বিভিন্ন পুরপদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রায় ১৫০ জন প্রার্থীকে বেআইনিভাবে সুপারিশ করার অভিযোগ উঠেছে সুজিত বসুর বিরুদ্ধে।

মাম্পি রায়, সাংবাদিক : রাজ্যের পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে (Sujit Bose)। সোমবার গভীর রাতে তাঁকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিশেষ পিএমএলএ আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডি সূত্রের দাবি, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় নিয়োগে ব্যাপক অনিয়মের তদন্তে নেমে তারা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছে। অভিযোগ, বিভিন্ন পুরপদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রায় ১৫০ জন প্রার্থীকে বেআইনিভাবে সুপারিশ করেছিলেন সুজিত বসু। এর বিনিময়ে বিপুল আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও দাবি তদন্তকারীদের। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়মনীতি মানা হয়নি বলেই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে বলে বক্তব্য ইডির।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই নিয়োগ দুর্নীতির সূত্র ধরেই একাধিক অবৈধ সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। সুজিতের ঘনিষ্ঠদের নামে এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত একাধিক ফ্ল্যাটের হদিস পাওয়া গিয়েছে, যেগুলি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ‘উপহার’ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল বলে সন্দেহ। ইতিমধ্যেই সেই সম্পত্তিগুলির নথি খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে ইডি। পাশাপাশি বেশ কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ নগদ জমার তথ্যও মিলেছে। তদন্তকারীদের অনুমান, চাকরির বিনিময়ে নেওয়া টাকারই অংশ ওই লেনদেন।
ইডি জানিয়েছে, আর্থিক নথি, ব্যাঙ্ক ট্রানজ্যাকশন এবং সম্পত্তি কেনাবেচার তথ্য খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে গোটা অর্থপাচার চক্রের বিস্তার বোঝার চেষ্টা চলছে। তদন্তে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম উঠে আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
এ দিকে সুজিতের গ্রেফতারি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ (Sajal Ghosh) কটাক্ষ করে বলেন, “ওঁর জেলে যাওয়া অবশ্যম্ভাবী ছিল। ইডি যথেষ্ট সুযোগ দিয়েছিল। অনেক আগেই জেলে যাওয়া উচিত ছিল।” যদিও তৃণমূলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে একের পর এক তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি। সেই আবহেই পুর নিয়োগ মামলায় সুজিত বসুর গ্রেফতারিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।