জোড়াফুল ‘হিমঘরে’, খেলা হবে-তেই ভরসা মমতার

তৃণমূলের নতুন নাম-প্রতীক চূড়ান্ত, মমতার ‘ফুটবল প্লেয়ার’, ঋতব্রতর ‘খাম’! কমিশনের সিদ্ধান্তে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।

আরপ্লাস নিউজ ডিজিটাল ডেস্ক : তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ‘ফ্রিজ়’ করে দেওয়ার পর থেকেই চলছিল জল্পনা। কোন শিবিরের ভাগ্যে জুটবে কোন নাম, আর কোন প্রতীকেই বা লড়বেন প্রার্থীরা? শুক্রবার দুপুরে সেই জল্পনার অবসান ঘটাল নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের জন্য নির্ধারিত হল ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘ফুটবল প্লেয়ার’ প্রতীক। অন্য দিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের নাম ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’। তাঁদের প্রার্থীরা লড়বেন ‘খাম’ প্রতীকে।

রাজ্যে পালাবদলের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ। ঋতব্রতর নেতৃত্বে তাঁরা নিজেদের ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করেন। এর পর থেকেই ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীক এবং দলের নামের মালিকানা নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। বিশেষ করে আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে ঘিরে সেই দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে দুই পক্ষকে আলোচনায় ডাকে নির্বাচন কমিশন। দু’দফা বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার ‘ঘাসের উপরে জোড়াফুল’ প্রতীক ফ্রিজ় করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ব্যবহারের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিকল্প নাম ও প্রতীক চেয়ে দুই শিবিরের কাছ থেকে তিনটি করে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছিল। সেই তালিকা খতিয়ে দেখেই শুক্রবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায় কমিশন।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, রেজিনগর ও নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মমতা শিবিরকে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে এবং ‘ফুটবল প্লেয়ার’ প্রতীকে লড়তে হবে। ঋতব্রত শিবিরের প্রার্থীরা ‘ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম নিয়ে ‘খাম’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

কমিশনের ঘোষণার পরেই নাম না করে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন ঋতব্রত। তাঁর বক্তব্য, ‘‘গণতন্ত্রে রাজার ছেলে রাজা হয় না। উত্তরাধিকার বলে কিছু থাকে না। এটা কোনও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি নয়।’’

তবে কমিশনের সিদ্ধান্তকে সাময়িক বলে দাবি করেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘‘নির্বাচনের বাইরে আমরা আগের মতোই ঘাসের উপরে জোড়াফুল ব্যবহার করতে পারব।’’ ঋতব্রত শিবিরের উদ্দেশ্য সফল হয়নি বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

এদিকে আবার উপনির্বাচনের আগে অন্য সমীকরণ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের নন্দীগ্রামের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের আগেই শুক্রবার দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। সেই সাক্ষাতের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহারই করে নিলেন!