প্রথম দফার ভোটে নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা ২৪০৭। ১৫২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৪৭৮ জন প্রার্থী।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : আজ প্রথম দফার ভোট ১৬ জেলায় ১৫২ আসনে। এই ১৫২ টি কেন্দ্রে লড়াইয়ে রয়েছে টিএমসি, বিজেপি, বাম, কংগ্রেস, মিম, আইএসএফ, মিম, এজেইউপি। আরও অনেক ছোট দল। প্রথম দফার ভোট শান্তিপূর্ণ করতে বেশি সংখ্যক নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করেছে কমিশন। প্রথম দফার ভোটে নিরাপত্তা বাহিনীর সংখ্যা ২৪০৭। ১৫২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৪৭৮ জন প্রার্থী। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী রয়েছে উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে। মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৫। এছাড়াও মাথাভাঙা, ধূপগুড়ি, রায়গঞ্জ, রতুয়া, রানিনগর এবং দুর্গাপুর পশ্চিম-এই কেন্দ্রগুলিতেও প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪ জন করে প্রার্থী রয়েছেন। প্রথম দফার ভোটে বেশি করে নজর উত্তর বঙ্গে। উত্তরবঙ্গেই বিজেপির প্রবল হাওয়া। তাই উত্তের আসনগুলিতে জয় পেতে ও জয় ধরে রাখতে মরিয়া বিজেপি। উত্তরের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভোট হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় নজরকাড়া কেন্দ্র রয়েছে । প্রথমদফার ভোটে নজরকাড়া কেন্দ্রগুলির দিকে নজর রাখা যাক।
কোচবিহার (৯)
২০২১ সালের ফল
তৃণমূল ২, বিজেপি ৭
নজরকাড়া কেন্দ্র
দিনহাটা, তুফানগঞ্জ
রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ক, চা বাগান কেন্দ্রিক সমস্যা, সীমান্ত সমস্যা ফ্যাক্টর ভোটে। মূল রাজনৈতিক লড়াই তৃণমূল বিজেপির মধ্যে। গতবারে উত্তরবঙ্গে বাকি জেলাগুলির মধ্যে কোচবিহারে সবথেকে বেশি আসন পেয়েছিল বিজেপি। পদ্মশিবির যেখানে ৭টি আসন পেয়েছিল, তৃণমূল ২টি। এবারেও কোচবিহারের দুটি বিধানসভা কেন্দ্রে হতে চলেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে যে দুটি আসন। তা হল দিনহাটা ও তুফানগঞ্জ। দিনহাটা কোচবিহারের রাজনৈতিক মানচিত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক কেন্দ্র। জমে উঠেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। উদয়ন গুহ বনাম অজয় রায়। উদয়ন গুহ তৃণমূলের অভিজ্ঞ এবং প্রতিষ্ঠিত মুখ। ২০১১ সাল থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমবার ফরওয়ার্ড ব্লকের টিকিটে নির্বাচিত হলেও ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে বিধানসভায় যান। ২০২১ সালের হাইভোল্টেজ নির্বাচনে তিনি তৎকালীন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের কাছে মাত্র ৫৭ ভোটে হেরে যান। কিন্তু বিধায়ক পদ থেকে নিশীথ পদত্যাগ করলে উপনির্বাচনে তিনি রেকর্ড মার্জিনে জয়লাভ করেন। অন্যদিকে অজয় রায় বিজেপির তরুণ ও আক্রমণাত্মক মুখ। তিনি পরিবর্তনের বার্তা, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রসার এবং স্থানীয় অসন্তোষকে হাতিয়ার করে লড়াইকে জমিয়ে তুলেছেন। তুফানগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী শিবশঙ্কর পাল ও বিজেপির মালতী রাভা রায়। মালতি রাভা রায় বিজেপির লড়াকু প্রার্থী। তৃণমূল কংগ্রেস ২০১১ এবং ২০১৬ সালে এই কেন্দ্রে জয়লাভ করেছিল। তবে ২০২১ সালে খেলা ঘুরে যায়। এই ইলেকশনে বিজেপি এখানে প্রথম জয়লাভ করেছিল। এই ভোটে বিজেপির মালতি রাভা রায় তৃণমূলের প্রণব কুমার দেকে ৩১,১৯৮ হারিয়ে দেন। অন্যান্য কেন্দ্রগুলির পাশাপাশি বিশেষ নজর কেড়েছে এই দুটি আসন।
