সোনারপুর দক্ষিণে টক্কর চার কন্যের !

সবাই ভোট প্রার্থনা করছেন ঘরের মেয়ে হিসাবে। কার ভাগ্য উজ্জ্বল করবে সোনারপুর দক্ষিণের জনতা ?

স্বাগতা চন্দ্র সাহা, সাংবাদিক : চার নারী চরিত্র। মিষ্টি কথন থেকে সৌন্দর্যে কেউ কারোর থেকে কম নয়। মিষ্টি হেসে জনতার দরবারে পৌঁছে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। চারজনই একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। সোনারপুর দক্ষিণে এবার চার কন্যের লড়াই। তৃণমূল প্রার্থী লাভলী মৈত্র, বিজেপি প্রার্থী রূপা গাঙ্গুলি ,নির্দল প্রার্থী রাজন্যা হালদার ও বাম প্রার্থী পারমিতা দাশগুপ্ত। যিনি এক সময় তৃণমূলের যুবনেত্রী হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। সবাই ভোট প্রার্থনা করছেন ঘরের মেয়ে হিসাবে। ঘরের মেয়ের উপর বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানিয়ে চড়া রোদে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে দরজায় দরজায় পৌঁছে যাচ্ছেন তিন দলের তিন কন্যে। কিন্তু সোনারপুর দক্ষিণের মানুষ কি বলছেন? দরজায় নেত্রীরা কড়া নাড়ছে আদৌ জনগনের মনের দরজা খুলছে কি?

সোনারপুর দক্ষিণে কোন কন্যের পাল্লা ভারী, কে কতটা লড়াইয়ে এগিয়ে –

সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্র দঃ ২৪ পরগনা জেলার মধ্যে পড়লেও যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই আসনটি। সীমানা নির্ধারণের পর কমিশনের নির্দেশনাসারে  ২০১১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে সোনারপুর দক্ষিণ ও সোনারপুর উত্তর কেন্দ্র চালু করা হয়। সোনারপুর দক্ষিণ রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৮ থেকে ২৪ নম্বর মোট ১৭ টি ওয়ার্ড ও সোনারপুর ব্লকের অন্তর্গত ছয়টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত।  এই কেন্দ্র গ্রামীণ ও শহুরে দুই সংস্কৃতির মেলবন্ধনে তৈরি। কৃষিকাজ থেকে ক্ষুদ্র শিল্প, বাণিজ্য অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। রেললাইনের মাধ্যমে সোনারপুরের সঙ্গে যুক্ত শিয়ালদহ। আর সড়কযোগে কলকাতা কিংবা বারুইপুর। সোনারপুর দক্ষিণ কেন্দ্রটি গঠিত হওয়ার পর সাতটি নির্বাচন হয়েছে, যার মধ্যে চারটি লোকসভা এবং তিনটি  বিধানসভা নির্বাচন। তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ভাবে জয়লাভ করেছে তৃণমূল।

২০১১ সালে এই কেন্দ্রে জেতেন তৃণমূল প্রার্থী জীবন মুখোপাধ্যায়

তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ৩৭,৭৭৪

২০১৬ সালে ফের জেতেন জীবন মুখোপাধ্যায়

তাঁর জয়ের ব্যবধান ছিল ১৫,২৯৮

২০২১ এ জেতেন অরুন্ধতী মৈত্র

তাঁর জের ব্যবধান ছিল ২৬,১৮১

এই কেন্দ্রে তৃণমূলের ফিলগুড হাওয়া থাকলেও শক্তি বাড়িয়েছে বিজেপি। অতএব এই কেন্দ্রে লড়াইটা শেয়ানে শেয়ানে। এ হেন কেন্দ্রে এবার তিন কন্যের লড়াই। তৃণমূল প্রার্থী অরূন্ধতী মৈত্র ওরফে লাভলি পাঁচ বছর ধরে ভোটারদের সঙ্গে পরিচিত। বিধায়ক থাকায় এলাকার উন্নয়ন থেকে ভোটারদের অভাব-অভিযোগের সঙ্গে জড়িয়ে তাঁর নাম। গোষ্ঠী কোন্দল কাঁটায় বিব্রত হলেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী লাভলী মৈত্র। বিরোধী দুই প্রার্থী নিয়ে তিনি বিশেষ ভাবতে নারাজ। হাসি মুখে স্বাগত জানালেন অন্যান্য প্রার্থীদের।

