ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা ফুটবলপ্রেমীদের

সোশ্যাল মিডিয়া, চায়ের দোকান, ক্লাসরুম বা অফিসের ফাঁকে ফাঁকে এখন একটাই শব্দ ঘুরছে ফিফা বিশ্বকাপে কোন দলের কেমন পারফরম্যান্স ?

রিয়া দাস, সাংবাদিক : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। কেউ ইতিমধ্যেই নিজের পছন্দের জার্সি কিনে ফেলেছেন। কেউ আবার বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় বসে শুধু একটাই আলোচনা করছে এইবার বিশ্বকাপে কোন দল সবচেয়ে বেশি এগিয়ে থাকবে। সোশ্যাল মিডিয়া, চায়ের দোকান, ক্লাসরুম বা অফিসের ফাঁকে ফাঁকে এখন একটাই শব্দ ঘুরছে ফিফা বিশ্বকাপে কোন দলের কেমন পারফরম্যান্স। এমন উত্তেজনাই প্রমাণ করে দেয় ফুটবল শুধু খেলা নয় এটা মানুষের আবেগ। ফুটবলপ্রেমীদের ফিফা বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা আরও কয়েকগুন বেড়ে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো একসঙ্গে আয়োজন করতে চলেছে এই মহাযজ্ঞের। ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণে এই বিশ্বকাপ শুধু আরেকটা টুর্নামেন্ট নয় বরং এক নতুন যুগের সূচনা।

গতবারের তুলনায় এবার ইউরোপের তিনটি দেশ বেড়েছে। কিন্তু এবার আফ্রিকা থেকে ১০টি দেশ বিশ্বকাপ খেলবে। এশিয়া থেকে ৯টি, দক্ষিণ আমেরিকা ও কনকাকাফ জোন থেকে ৬টি করে দেশ খেলবে। অর্থাৎ ইউরোপ বাদে বাকি মহাদেশ থেকে দলের সংখ্যা অনেক বেড়েছে বিশ্বকাপে। ফিফার গ্লোবাল ফুটবল ডেভেলপমেন্টের প্রধান আর্সেন ওয়েঙ্গার বলেন, এটা স্বাভাবিক বিবর্তন। আমরা গোটা বিশ্বে ফুটবল ছড়িয়ে দিতে চেয়েছি। আমার মতে ৪৮টি দেশই হওয়া উচিত। ফিফার ২১১ সদস্যের প্রায় ২৫ শতাংশ বিশ্বকাপে খেলছে। ফিফা বিশ্বকাপের জন্য গোটা ফুটবল বিশ্ব আপাতত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তবে খুবই শীঘ্রই এই অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে এই প্রতিযোগিতা। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। পাশাপাশি এবারের ফিফা বিশ্বকাপ আরও একটি ইতিহাস কায়েম করতে চলেছে। এই প্রথমবার মোট ৪৮ দল এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করছে। গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে মোট ১০৪ ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃহস্পতিবার রাতে ভারতীয় সময় রাত ১২.৩০টায় খেলা শুরু হবে। দেখা যাবে জি-র UNITE8 স্পোটর্স ওয়ান ও UNITE8 স্পোটর্স ২-তে। দুই দলই আলাদা ধাঁচের ফুটবল খেলে। মেক্সিকো দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব ফুটবলে অভিজ্ঞ ও ধারাবাহিক পারফর্ম করা দল হিসেবে পরিচিত। অবশ্য এই ম্যাচের মাহাত্ম্য শুধু খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। মেক্সিকোর অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম এমন একটি স্টেডিয়াম যেখানে বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার নতুন রূপ পেয়েছে। ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের পর তৃতীয়বারের মতো এখানে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই মাঠেই ব্রাজিল ১৯৭০ সালে ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আর ১৯৮৬ সালে মারাদোনার নেতৃত্বে আর্জেন্তিনা জিতেছিল বিশ্বকাপ। আয়োজক দেশ মেক্সিকো এই ম্যাচে নামছে বিশ্বের ১৪ নং দল হিসেবে। যাদের এল ত্রি বলা হয়। ঘরে মাঠে খেলাটা তাদের জন্য যেমন বড় সুবিধা তেমনি সঙ্গে রয়েছে চাপও। কোচ জাভিয়ের আগুইরে অভিজ্ঞ ও তরুণদের নিয়ে ২৬ জনের দল গঠন করেছেন। নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ রাউল জিমেনেজ। সঙ্গে থাকবেন স্ট্রাইকার সান্তিয়াগো জিমেনেজ। মিডফিল্ডে ওয়েস্ট হ্যামের এদসন আলভারেজ। ১৭ বছরের গিলবার্তো মোররার দিকে বিশেষ নজর থাকবে। গোলপোস্টে অভিজ্ঞ গিলেরমো ওচোয়া থাকায় মেক্সিকো আরও আত্মবিশ্বাসী।

সাউথ আফ্রিকার জাতীয় ফুটবল দলকে বাফানা বাফানা নামে ডাকা হয়। সাউথ আফ্রিকা এই ম্যাচে নামছে বিশ্বের ৬০ নং দল হিসেবে। কোচ হুগো ব্রুস মূলত ঘরোয়া লিগের খেলোয়াড়দের নিয়েই দল সাজিয়েছেন। যেখানে মামেলোডি সানডাউন্স ও অরল্যান্ডো পাইরেটস ক্লাব থেকে বেশ কয়েকজন ফুটবলার আছেন। গোলকিপার রনওয়েন উইলিয়ামস, লাইল ফস্টার ও মিডফিল্ডে তেবোহো মোকোয়েনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবেন। তবে প্রস্তুতির দিক থেকে কিছুটা চ্যালেঞ্জও আছে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে। পরিসংখ্যানের দিক থেকে এই ম্যাচে মেক্সিকোই এগিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকা মূলত রক্ষণ শক্তিশালী করে কাউন্টার অ্যাটাকের ওপর ভর করে সুযোগ খোঁজার পরিকল্পনা করবে। কে জিতবে উদ্বোধনী ম্যাচে সেটা তো নির্ভর করবে তাদের পারফরম্যান্সের উপরই।