আলিপুরদুয়ার (৫)
২০২১ সালের ফল
তৃণমূল ০
বিজেপি ৫
নজরকাড়া কেন্দ্র
আলিপুরদুয়ার
মাদারিহাট
আগের বারে যেখানে ঘাসফুল ফুটতেই দেয়নি পদ্মফুল। একেবারে পাঁচে পাঁচ। সেই আলিপুরদুয়ারে এবারে অন্যান্য কেন্দ্রের পাশাপাশি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্র। তৃণমূলের সুমন কাঞ্জিলালের সঙ্গে লড়াই হতে চলেছে বিজেপির পরিতোষ দাসের। এই সুমন কাঞ্জিলাল ২০২১ এ ১ লক্ষের বেশি ভোটে জিতেছিল বিজেপির হয়ে। পরে দল পরিবর্তন করে তৃণমূলে যোগ দেন। এবার শাসক দলের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন আলিপুরদুয়ার থেকে। আলিপুরদুয়ারে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ৪২৩। মোট ভোটার প্রায় ১১ লক্ষের বেশি। আলিপুরদুয়ার জেলায় মোট প্রার্থী সংখ্যা ৪৫।মাদারিহাট বিধানসভার উপ নির্বাচনে জিতেছিল তৃণমূলের জয়প্রকাশ টোপ্পো। মাদারিহাট জেতা আসনটি ধরে রাখতে তৃণমূল সেই জয়প্রকাশ টোপ্পোর উপরেই আস্থা রেখেছে। এক সময় বিজেপির গড় বলা হত মাদারিহাটকে। বিজেপি হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে এখানে প্রার্থী করেছে লক্ষ্ণণ লিম্বুকে।
জলপাইগুড়ি (৭)
২০২১ সালের ফল
তৃণমূল ৩
বিজেপি ৪
নজরকাড়া কেন্দ্র
ধূপগুড়ি
রাজগঞ্জ
ময়নাগুড়ি
২০২১-র এই ফলাফল দেখেই বোঝাই যাচ্ছে, আগের বারেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল এই জেলায়। এবারেও ৭টি আসনের মধ্যে পাঁচটিই তফিসিলি জাতি সংরক্ষিত। বিশেষ ভাবে শিরোনামে উঠে এসেছে ধূপগুড়ি ও রাজগঞ্জ, ময়নাগুড়ি। ধূপগুড়ি আসন নির্মল চন্দ্র রায়ের জন্য লাইমলাইটে উঠে এসেছে। এই আসনে অন্যতম আলোচনায় নির্মল চন্দ্র রায়। অধ্যাপক মানুষ।
ধূপগুড়ির বিধায়ক বিষ্ণুপদ রায়ের মৃত্যুর পর ডঃ নির্মল ২০২৩ সালের (উপ-নির্বাচন) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ধূপগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জেতেন। তিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি বিজেপির জয়ন্ত কুমার রায়ের কাছে ৮৬,৬৯৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। স্বপ্না বর্মনের জন্য বিশেষভাবে নজর কেড়েছে রাজগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রটিও। সোনার মেয়ে এখন রাজনীতির ময়দানে। এবার আসি ময়নাগুড়ি আসনে। এই আসনে রাজবংশী ভোট ফ্যাক্টর। তৃণমূল প্রার্থী হয়েছেন রামমোহন রায়। ভিলেজ পুলিশ থেকে তৃণমূল যুব সভাপতি পরবর্তীতে তৃণমূল প্রার্থী। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী বিভ্রাটের জেরে প্রচার কিছুটা দেরিতে শুরু হয়েছে। বর্তমানে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ডালিম চন্দ্র রায়। কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ির পাশাপাশি কালিম্পংয়েও ভোট হতে চলেছে প্রথম দফাতেই। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, কালিম্পংয়ে একটি আসনে কে ছিনিয়ে নিয়েছিল জয়ের হাসি।
কালিম্পং (১)
২০২১ সালের ফল
নির্দল ও অন্যান্য ১
বিজেপি ০
