সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে মাছ ধরতে গিয়ে, বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হল মৎস্যজীবীর।

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদদাতা : আবারও বাঘের আক্রমণে প্রাণ গেল এক মৎস্যজীবীর। মৃত মৎস্যজীবীর নাম তাপস হালদার। জঙ্গল থেকে মৎস্যজীবীর ক্ষতবিক্ষত দেহ বাঘের মুখ থেকে ছিনিয়ে আনল সঙ্গীরা। এমনই চঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনের বনি ক্যাম্প সংলগ্ন সিদুর কাটি এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলতলির মহিপীঠ কোস্টাল এলাকার নগেনাবাদের বাসিন্দা তাপস হালদার, গোপাল পাইক ,নেপাল পাইক। গত মঙ্গলবার সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন তাঁরা। শুক্রবার বিকেলে নৌকোয় বসে থাকার সময় অতর্কিতে জঙ্গল থেকে একটি বাঘ তাপস হালদারের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। টানতে টানতে তাঁকে জঙ্গলে নিয়ে যায় বাঘটি। সাহায্যের জন্য চিৎকার শুরু করতে শুরু করেন তিনি। তাপস হালদারের চিৎকার শুনে সঙ্গীরা ছুটে যান এবং বাঘের মুখ থেকে তাপস হালদারকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেই চেষ্টা বিফলে যায় এরপর নেপাল ও গোপাল পাইক গ্রামে ফিরে যান। সম্পূর্ণ বিষয়ে পরিবারের লোককে জানান তাঁরা। বনদফতরের আধিকারিকদেরও বিষয়টি জানানো হয়। বনবিভাগের কর্মীরা জঙ্গল থেকে তাপস হালদারের দেহটি উদ্ধার করে গ্রামে নিয়ে যান। ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় দেহটি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা পরিবারে। এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী নেপাল পাইক জানান, “গত মঙ্গলবার সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে মাছ ধরার জন্য বৈধ পাস নিয়ে আমার দাদা গোপাল পাইকের নৌকা নিয়ে সুন্দরবনের জঙ্গলে যাই কাঁকড়া ধরার উদ্দেশ্যে। শুক্রবার বিকেলে নৌকায় বসে থাকা তাপস হালদারের ওপর আক্রমণ করে বাঘটি। আমরা অনেক চেষ্টা করি। কিন্তু বাঘ টানতে টানতে তাপসকে জঙ্গলে নিয়ে যায়। এরপর আমরা গ্রামে ফিরে এসে সম্পূর্ণ বিষয়টি বনদফতরের কর্মীদেরকে জানই। পাশাপাশি মৈপীঠ কোস্টাল থানার পুলিশকেও জানানো হয়েছে। এরপর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।“

এ বিষয়ে তাপস হালদারের স্ত্রী পার্বতী হালদার বলেন, “আমার স্বামী জঙ্গলে গিয়েছিলেন মাছ ধরতে নৌকাতে করে। তখনই তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হামলা করে একটি বাঘ। তাকে বাঘে টেনে নিয়ে চলে যায় জঙ্গলে। কী করবো বুঝে উঠতে পারছি না। এক মুহূর্তে আমার সবকিছু শেষ হয়ে গিয়েছে।“

গত বেশ কয়েকদিন আগে সুন্দরবনের মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হয়েছিল আর এক মৎস্যজীবীর। আবারও এই ঘটনায় সার্বিক অর্থে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়।