শুনানিতে ডাক পেলেন ৬৭ বছর বয়সি এক প্রাক্তন সাংসদ ও চিকিৎসক তরুণ মণ্ডল

বিশ্বজিৎ নস্কর, নিজস্ব সংবাদিক : কলেজ ঘাট রোডের PWD অফিসে SIR শুনানি ঘিরে বিতর্ক থামছেই না। এবার এই শুনানিতে ডাক পেলেন ৬৭ বছর বয়সি এক প্রাক্তন সাংসদ ও চিকিৎসক তরুণ মণ্ডল। তিনি হাওড়া পুরসভার শিবপুর এলাকার শিবপুর থানার অন্তর্গত হাওড়া মিউনিসিপ্যালিটির বাসিন্দা। একদিকে তাঁর পরিচয় প্রাক্তন SUCI সাংসদ, অন্যদিকে তিনি পেশায় ডাক্তার।
তরুণ মণ্ডল জানান, দলীয় কাজে তিনি মুর্শিদাবাদে ছিলেন। সেখানেই BLO অফিস থেকে হিয়ারিংয়ের ডাক পান। বাধ্য হয়ে সফরসূচি সংক্ষিপ্ত করে তিনি মঙ্গলবার হাওড়া ফিরে কলেজ ঘাট রোডের PWD অফিসে হাজিরা দিতে আসেন। তাঁর দাবি, তাঁকে দুপুর ১২টায় ডাকা হলেও BLO আধিকারিক প্রায় সাড়ে বারোটায় উপস্থিত হন।
শুনানিতে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ২০০২ সালের তালিকায় তাঁর নাম নেই কেন। পাশাপাশি মা–ছেলের সম্পর্ক প্রমাণের নথিও চাওয়া হয়। তিনি দুটি প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দিয়েছেন। আরও কিছু লাগবে কিনা জানতে চাইলে BLO আধিকারিক জানান, আর কিছু প্রয়োজন নেই এবং ভবিষ্যতে যাতে তাঁকে আর না ডাকা হয়, সেই কারণেই এই নথি নেওয়া হল।
তরুণ মণ্ডল জয়নগর লোকসভা কেন্দ্র থেকে SUCI প্রার্থী হিসেবে ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সাংসদ ছিলেন। তিনি আগে India Security Press Hospital–এ CMO হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং India Security Press Hospital থেকেই VRS নিয়ে পুরোপুরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যোগ দেন।
তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, গোটা প্রক্রিয়াটি আসলে হেনস্তার শামিল। প্রাক্তন সাংসদ বলেন, “একজন ফর্মার MP হিসেবে আমার সমস্ত তথ্য তো ডিজিটাল রেকর্ডেই রয়েছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে একটা বোতাম চাপলেই আমার পরিচয় ও বিস্তারিত ভেসে ওঠার কথা। তা না করে সফরসূচি ছেঁটে আমাকে ছুটে আসতে হল—এটাই কি ডিজিটাল ইন্ডিয়া?”
প্রাক্তন জনপ্রতিনিধিকে এভাবে শুনানিতে ডেকে নথি চাওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক তৎপরতা ও নাগরিক হয়রানি নিয়ে।