মিড-ডে মিলে মাছ!

ডিমের পাশাপাশি মিড-ডে মিলে দেওয়া হবে মাছ। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সমগ্র শিক্ষা মিশন। এই নিয়ে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।যেখানে বলা হয়েছে, সবজির পাশাপাশি স্কুল প্রাঙ্গণ বা সংলগ্ন জমির পুকুরে মাছ চাষ করতে হবে এবং সেই মাছ মিড-ডে মিলে দিতে হবে।

নাজিয়া রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি:- স্কুলে স্কুলে শুধু মিড-ডে মিল দেওয়া নয়। সেই মিড-ডে মিলের মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা যাতে পুষ্টিও পাই সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। এবার সবজির পাশাপাশি মিড-ডে মিলের পাতে পড়বে মাছ! সমগ্র শিক্ষা মিশনের পক্ষ থেকে মিড-ডে মিল নিয়ে নয়া একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে সবজির পাশাপাশি স্কুল প্রাঙ্গণ বা সংলগ্ন জমির পুকুরে মাছ চাষ করতে হবে এবং সেই মাছ মিড-ডে মিলে দিতে হবে। সমগ্র শিক্ষা মিশনের নির্দেশ মেনে এর আগে মিড-ডে মিলে যাতে সবজি দেওয়া হয় তার জন্য স্কুল প্রাঙ্গনে সবজির চাষ করেছে বহু স্কুল। সেই সবজি মিড-ডে মিলে দেওয়া হয়। এবার স্কুল প্রাঙ্গণ বা সংলগ্ন জমির পুকুরে মাছ চাষ করতে হবে এবং সেই মাছ মিড-ডে মিলে দিতে হবে। অর্থাৎ স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যাহ্নভোজনে মাছ নতুন করে সংযোজন হতে চলেছে। মিড-ডে মিলের এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে যে যেসব স্কুল প্রাঙ্গণে পুকুর রয়েছে সেখানে মাছ চাষ শুরু করে দিতে হবে। যেখানে খোলা মাঠ রয়েছে, সেখানে খেলার মাঠ অবশিষ্ট রেখে বাড়তি জায়গায় পুকুর খনন করে মাছ চাষ করতে হবে। যাতে মিড-ডে মিলে মাছ দেওয়া যায় পড়ুয়াদের।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগে পরিদর্শকের দল মিড-ডে মিলের গুণমান যাচাই করতে গিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার কনকনগর সৃষ্টিধর ইনস্টিটিউটে দেখেন পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলের পাতে মাছ দেওয়া হয়েছে। তারপর খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়,কনকনগর সৃষ্টিধর ইনস্টিটিউটে স্কুলের নিজের জমিতেই পুকুর খনন করা হয়েছে এবং সেখানে মাছ চাষ করা হয়। পুকুরে চাষ করা মাছ পড়ুয়াদের মিড-ডে মিলে দেওয়া হয়। আর সেই থেকে এই বিষয়টি ভাবনায় আসে সমগ্র শিক্ষা মিশনের আধিকারিকদের। আর তারপর থেকেই আলোচনা শুরু হয় বিকাশ ভবনে। এই দেখে ঠিক হয়, যেসব স্কুলে পুকুর রয়েছে বা পুকুর খননের জায়গা রয়েছে সেখানে মাছ চাষ করা হবে। মিড-ডে মিলের সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিকের কথায়, আমাদের উদ্দেশ্য হল স্কুল পড়ুয়াদের সুষম পুষ্টিকর খাবার তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা। ডিম যেমন একটি পুষ্টিকর খাদ্য। মাছও তেমনি একটি পুষ্টিকর খাদ্য। তাছাড়া মিড-ডে মিলের পাতে পড়ুয়াদের মাছ পড়লে তাদের স্বাদও মাঝমধ্যে বদল হবে। তবে সব স্কুলে তো মাছ চাষ সম্ভব নয়, বিশেষ করে শহরের স্কুলে।যেখানে সম্ভব সেই স্কুলগুলিকে মাছ চাষ করতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে এখন প্রশ্ন এই মাছ চাষের খরচ কে জোগাবে। এনিয়ে প্রশ্ন ওঠায় সমগ্র শিক্ষা মিশন সূত্রের খবর, এই বিষয়টি নিয়ে মৎস্য দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করবেন আধিকারিকেরা। মৎস্য দফতর যেন বিনামূল্যে মাছ চাষের প্রশিক্ষণ দেয় শিক্ষার্থীদের এবং তারসঙ্গে যেন স্কুলের পুকুরে মাছ চাষের জন্য ছোট চারাপোনা মাছও দেয়। দ্রুত যাতে এই সহযোগিতা পাওয়া যায় তারজন্য শিক্ষা দফতর আলোচনায় বসবে মৎস্য দফতরের সঙ্গে বলে জানা গেছে।