এবার আসা যাক বিজেপি প্রার্থী রূপা গাঙ্গুলীর প্রসঙ্গে। সোনারপুর দক্ষিণে তিনি বিজেপি প্রার্থী। তাঁর কথায় বাবা-মা সোনারপুর দক্ষিণের বাসিন্দা ছিলেন। সেই সূত্রেই এখানে যাতায়াত লেগেই থাকতো। তাঁর সোনারপুরের সঙ্গে সুরো সুতোর কানেকশন রয়েছে বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে। রূপা গাঙ্গুলী অভিনেত্রী হিসাবে পরিচিত মুখ। লাভলী মৈত্রর সিনিয়র। এই কেন্দ্রের মানুষও তাঁকে নিয়ে উৎসাহিত। কিন্তু ভোট বাক্সে তার কতটা প্রতিফল দেখা যাবে তা সময় বলবে। তবে রূপা গাঙ্গুলীর কথায় এবার এই কেন্দ্রে পঞ্চ পাণ্ডবই জিতবে আর তিনি দ্রৌপদী হিসাবে জয় ছিনিয়ে আনবেন।

গতবারও এই কেন্দ্রে লাভলী মৈত্রর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে বিজেপির পক্ষ টিকিট দেওয়া হয়েছিল অভিনেত্রী অঞ্জনা বসুকে। তিনিও যথেষ্ট ভোট পেয়েছিলেন এই কেন্দ্র থেকে। প্রায় ৮৩,৪১ টি ভোট পেয়েছিলেন তিনি। অন্যদিকে বিজেপি-তৃণমূলের এই লড়াইয়ে তৃতীয় পক্ষ হিসাবে ভোট ময়দানে অবতীর্ন তৃণমূলের প্রাক্তন যুব নেত্রী  রাজন্যা হালদার। সোনারপুরের বাসিন্দা হিসাবে নির্দল প্রার্থী হিসাবে লড়াইয়ের ময়দানে তিনি। নিজেকে ঘরের মেয়ে বলে পৌঁছে যাচ্ছেন ভোটারদের দরজায়।

সবাই বলছেন ঘরের মেয়ে। কিন্তু সোনারপুর দক্ষিণের ভোটাররা কি ভাবছেন। তাঁরা কাকে এগিয়ে রাখছেন ভোটযুদ্ধে। কারই বা পাল্লাভারী এই কেন্দ্রে।  সোনারপুর দক্ষিণে ক্ষোভ বিক্ষোভ উঠেছে রাস্তাঘাট নিয়ে। তবে কি এবার এই কেন্দ্রে উন্নয়ন বনাম অনুন্নয়নের লড়াই। তবে কি দুই ফুলের যুদ্ধে পাত্তা পাবে না নির্দল প্রার্থী রাজন্যা হালদার।

সোনারপুর দক্ষিণ শাসক দলের শক্ত ঘাঁটি হলেও বিজেপি তার প্রভাব বাড়িয়েছে। ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে কমেছে ভোটের ব্যবধান। অন্যদিকে লোকসভার নিরিখে কিছুটা ভোট বেড়েছে বামেদের। তাই ভোট কাটাকুটির খেলা তো থাকবেই।  যার কারণে এই কেন্দ্রে চতুর্থবারের জন্য জয় পাওয়া চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠতে পারে শাসক দলের পক্ষে। তবে রাজন্যা হালদার ঘরের মেয়ে হিসাবে কতটা ফ্যাক্টর হবে তা সময় বলবে। অন্যদিকে বাম প্রার্থী পারমিতা দাশগুপ্তও কতটা মানুষের মনে জায়গা করতে পারেন তার উত্তরও এখন সময়ের গর্ভে। তবে এই কেন্দ্রে চার প্রার্থীই মহিলা। এই কেন্দ্রের মহিলারা কাকে সমর্থন করেন সেটাই এখন দেখার।