষিণ ২৪ পরগনার মুখ উজ্জ্বল করেছে। ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয় চত্বরে খুশির আবহ তৈরি হয়। শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, ছাত্র ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো।
শুধু প্রথম স্থানই নয়, দ্বিতীয় স্থানেও রয়েছে নরেন্দ্রপুরের জোড়া সাফল্য। ঋতব্রত নাথ এবং ঐতিহ্য পাছাল দুজনেই ৪৯৫ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে। তৃতীয় স্থানেও রয়েছে এই বিদ্যালয়ের ছাত্র সৌম্য রায়, তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৪। চতুর্থ স্থানে রয়েছে অর্কদ্যুতি ধর, প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৩।
পঞ্চম স্থানেও নজর কেড়েছে নরেন্দ্রপুর। প্রিয়াংশু মুখোপাধ্যায় এবং আলেখ্য মাইতি দুজনেই ৪৯২ নম্বর পেয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। ষষ্ঠ স্থানেও একাধিক ছাত্র জায়গা করে নিয়েছে। প্রত্যুষ মণ্ডল, শুভদীপ দিন্দা, পল্লব কুমার ভাওয়াল এবং অনিমেষ মুখোপাধ্যায় প্রত্যেকেই ৪৯১ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে।
অষ্টম স্থানেও রয়েছে বিদ্যালয়ের দুই কৃতী ছাত্র অরিত্র সরকার এবং ফারহান আলি। দুজনেরই প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৯। নবম স্থানে রয়েছে সোহম বেজ, তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৮। দশম স্থানেও নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের চার ছাত্র জায়গা করে নিয়েছে। সাগ্নিক ঘটক, মেঘম অধিকারী, সোহম ভৌমিক এবং সৃজন পাল প্রত্যেকেই ৪৮৭ নম্বর পেয়ে দশম স্থানে রয়েছে।
মেধা তালিকায় সপ্তম স্থান ছাড়া প্রায় প্রতিটি স্থানেই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্রদের উপস্থিতি কার্যত প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ধারাবাহিক সাফল্যের ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান কতটা এগিয়ে। বছরের পর বছর ধরে রাজ্যের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে এই বিদ্যালয়। এবারের ফলাফল সেই সুনামকে আরও উজ্জ্বল করল।
এদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার আরও এক কৃতী ছাত্র মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। Joynagar J.M. Training School-এর ছাত্র অরিত্র প্রামানিক ৪৮৭ নম্বর পেয়ে দশম স্থান অধিকার করেছে। জেলার শিক্ষা ক্ষেত্রে এই সাফল্য নিঃসন্দেহে এক গর্বের মুহূর্ত।
ফল প্রকাশের পর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইষ্টেসানন্দ মহারাজ ছাত্রদের এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শুধুমাত্র নম্বর নয়, ছাত্রদের মানবিক মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ই এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিরলস পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সহযোগিতাও এই কৃতিত্বের পিছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ছাত্রদের অনেকেই জানিয়েছে, নিয়মিত পড়াশোনা, সময় মেনে প্রস্তুতি এবং শিক্ষকদের পরামর্শ মেনেই তারা এই সাফল্য অর্জন করেছে। ভবিষ্যতে কেউ চিকিৎসক, কেউ বিজ্ঞানী, আবার কেউ প্রশাসনিক আধিকারিক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তাদের এই সাফল্যে পরিবারেও খুশির জোয়ার বইছে।
উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের দিন নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন চত্বরে সকাল থেকেই ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ছাত্রদের সাফল্যের খবর প্রকাশ্যে আসতেই একে অপরকে মিষ্টিমুখ করাতে দেখা যায় শিক্ষক, ছাত্র ও অভিভাবকদের। বহু প্রাক্তনীও বিদ্যালয়ে এসে শুভেচ্ছা জানান বর্তমান ছাত্রদের।
শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, শুধু পড়াশোনা নয়, চরিত্র গঠন ও মূল্যবোধের শিক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার ফলেই নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন ধারাবাহিকভাবে সাফল্যের শিখরে পৌঁছতে পারছে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্ররা এখানে পড়তে আসে এবং প্রতিবছরই তারা অসাধারণ ফল করে বিদ্যালয়ের ঐতিহ্য বজায় রাখে।
এবারের উচ্চ মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই সাফল্য নিঃসন্দেহে জেলার শিক্ষা মানকে আরও একধাপ এগিয়ে দিল। বিশেষ করে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্রদের এই অভূতপূর্ব ফলাফল আগামী প্রজন্মের ছাত্রছাত্রীদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।