পুত্রশোক ভুলে গেলেন দিলীপ ঘোষের স্ত্রী ছেলেকে হারানোর যন্ত্রণা ভুলে বরের হাত ধরে গেলেন হানিমুনে! দিলীপের হাত ধরে সময় কাটালেন নির্জনে। জলের তলাতেই বা কী কাণ্ড ঘটল! জানলে চমকে যাবেন। কী ঘটল দিলীপ-রিঙ্কুর হানিমুনে?

সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংবাদিক : চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল চার হাত এক হয় দিলীপ-রিংকুর। ঘরোয়া ভাবেই দিলীপের নিউটাউনের ফ্ল্যাটে সেই বিয়ের আসর বসেছিল। মায়ের আবদারেই বিয়ে করেন দিলীপ। সুন্দরবনের একটি এনজিও-র সঙ্গে যুক্ত রিঙ্কু। একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থায় কাজও করেন তিনি। অন্যদিকে দল মর্নিং ওয়াক সংঘ একেবারে নিয়ম মানা জীবন ছিল দিলীপের। বিজেপি মহিলা মোরচার সঙ্গে যুক্ত রিংকু, দলের কাজেই আলাপ হয় বউয়ের সঙ্গে, কথা হত ইকো পার্কে মর্নিং ওয়াকে গিয়েও। দিলীপের মাকে দেখাশোনার জন্য বয়স্ক মানুষটাকে একটু সং দেওয়ার জন্য মাঝেমধ্যেই দিলীপের বাড়ি আসতেন তিনি। রিঙ্কুকেই নাকি ভারী পছন্দ হয়ে যায় পুষ্পলতা দেবীর। আর মায়ের কথাও ফেলতে পারেননি তাঁর নাড়ু তথা দিলীপ। অন্যদিকে বিবাহবিচ্ছিন্না রিংকু থাকতেন ছেলেকে নিয়ে। নিজেই জানিয়েছিলেন প্রথম বিয়ের মাত্র ৬ মাসের মধ্যে বুঝতে পারেন ঠিক কত বড় ভুল করে ফেলেছেন, একেবারেই সুখের হয়নি সেই বিয়ে, জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়ে দেওয়ার পর কোন একদিন তারও মনে হয় জীবনটাকে আরও একটা সুযোগ দেওয়া যেতেই পারে, এই ভাবনা চিন্তার মধ্যেই আলাপ হয় দিলীপের সঙ্গে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি তিনি সেটলমেন্টের কথা যখন ভাবেন তখন দিলীপকে নিজেই প্রস্তাব দেন, তিনি শুধু চেয়েছিলেন যদি সেকেন্ড ইনিংস শুরু করেন তাহলে তা যেন নিউ টাউনের মধ্যে হয়, তার রাজনৈতিক কেরিয়ারকে সে মেনে নেবে।

এরকম নানা কিছু ভাবতে ভাবতে ওঁর কথা মাথায় আসে। উনি আমার নির্বাচনী এলাকার মধ্যেই মোস্ট এলিজেবল ব্যাচেলর। রাজনৈতিক মানুষরা যেমন হন, উনি তেমন না। উনি খুবই ভাল মানুষ। খুবই সৎ, বলিষ্ঠ। এগুলো খুবই ভাল লাগত, তখন ভাবলাম ওঁকে প্রস্তাব দিতে পারি। এই প্রস্তাব ফেলতে পারেননি দাবাং নেতাও, কার্যত পাকা কথা নাকি হয় ৩ এপ্রিল ইডেনে আইপিএলে কেকেআরের ম্যাচ দেখতে দেখতে। ওই দিন ক্লাব হাউসের ১১ নম্বর বক্সে বসে খেলা দেখেন দিলীপ, তাঁর হবু স্ত্রী এবং হবু শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। চিরকুমার দিলীপ যে তাঁর কৌমার্য ভঙ্গ করতে চলেছেন, সেই মর্মে বিজেপির অন্দরে কানাঘুষোও চলছিল। কিন্তু কেউই নিশ্চিত ছিলেন না। দেখা হলে কেউ কেউ অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করেছেন। কিন্তু দিলীপ নিজে কাউকে বিষয়টি জানাতে না-চাওয়ায় বিবাহের বিষয়টি গোপনই রাখা হয়েছিল। বিয়ের ঠিক আগেই এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই চারদিকে বেশ শোরগোল পড়ে যায়। বৈদিক মতে দিলীপ-রিঙ্কুর বিয়ে দেন দুই পুরোহিত বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায় ও মনোজ চট্টোপাধ্যায়। রীতিমতো পানপাতায় মুখ ঢেকে এসেছিলেন কনে। বিয়ের মণ্ডপে দিলীপ-রিঙ্কুর মালাবদল করে চারহাত হল এক। কিন্তু বিয়ের ঠিক এক মাসের মধ্যেই ঘটে যায় এক বড় অঘটন, আচমকাই নিজের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় রিংকুর ছেলের নিথর দেহ। রিংকুর ছেলে সৃঞ্জয় কাজ করতেন সল্টলেকের তথ্য-প্রযুক্তি তালুকে। কর্মরত ছিলেন আইটি ফার্মে। কয়েকদিন আগেই মা বিয়ে করেছেন বঙ্গ বিজেপির তাবড় নেতা দিলীপ ঘোষকে।