কালিম্পং জেলায় ভোটার সংখ্যা 2 লক্ষ 1 হাজার 931 জন । জেলায় মোট ভোটগ্রহণ কেন্দ্র 293টি । কালিম্পং জেলায় এবার দুর্গম বুথ নেই । একাধিক ইস্যুতে গত ২ দশকে জ্বলে উঠেছে পাহাড়। পাহাড়ি রাস্তা রক্তাক্ত হয়েছে আন্দোলনে। গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আগুন জ্বলেছে মিরিক থেকে কালিম্পং, কার্শিয়াংয়ে। পরবর্তীতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৌলতে পাহাড়ের পরিস্থিতি এখন শান্ত। তবে পাহাড়ে দলবদলের ইস্যুতে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি আরও বৃদ্ধি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে ৷ কার্শিয়াং ও মিরিকের প্রভাবশালী তৃণমূল এবং বিজিপিএম নেতারা পদ্ম-শিবিরে নাম লিখিয়েছেন ।কালিম্পংয়ে জিটিএ’র 36 নম্বর কেন্দ্রের নির্দল সভাসদ পালদেন তামাং এবং তাঁর অনুগামীরা বিজেপি প্রার্থী ভরত ছেত্রীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছেন ৷ দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তার হাত ধরে বিজেপিতে যোগদান করলেন তাঁরা ৷
দার্জিলিং (৫)
২০২১ সালের ফল
তৃণমূল ০
বিজেপি ৫
নজরকাড়া কেন্দ্র
শিলিগুড়ি
দার্জিলিংয়ের পাঁচটির মধ্যে পাঁচটিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল বিজেপি। দাঁত ফোটাতেও পারেনি ঘাসফুল শিবির। এবারে এই জেলা থেকে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে যে আসন, তা হল শিলিগুড়ি। উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক হৃদস্পন্দন এই কেন্দ্র। আর সেই কেন্দ্রেই এবার হাইভোল্টেজ লড়াই। শঙ্কর ঘোষ বনাম গৌতম দেব। ২০২৬-এর নির্বাচনে এই আসন শুধু একটি কেন্দ্র নয়, বরং উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক বার্তা নির্ধারণের বড় মঞ্চ। শঙ্কর ঘোষ বিজেপির সংগঠনের ভরসার মুখ। শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে দলের বিস্তারে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। মাঠের রাজনীতি, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ধারাবাহিক সংগঠন গড়ে তোলাই তাঁর বড় শক্তি। বিজেপির ভোটব্যাঙ্ককে একজোট রাখা এবং নতুন ভোটার টানাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। অন্যদিকে গৌতম দেব অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ। শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন বিভাগের মন্ত্রী ছিলেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে দুইবার বিধায়ক ছিলেন ।
উত্তর দিনাজপুর (৯)
২০২১ সালের ফল
তৃণমূল ৭
বিজেপি ২
নজরকাড়া কেন্দ্র
রাজগঞ্জ
এবারের ভোটে এই জেলায় বিশেষ নজর কেড়েছে রায়গঞ্জ আসনটি। একসময় যা কংগ্রেসের গড় হিসাবে পরিচিত ছিল। রায়গঞ্জের রাশ হাতে পেতে রাজ্যের শাসক দলকে ২০২১ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। সে বার বিজেপির টিকিটে জিতে আসা বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী শাসকদলে যোগ দেন। পরে ২০২৪ সালের বিধানসভা উপনির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীকে ফের জয়ী হন তিনি। স্থানীয় রাজনীতিতে পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ। ব্যবসায়ী হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। বিজেপি প্রার্থী করেছে তরুণ সাংগঠনিক নেতা কৌশিক চৌধুরীকে। প্রায় ২০ বছর বাদে ওই কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছে কাস্তে হাতুড়ি তারা চিহ্ন। সিপিএম প্রার্থী করেছে জীবনানন্দ সিংহকে। কংগ্রেস পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ মোহিত সেনগুপ্তকে ফের টিকিট দিয়েছে।