কিন্তু, সেই বিয়েতে দেখা যায়নি সৃঞ্জয়কে। তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন তাহলে কি মায়ের বিয়ে মেনে নিতে পারেননি ছেলে? যদিও রিংকু জানিয়েছিলেন বিষয়টা একেবারেই তা নয়, তার ছেলে খূশী মনে এই বিয়েতে মত দিয়েছে। কিন্তু এই রহস্য মৃত্যুর পর সেই জল্পনা আরও ঘনীভূত হয় যে কোথাও গিয়ে কি অবসাদ্গ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন রিংকুর ছেলে? বিভিন্ন রকমের নেশায় আসক্ত ছিলেন তিনি, রিঙ্কু দিলীপ ঘোষকে বিয়ে করে চলে আসার পরে কি অযত্ন হয়েছিল ছেলে প্রীতমের? সেই কারণেই কি উৎশৃঙ্খল হয়ে উঠেছিলেন তিনি? দিলীপ ঘোষ জানিয়েছিলেন, ‘না না.. বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ছিল তো। একা তো ছিল না। কয়েকদিন আগে ওর মা ও গিয়ে থেকে এসেছে। এইভাবেই তো চলছিল। তবে যে সমস্যাটার কথা বলা হচ্ছে, ড্রাগ বা ইত্যাদি.. সমস্যা আগের থেকেই ছিল। ওর কাউন্সেলিং চলছিল, চিকিৎসক ছিল। চেষ্টা চলছিল ঠিক করার ওকে। রিংকু নাকি দিলীপকে বলেওছিলেন ছেলেকে তাদের কাছে এনে রাখার কথা, সেই দিন হাসপাতালে পৌঁছে যান রিংকুর প্রথম পক্ষের স্বামীও, স্বাভাবিক তো সেটাই। সেদিন ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন দিলীপ ঘোষও। শ্মশানে শেষবার স্রিঞ্জয়কে দেখতেও যান তিনি, ধরা গলায় তিনি বলেন তার পুত্রসুখ হয়নি তবে পুত্রশোক হল। রিংকুর মাথাতেও যেন আকাশ ভেঙে পড়ে, এর পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলচ্ছিলেন তিনি, দিঘায় জগন্নাথ মন্দির উদবোধনের দিন মমতার ডাকে সাড়া দিয়ে সস্ত্রীক সেখানে হাজির হন দিলীপ, তবে ছেলেকে হারানোর যন্ত্রণা কখনও কি মা ভুলে যেতে পারে? কিন্তু এবার কি সেটাই হল? কারণ ছেলের চলে যাওয়ার এক বছরও হল না আর মা নাকি গেলেন হানিমুনে! বিয়ের সাত মাস পরে হানিমুনে আন্দামান ঘুরে এলেন ঘোষ দম্পতি। বিয়ের সময়েই রিঙ্কু জানিয়েছিলেন তার সুইৎজারল্যান্ড, প্যারিস যাওয়ার ইচ্ছে ছিল যদিও দিলীপ বলেছিলেন, বিদেশের টান বা রুচি তার নেই। এবার সেই হানিমুন অবশেষে হল।

২৪ নভেম্বর ছিল রিঙ্কু মজুমদারের জন্মদিন। আর ২৩ থেকে ২৮ নভেম্বর নীল সাগরের দ্বীপ আন্দমান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে ‘কোয়ালিটি টাইম’ কাটালেন দিলীপ-রিঙ্কু জুটি।আর পাঁচ জন স্বামী-স্ত্রীর মতোই সাগরতীরে ঘনিষ্ঠ হয়ে ছবি তোলেন। বহু স্মৃতি জড়িত সেলুলার জেল ঘুরে দেখলেন হাত ধরে তেমনই বিভিন্ন দ্বীপের সিবিচে সময় কাটান যুগলে। রিঙ্কু ঘোষ জানিয়েছেন, তাঁরা যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই বহু মানুষ তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। ছবি তুলেছেন তাঁদের সঙ্গে। রিঙ্কুর কথায়, হোটেল থেকে ক্রুজ, সর্বত্র ছবি তোলার হিড়িক! বিচে হাঁটার সময়ও লোকে এগিয়ে এসে কথাা বলছেন, ছবি তুলছেন! এমনকি হ্যাভলকে জলে নামার পর, জলের মধ্যেও এগিয়ে এসে কথা বলে এক বাবা-ছেলে জুটি! এই সব দেখে কেউ বলছেন আদিখ্যেতা কেউ বলছেন বুড়ো বয়সে ভীমরতি তো কেউ আবার বলছেন কেমন মা, ছেলে চলে গেছে আর উনি গেলেন হানিমুনে! তবু রিঙ্কু জানিয়েছেন, তাঁর ছেলেরও তাঁদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল! কিন্তু সেটা আর হল না, নিয়তি অন্য কথা লিখে রেখেছিল… তবে এই ট্যুরের প্রতিটা মুহূর্ত তাঁদের কাছে খুব স্পেশাল ছিল বলে জানিয়েছেন দিলীপ ঘরণী। তাঁরা পরস্পর পরস্পরের পরিপূরক। আজীবন তাঁদের এই বন্ডিংটাই থাকুক, সেটাই চান তিনি।