দক্ষিণ দিনাজপুর (৬)
২০২১ সালের ফল
তৃণমূল ৩
বিজেপি ৩
নজরকাড়া কেন্দ্র
বালুরঘাট
দক্ষিণ দিনাজপুরে ৬টি আসনের মধ্যে বিশেষ নজর কাড়ছে বালুরঘাট। এই কেন্দ্রেই তৈরি হয়েছে এক হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের আবহ। তার কেন্দ্রে রয়েছেন অর্পিতা ঘোষ। এবারের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ দলের অভিজ্ঞ ও পরিচিত মুখ। সাংসদ ও রাজনীতিক হিসেবে তাঁর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, পাশাপাশি সাংস্কৃতিক জগত থেকেও উঠে আসা তাঁর আলাদা পরিচিতি আছে। বালুরঘাটে তাঁর প্রার্থিতা তাই শুধু রাজনৈতিক নয়, বরং ব্যক্তিগত ইমেজের লড়াইও বটে। এই কেন্দ্রের রাজনীতিতে বরাবরই তৃণমূল বনাম বিজেপির সরাসরি টক্কর দেখা যায়। এবারেও তার অন্যথা হবে না বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
মালদহ (১২)
২০২১ সালের ফল
তৃণমূল ৮
বিজেপি ৪
এবারের ভোটে মালদহ জেলায় বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে দুটি আসন। সাবিনা ইয়াসমিনের জন্য সুজাপুর ও মৌসম নুরের জন্য মালতীপুরের দিকে বিশেষ নজর রয়েছে মালদাবাসীর। সুজাপুর হাতে রাখতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল। সুজাপুরে এবার প্রথমবার প্রার্থী হয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন। কংগ্রেস গড় বলে পরিচিত সুজাপুর ধরে রাখতে বড় চ্যালেঞ্জ তৃণমূলের কাছে। অন্যদিকে তৃণমূল থেকে ফের কংগ্রেসে ফিরে আসা মৌসম বেনজি নুরের কাছেও বেশি চ্যালেঞ্জের।
মুর্শিদাবাদ (২২)
২০২১ সালের ফল
তৃণমূল ২০
বিজেপি ২
নজরকাড়া কেন্দ্র
নওদা
রেজিনগর
বহরমপুর
মুর্শিদাবাদ। ভোটের সময় বরাবরই শিরোনামে থাকে এই জেলা। এবারে দুই হেভিওয়েটের জন্য নজর কেড়েছে তিন আসন। লাইমলাইটে রয়েছে রেজিনগর, বহরমপুর ও নওদা। রেজিনগর ও নওদায় এবারে প্রার্থী হয়েছেন হুমায়ুন কবীর নিজেই। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর জন্য বিশেষ ভাবে নজর রয়েছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর কেন্দ্রের দিকে।
বীরভূম (১১)
২০২১ সালের ফল
তৃণমূল ১০
বিজেপি ১
বীরভূমের রাজনৈতিক লড়াইয়ে এবার আলাদা করে নজর কাড়ছে হাসন কেন্দ্র। জেলার বাকি আসনগুলোর ভিড়েও হাসন যেন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ এখানে লড়াই শুধু দলীয় নয়, ব্যক্তিগত প্রভাব ও সংগঠনের শক্তিরও পরীক্ষা। কাজল শেখ এলাকার পরিচিত ও সক্রিয় রাজনৈতিক মুখ। দীর্ঘদিন ধরে মাটির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার ফলে স্থানীয় স্তরে তাঁর একটা শক্ত সংগঠন তৈরি হয়েছে। সেই সংগঠনই এই নির্বাচনে তাঁর বড় ভরসা। অনুব্রতর সঙ্গে দ্বন্দ্বের পরেও কি হাসনে তৃণমূলের হাসি ফোটাতে পারবে কাজল শেখ
পশ্চিম বর্ধমান (০৯)
২০২১ সালের ফল
তৃণমূল ৬
বিজেপি ৩
নজরকাড়া কেন্দ্র
আসানসোল উত্তর
কুলটি
দুর্গাপুর পশ্চিম
পশ্চিম বর্ধমানের নয় আসনের মধ্যে নজরে আসানসোল উত্তর। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মলয় ঘটক। অন্যদিকে কুলটিতে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন মলয় ঘটকের ভাই অভিজিৎ ঘটক। এই কুলটিতে তিন তিনবারের জয়ী বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে সরিয়ে অভিজিৎ ঘটককে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী করেছে ডক্টর অজয় পোদ্দারকে। দুর্গাপুর পশ্চিমও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট বিভিন্ন ইস্পাত কারখানা রয়েছে। এই কেন্দ্রে বিজেপির শক্তি বেশি। ২০২১ এর জয়ী প্রার্থী লক্ষ্ণণ ঘুরুইকে ফের প্রার্থী করেছে বিজেপি অন্যদিকে তৃণমূল প্রার্থী করেছে কবি দত্তকে। যিনি এডিডিএর চেয়ারম্যান , বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল উন্নয়নে যিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন।
পুরুলিয়া (০৯)
২০২১ সালের ফল
তৃণমূল ০৬, বিজেপি ০৯
নজরকাড়া কেন্দ্র
জয়পুর
পুরুলিয়ার নয়টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম হট সিট জয়পুর বিধানসভা কেন্দ্র। কারণ এই বিধানসভা কেন্দ্রে একাধারে রয়েছেন তৃণমূলের প্রার্থী অর্জুন মাহাতো যিনি একজন সাধারণ কৃষক পরিবার থেকে উঠে এসেছেন। তৃণমূলের ঝান্ডা বাঁধা থেকে আজ এমএলএ সিটের জন্য লড়াই করছেন। অপরদিকে রয়েছেন বিশ্বজিৎ মাহাতো যিনি আদিবাসী কুড়মি সংগঠন থেকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ভোটে দাড়িয়েছেন।
পশ্চিম মেদিনীপুর (১৫)
২০২১ সালের ফল
তৃণমূল ১৩, বিজেপি ০২
নজরকাড়া কেন্দ্র
সবং
গড়বেতা
সবং কেন্দ্রে এবার ভাগ্য নির্ধারণের পালা তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইঞার। কারণ এবার এই কেন্দ্রে তাঁর লড়াই হচ্ছে বিজেপি প্রার্থী অমল পণ্ডার সঙ্গে। অমল পণ্ডা একসময় চিলেন মানস ভুঁইঞার ছায়াসঙ্গী। মানস ভুঁইয়ার সঙ্গে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন। তবে ২৬ ভোটে কাহানি মে এসেছে ট্যুইস্ট। একসময়ের ছায়াসঙ্গী নির্বাচনী ময়দানে একে অপরের প্রতিদ্বন্বী।
পূর্ব মেদিনীপুর (১৬)
২০২১ সালের ফল
তৃণমূল ৯, বিজেপি ৭
নজরকাড়া কেন্দ্র
নন্দীগ্রাম
নন্দীগ্রামে আজ ১১ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ। তবে মূল লড়াইটা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বনাম তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের। পবিত্র কর শুভেন্দুর ডান হাত বলেই পরিচিত ছিল। এবার একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। নন্দীগ্রামের হাইভোল্টেজ লড়াই নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। মনে আছে ২১ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারীর লড়াইয়ের কথা। মাত্র কিছু ভোটের ব্যবধানে হারতে হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। তাই কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে তৃণমূল শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রার্থী করেছে পবিত্র করকে।
ঝাড়গ্রাম (০৪)
২০২১ সালের ফল
তৃণমূল ০৪
বিজেপি ০০
ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খেয়ে লড়াই জমিয়ে দিয়ে গেছেন স্বয়ং নরেন্দ্র মোদী। এই আবহেই ঝাড়গ্রামে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন ভোটারর। নতুন জেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশের পর এই প্রথম বিধানসভা ভোট। ঝাড়গ্রামে মোট ভোটার ৯ লক্ষ ১১ হাজার ৬৫৪জন। মোট বুথের সংখ্যা ১৩০৭। এরমধ্যে সংবেদনশীল বুথ রয়েছে ৪৩টি।
অতএব ভোটের লাইনে যখন ভোটাররা দাঁড়িয়ে পড়েছেন , চলছে ভোটগ্রহণ পর্ব। সেই আবহেই মোটামুটি প্রতিটা কেন্দ্রের আভাস আপনাদের দিতে পেরেছি। এখন পুরোটাই ভোটারদের হাতে। ভোটবাক্সে কোন দলকে কতটা হাতউপুড় করে তাঁরা ভোট দেন তার উপর সবটা নির্ভর করছে।